somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন!

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পদ্মা, অ্যামাজন আর কঙ্গোর পর পৃথিবীর সবথেকে বেশি খরস্রোতা নদী (সূত্রঃ Click This Link)। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর যখন এই নদীর উপর একটা সেতু করার উদ্যোগ নেয়া হলো, তখন কি উচিত ছিল না নিজ দেশের প্রযুক্তি দিয়ে, নিজেদের ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে এই সেতুর কাজ চালিয়ে নেয়া? যদি কেউ বলে যে, ইঞ্জিনিয়ার আছে, প্রযুক্তিও আছে কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা দরকার ছিল। আমি তখন বলব ৪২ কি বছর কি যথেষ্ট নয় অভিজ্ঞতা অর্জনে!

আচ্ছা গেল। এবার আসি রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে। বিশ্ব যখন 'নবায়নযোগ্য' শক্তি নিয়ে হাউকাউ করছে আর আমরা পরে আছি আদিম যুগে তখন 'ফিশান' নিয়েই নাহয় কথা বলা যাক। আচ্ছা, আবারও আসি ৪২ বছরে। ২০১২ সালে রূপপুর নিয়ে যখন রাশিয়ার সাথে চুক্তি হলো তখন কি উচিত ছিল না চুক্তিটা দেশীয় কোন কোম্পানীর সাথে করার? অনেকের হয়তো মুখ হা হয়ে গেছে এতক্ষণে! আসলে এটা অবাস্তব কিছুই না। এটাও উচিত ছিল। ৪২ বছর যথেষ্ট ছিল।
এবার আসি আলোচিত, সমালোচিত 'রামপাল' নিয়ে। ফ্রান্স যখন ঘোষণা দিল তারা ২০২৩ সালের মধ্যে তাদের সকল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র বন্ধ করে দেবে (সূত্রঃ goo.gl/oXrl5Z)। আমরা তখন কয়লা বিদ্যুতের উপকার নিয়ে পুথিপাঠে ব্যাস্ত। যাইহোক, দেশের মূল্যবান সম্পদ অবজ্ঞা করে সরকার যখন ভারতের কথায়, ভারতের কোম্পানীর সাথে কয়লা বিদ্যুৎ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করল তখন কি উচিত ছিল না স্বাক্ষরটা দেশীয় কোন কোম্পানীর হোক?

আচ্ছা, এবার পদ্মা সেতু, রূপপুর, রামপাল সব বাদ দিলাম। আমাদের পরিচয়, আমাদের ঐতিহ্য 'কৃষি' নিয়ে কিছু বলা যাক। একটু খোজ নিলেই দেখা যাবে যে আমরা যে কৃষি নিয়ে গর্ব করি সেখানেই আমাদের অবদান সামান্যর থেকেও সামান্য। কিছু উন্নতমানের ধান, পাট আর টমেটো ছাড়া আমাদের উল্লেখযোগ্য কিছুই নেই। কদিন আগে যদিও আবেদ চৌধুরীর ধান নিয়ে কিছু আবিষ্কার রয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির যুগে আজও কৃষি কাজে আমাদের কৃষকরা হাড়ভাঙ্গা শীতে আর ভরা বর্ষায় রাত-দিন শরীর দিয়ে খেটে মরছে, যেখানে অন্যান্য দেশ কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার করে ফলন, সময় ও পরিশ্রম সবকিছুই সাশ্রয় করছে। তাহলে আমাদের এত ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে কি লাভ? এত ইঞ্জিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফায়দাই বা কোথায়?

দেশে হাজারো বিজ্ঞান মেলা হচ্ছে, উদ্ভাবনী মেলা হচ্ছে, অলিম্পিয়াড হচ্ছে, ক্যাম্পেইন হচ্ছে, সৃজনশীল মেধাবীদের খোজা হচ্ছে কিন্তু লাভ কি হচ্ছে? নাকি এসব কার্যক্রমের মধ্যে সূক্ষ কোন ত্রুটি আছে? যে ত্রুটি আমাদের উদ্দেশ্যকে সফল হতে দিচ্ছে না! ত্রুটিটা তাহলে কি? খুজে বের করতে হবে।

আইটি খাতে উন্নত হচ্ছে, সোর্স কোড কপি করে সফটওয়্যার বানানো হচ্ছে (সবাই না), গেম ডেভলপ হচ্ছে, ফ্রীলান্সার বাড়ছে, উদ্যোক্তা সম্মেলন হচ্ছে কিন্তু যারা আমাদের খাবারের যোগান দিচ্ছে তারাই, কৃষকরাই না খেয়ে মরছে, শ্রমিকরা যারা আমাদের থাকার-পরার ব্যবস্থা করছে তারা আজও ভালো যায়গায় থাকতে-পরতে পারছে না। গার্মেন্টস খাতে উন্নতির কথা অনেকে বলবে। আমি বলব গার্মেন্টসে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো কিন্তু আমাদের নিজেদের না।

আমরা নিজেদের অনেক বড় কিছু ভেবে বসে আছি, অনেক কিছু করে ফেলছি বলে মনে করছি। কিন্তু বিশ্বের দিকে একটু ভালো করে তাকালেই বোঝা যাবে আমাদের অবস্থান আজ কোথায়!

যাই হোক, অনেক আফসোস হলো। এবার আফসোস না করে কিছু আশা করা যাক। একটা সুন্দর ও বাস্তবসম্মত প্ল্যান করে আগামী দিনগুলোতে সবার একত্র হয়ে কাজ করা যাক। দেশের অনেক সমস্যা আছে, সেগুলো আগে সমাধান করা যাক। তারপর বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে উন্নতির দিকে আগাতে হবে। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ দূর করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রকৃত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। তথাকথিত শিক্ষার বিকল্প ও কার্যকরী শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজের দোষ, ত্রুটি বিবেচনা করে প্রত্যেককে সংশোধন হতে হবে। ভ্যাট প্রদানে উৎসাহী হতে হবে। অবাধ বানিজ্য তৈরি করতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য দিতে হবে। বিজ্ঞান গবেষনার জন্য উন্নতমানের গবেষণাগার স্থাপন করতে হবে। গবেষণার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মেধা পাচার বন্ধ করতে হবে। উন্নত সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। পরিবার থেকে নৈতিকতা শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে। যে যা করতে চায় তাকে সেটা করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। প্রশ্নফাস বন্ধ করতে হবে। রাজনীতির দূষিত প্রভাব বন্ধ করতে হবে। আশা করি এসকল কাজ করলে আমরা অনেক অনেক এগিয়ে যেতে পারব। যদিও সবকিছু একসাথে করা সম্ভব না। ধাপে ধাপে করতে হবে। স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর এই কাজগুলো করার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু কাজগুলো এখন সম্পন্ন করতেই হবে। আগামী ২০ বছরের মধ্যে আমাদের যেন নিজস্ব আন্তর্জাতিক গবেষনাগার থাকে, অটোমোবাইলস কোম্পানী থাকে, স্পেসশীপ কোম্পানী থাকে, মঙ্গলে রোভার থাকে। ইন্টার প্লানেটারি যাত্রার অগ্রদূত হিসেবে সারাবিশ্বে নাহয় আমরাই পরিচিত হলাম। অন্তত এ স্বপ্নটা তো দেখতেই পারি নাকি? আশা করি স্বপ্নটা সত্য হবে।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৪৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×