somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭২ ফেরকা দোযখী হওয়ার প্রমাণ

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৪ ভোর ৫:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

০ সা তাফতারেকো উম্মাতি আলা ছালাছে ওয়া সাবয়িনা মিল্লাতান, কুলুহুম ফিন্নার ইল্লা মিল্লাতান ওয়াহেদাতান :
অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বলেন, আমার উম্মত (৭৩) তেহাত্তর ফেরকায় বিভক্ত হয়ে পড়বে । সকল ফেরকাই দোযখে যাবে, তবে তন্মধ্য হতে একটি সংঘবদ্ধ ফেরকা বা দল শুধু বেহেশতে যাবে ।
০ ছিনতানে ওয়া ছাবউনা ফিন্নার, ওয়া ওয়াহেদাতুন ফিল জান্নাতে ওয়াহিয়াল জামায়াত :
অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বলেন, (আমার উম্মতের মধ্যে ৭৩ ফেরকার মধ্যে ) ৭২ ফেরকাই দোযখে যাবে, শুধু একটি ফেরকা বেহেশতে যাবে, তারা হলেন জামায়াত ।
০ আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম দোযখী ৭২ ফেরকাদিগকে একটি উপমা দিয়ে বুঝিয়েছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম প্রথমে উপরে নিচে একটি সরল রেখা টানলেন, আর বললেন ইহা সিরাতুল মুসতাকীম ( সরল ইসলামী পথ ) অতঃপর মহান প্রিয়নবী উক্ত সরল রেখার ডানে বামে কয়েকটি বক্র রেখা টানলেন । আর বললেন, এসব বক্র রেখার উপর শয়তান দাঁড়িয়ে রয়েছে । সরল পথে আগমনকারীকে বক্র রেখার উপর দিয়ে যাতায়াত করার জন্য আহবান করছে । সরল পথ হতে বিপথে চলার মানে দোযখের পথ । যেমন- কেউ একটি রশি টানিয়ে সেই রশির উপর দিয়ে অতিক্রম করা কালে ডানে বামে, এদিক সেদিক তাকালে নিশ্চয়ই সে পা পিছলে নিচে পড়ে যাবে । ইসলামী শরীয়াতের পথটিও তদ্রুপ । যদি কেউ দ্বীন বা শরীয়তের পথ পরিহার করে মতবাদের পথে চলবে সে তখন দোযখগামী হবে । ( আহম্মদ, নাছাই, দারেমী ও মেশকাত )
০ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বলেন, হাতে জ্বলন্ত আগুনের কয়লা রাখা যেমন কঠিন, শেষ যুগে ঈমান রক্ষা করা আরো কঠিন হবে । অনত্র দয়াল নবীজি বলেন, শেষ যুগে ইসলামের নামে ৭৩ ফেরকা হবে, এর মধ্যে একটি মাত্র দল ব্যতীত অন্য সবদল জাহান্নামী হবে । উপস্থিত সাহাবায়েকেরামগণ বললেন, ইয়া রাসূল্লাহ, নাজাত প্রাপ্ত দল কোনটি ? উত্তরে মহান প্রিয়নবী বললনে, আমি এবং আমার সাহাবায়ে কেরাম যে পথে ও মতে আছে, যারা ঐ পথ ও মতে থাকবে, তারাই একমাত্র নাজাত প্রাপ্ত দল । ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন, নাজাত প্রাপ্ত দলটির নাম আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামায়াত বা সংক্ষেপে ছুন্নী দল ।
মহান সাহাবায়েকেরামগণ পর্যন্ত সকলেই প্রিয়নবীর দেখানো পথের উপর ছিল । আমীরে মোয়াবীয়া এর আমলে সর্ব প্রথম খারেজী দল আত্ম প্রকাশ করে, তবে এই দল আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর আমলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে সঙ্গে সঙ্গে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সংঘঠিত যুদ্ধের মাধ্যমে নির্মুল করে ছিলেন ।
০ ইন্না হাযা সিরাতিম মুশতাকীমা ফাত্তাবেউহু, ওয়ালা তাত্তাবেউ ছোবুলা ফাতাফাররাকা বেকুম আন সাবিলিহি । (সূরা আনআম)
অর্থাৎ মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম সিরাতুল মুসতাকীম বা ইসলামের সঠিক পথ দিকদর্শন করার পর আল্লাহ তায়ালা মহান প্রিয়নবীর দিক দর্শনের সঠিকতার প্রমাণে উক্ত আয়াত নাযিল করে বলেন, আমার হাবীব তথা আমার রাসূল যে পথের দিকদর্শন চিহ্নিত করেছেন তা সঠিক পথ । তোমরা সেই পথগামী হও । তোমরা এই পথের বিকল্প বহু পথের অনুসারী হইও না । যদি শয়তান চক্রের প্রলভনে পড়ে বিপথগামী হও, তখন গোমরাহ হয়ে যাবে । ( তাফসীরে মাদারেক শরীফ )
ছুন্নাত পরিপন্থী ফেরকার নামঃ ইসলাম ধর্মের শুরু হতে আবুবকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত কোন বাতেল ফেরকার উদ্ভব ঘটেনি । ওসমান গণি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু –এর খেলাফতের শেষ দিকে অর্থাৎ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু –এর খেলাফতের শুরু হতে বাতেল ফেরকার উদ্ভব ঘটতে থাকে । এ সব ফেরকার মধ্যে খারেজী ফেরকা ছিল অন্যতম । খারেজী ফেরকার দেখাদেখী পরস্পর যুগে যুগে আরো কতিপয় ফেরকার উদ্ভব ঘটে । এরা মূলত আট ভাগে বিভক্ত । যথাঃ
(১). খারেজী ফেরকা ।
(২). মোতাজেলা ফেরকা ।
(৩). শিয়া ফেরকা ।
(৪).মরজিয়া ফেরকা ।
(৫). নাজ্জারিয়া ফেরকা ।
(৬). জাবারিয়া ফেরকা ।
(৭). মোশাব্বাহা ফেরকা ।
(৮). নাজীয়া ফেরকা ।
উপরোক্ত আট ফেরকা পারস্পারিক মতভেদ সৃষ্টি করে শাখা উপ শাখায় উৎপত্তি হতে থাকে । এ পর্যন্ত ঐ সমস্ত এক একটি ফেরকা হতে কয়েকটি করে ফেরকার উদ্ভব হয় । যেমনঃ- খারেজী ফেরকা ২০ ফেরকায় বিভক্ত, মোতাজেলা ফেরকা ২০ ফেরকায় ভিবক্ত, শিয়া ফেরকা ২২ ফেরকায় বিভক্ত, মরজিয়া ফেরকা ৫ ফেরকায় বিভক্ত, নাজ্জারিয়া ফেরকা ৩ ফেরকায় বিভক্ত এবং জাবারিয়া ফেরকা ও মোশাব্বাহা ফেরকার মধ্যে উপ ফেরকার উদ্ভব ঘটেনি । এমনি ভাবে মোট ৭২ ফেরকা সংঘঠিত হল । নাজীয়া ফেরকার নাম আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামায়াত । এই একটি মাত্র ফেরকাই নাজাতী ফেরকা, অপর সব ফেরকাই দোযখী ফেরকা ।
আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামায়াত ছাড়া প্রত্যেক গোমরাহী ফেরকা দোযখে যাবে এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ-
ওয়া মাই ইয়াতা বাদ্দালিল কুফরা বিল ঈমানে ফা কাদ দাল্লা ছাওয়া আচ্ছাবিলা”
অর্থাৎ যারা ঈমান ও ইসলামের সরল পথ পরিহার করে কুফুরী পথ ধরেছে তারা আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম এর নির্দেশিত পথ থেকে সরে ভূল (গোমরাহীর) পথে চলে গেছে । (কোরআন)
সূত্রঃ মৌলবাদ পরিচয় = মাওলানা রেদওয়ানুল হক ইসলামাবাদী ও রদ্দে কুফর শিরিক, বেদায়াত = শায়খুল হাদিছ, হাফেজ-ক্বারী, হযরত আল্লামা সৈয়দ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ ।
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×