somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাসআলা ( বিষয়: রোযার চাঁদ )

০৯ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরবি মাস শুরু হয় চাঁদের হিসেবে। চাঁদ পৃথিবীকে কখনো ২৯ দিনে কখনো ৩০ দিনে প্রদক্ষিণ করে। তাই আরবিতে ৩১ বা ২৮ তারিখ হয় না।

মাসের হিসাব নির্ধারণ করার জন্য প্রথম চাঁদ দেখা বা খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। কারণ ইসলামের অনেক বিষয় তারিখের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, রোযা, ঈদ, কুরবানী, হজ্জের সব আহকাম, আশুরা ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ সাঃ . বলেছেন, "তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোযা ভাঙো (ঈদ করো)"

চাঁদ দেখলে এই দুআ পড়া সুন্নাত, " আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি রাব্বী ওয়া রাব্বুনাল্লাহ " যদি কোনো দেশ বা অঞ্চলে শত শত বা ততোধিক ব্যক্তি চাঁদ দেখেন তাহলে তাঁদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আহকাম প্রবর্তিত হবে। যদি রোযার চাঁদ নূন্যতম একজন দেখেন যিনি দ্বীনদার তাঁর সাক্ষ্যমতে আহকাম শুরু হবে। ঈদের চাঁদ নূন্যতম দুইজন দেখতে হবে। এই অঞ্চল বা দেশ বর্ডার হিসেবে পৃথক হবে না। বরং এক রাষ্ট্রপতি এবং এক প্রধান বিচারকের আওতাধীন এলাকাকে এক অঞ্চল বা দেশ ধরা হবে।

সারা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে চাঁদ দেখা গেলে -তাঁদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সারা বিশ্বের মানুষ রোযা রাখবে না। কারণ, এতে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, "চাঁদ —মানুষের সময় হিসেবের জন্য।" কিন্তু সূর্যের মতো চাঁদের সময়রেখা নেই যে তা অতিক্রম করলে তারিখ গণনা শুরু হবে। আবার একটা অঞ্চলকে সময়রেখা নির্ধারণ করলেও সমস্যা শেষ হয়ে যায় না। বরং সমস্যা আরও বাড়ে— উদাহরণ: বাংলাদেশে যখন সন্ধ্যা আমেরিকায় তখন সকাল। মোটামুটি ১২ ঘন্টা পিছিয়ে। যদি আমাদের চাঁদ দেখার ওপর তারা রোযা শুরু করেন তাহলে রোযার অনেক আহকাম তাদের ছুটে যাবে। উল্লেখযোগ্য, সেদিনের তারাবী, সাহরী এবং রোযার নিয়্যাত যা ফরজ। কারণ, আরবি তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যা থেকে। ধরি, আমেরিকায় যখন ৩ তারিখ সকাল বাংলাদেশে তখন ৩ তারিখ সন্ধ্যা। বাংলাদেশে ৩ তারিখ সন্ধ্যা থেকে আরবি ১ তারিখ হবে এবং আমেরিকায় ২ তারিখ সন্ধ্যা থেকে আরবি ১ তারিখ হবে। কারণ, তারা ৩ তারিখ সকালে চাঁদের খবর পেয়েছেন এবং আরবিতে রাত আগে আসে। সেই হিসাবে বিগত রাত আরবি তাদের এক তারিখে গণ্য হবে। এমন বলা যাবে না যে, রমজানের রোযার নিয়্যাত সাধারণভাবে মনে একপ্রকার ধারণা থাকলেই হবে। কারণ, এখানে দোদুল্যমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যা নিয়্যাত হওয়ার উপযোগী নয়। আবার যদি আমেরিকার চাঁদ দেখার ওপর বাংলাদেশ নির্ভর করে তাহলেও অনেক সমস্যা আছে।

[যারা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ বা রোযা পালন করেন তাদের বলতে মনে চায়, আরবীরা যখন ফজর পড়েন তখন আমাদের এখানে রাত ২টা বাজে, আমাদের সময় ৯.৩০ মিনিটে যোহর, ১২.৩০ মিনিটে আসর, ৪টায় মাগরিব এবং ৬টায় ঈশারের নামাজ আদায় করেন। আপনারা কেনো এ বিষয়ে তাদের অনুসরণ করেন না? দুই নৌকায় পা দেয়া ঠিক না। ঈদ তাদের সময়ে নামাজ আমাদের সময়ে এটা ভণ্ডামী ছাড়া কিছুই না।]

অনেকে এই হাদীস দিয়ে প্রমাণ করতে চান যে, 'বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সবার জন্য তা মেনে নেয়া আবশ্যক' "একবার শাওয়ালের নতুন চাঁদ আমাদের উপর গোপন থাকে। আমরা (পরের দিন) সাওম পালন করি। এমতবস্থায়, ঐ দিনের শেষ ভাগে একটি কাফেলা নবী সা. -এর কাছে এসে বিগতকাল চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদান করেন। তখন রসুল সা. আমাদের রোযা ভাঙ্গার নির্দেশ দেন।" আবু দাউদ) এটা প্রমানিত হল যে, নিজ অঞ্চলে চাঁদ না দেখেও, দূরবর্তী অঞ্চলে (কাফেলা প্রায় ২৪ ঘণ্টার রাস্তা পার হয়ে এসেছিল) চাঁদ দেখার সাক্ষের ভিত্তিতে, এমন কি দিনের শেষ ভাগে গিয়েও সিয়াম ভেঙ্গে ফেলেন, এমন কি রসুল সা. তাদের কাছে জানতে চান নি -তারা কতটা দূর থেকে এসেছে। কোন দেশ/অঞ্চল থেকে এসেছে।"
‎#কারণ রাসুলুল্লাহর সা. -এর জানা ছিল, একটি কাফেলার একদিনের পথ ১৬ মাইল। এটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। তাই তিনি বুঝেছিলেন, কাফেলা মদিনার আশপাশের এলাকায় চাঁদ দেখেছে। তাছাড়া মদিনা এবং আশপাশের এলাকা এক রাষ্ট্রপতির অধীনে ছিল। [খেয়াল করার বিষয়: রোযা রেখে দিনের বেলা ভাঙা যায় কিন্তু রোযা না রেখে দিনের বেলা রোযা রাখা যায় না। এবং রোযার শুরুতে সন্দেহের দিনে রোযা রাখা মাকরূহও বটে।]
এর স্বপক্ষে বলা যায় মুয়ায ইবনে জাবাল রা. -এর ঘটনা। যিনি সাহাবাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মুফতি ছিলেন এবং তাঁর ইজতিহাদের ওপর রাসুলুল্লাহ সা. দু'আ করেছেন। তিনি ইয়ামানের শাষক ছিলেন। "কুফা নগর থেকে কেউ এসে বলল, আমরা চাঁদ দেখেছি এবং ইফতার করেছি।" হজরত মুয়ায রাঃ বলেন, তোমাদের চাঁদ দেখা আমাদের জন্য প্রযজ্য নয়।
ইমাম আবু হানিফা রা. যদিও প্রথমে সারা বিশ্বের যেকোনো জায়গার চাঁদ সবার জন্য প্রযোজ্য বলেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মাদ (রহঃ) . -এর মত "এক বিচারকের অধীন অঞ্চলে/দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা সেই অঞ্চলে/দেশের মানুষের জন্য প্রযোজ্য" গ্রহণ করেছেন।

আল্লাহ ভালো জানেন।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×