ঠুনকো মানসিকতা বলে মনোবিজ্ঞানে কোন শব্দ আছে কিনা আমার জানা নেই । আমার মনে হয় আমার মানসিকতা তেমন ; এটা অবশ্য শুধু আমার দাবী নয় আমার আশে পাশের অনেকেই বলে । আমি নিজেও সাইকোলজিতে অতটা দক্ষ না। আমি যতটুকু জানি ১০ হাজার কোটি নিউরনের অবস্থান , কর্মক্ষমতা , কর্ম সম্পাদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমাদের আচারন কিংবা মানসিকতার উদ্ভব হয় ।
আমার নিজেকে ঠুনকো মানসিকতার মনে হওয়ার কারন কারন আমার একটি ডাটা ইনপুট দিতে যতটা সময় লাগে তার থেকে প্রসেসিং এ সময় আরও কম লাগে আর সে ডাটা মুছে ফেলতে অনেক সময় লাগে । তার মানে আমার হার্ড ডিস্ক অনেক দ্রুত ডাটা নেয় আবার দ্রুত প্রসেসও করে কিন্তু সহজে ইরেজ করতে পারে না । তার মানে মেমোরিতে যত দিন যাচ্ছে একটা জ্যামের মতো তৈরী হচ্ছে । যার প্রভাব প্রসেসরে পরতে অবশ্য অনেক সময় লাগবে কিন্তু অনেক জানা অজানা ফাইলের মাঝে মজুদ কৃত ডাটা গুলো খুঁজে পাওয়াও একটা দুঃসহ কাজ হয়ে দাড়িয়েছে । যার কারনে সবাই বলে আমি যখন যে কাজটা পাই সেই কাজটা নিয়েই অতি উৎসাহী হয়ে পরে থাকি । এসব অবশ্য Evolutionary psychology র আওতা ভুক্ত ।
সব কিছু বিবর্তনের ধারায় পরিবর্তিত হয়ে চলছে এবং এর মধ্যে আমিও । সুতারং সমাজে প্রচলিত আমার ঠুনকো মানসিকতা যদি থেকেও থাকে তাহলে সেটিও আজ পরিবর্তিত হয়ে একটা স্টাবল পর্যায়ে চলে এসেছে । সুতারং আমার দশ হাজার কোটি নিউরন এখন অনেক ডাটা নিতে চাইলেও নিতে পারছে নাহ ।
আমাদের অনেকের মানসপট নির্মানে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার একটা ছাপ আছে । সহজ ভাষায় প্রি ডিটারমাইন্ড / মাইন্ড সেটআপ বলা যেতে পারে । এটা মনে হয় জ্ঞানীয় বা কগনিটিভ মনোবিজ্ঞানের মধ্যে পরে । সুতারং এরকম থাকলে তাদের আচারনবাদ হয় অনেক উগ্র । জানিনা আচারনবাদ এটাকে সমর্থন করে কিনা । আমার তথাকথিত ঠুনকো মানসিকতায়ও এই ক্রাইটেরিয়া আছে কিনা জানি নাহ । তবে কৃত্রিমতার চর্চা মাত্রাতিরিক্ত থাকলে সমাজে নিজেকে যেভাবে ইচ্ছা ঐভাবে উপস্থাপন করা যায় ।
পুনশ্চ –
আমরা বিবর্তনীয় অথবা জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞানের যে শাখার কথাই বলি না কেনো । মানুষকে আসলে কোন প্যারামিটারে সঙ্গায়ন করা সম্ভব না এটাই সত্য কথা । যদি সাইকোলজির তত্বে মানসিকতাকে বিচার করতেও হয়া তাহলে –
মনকে গনণা যন্ত্র ধরে নিয়ে বাইনারী এক এবং শুন্যের সমীকরনে হিসেব করতে হবে । যেখানে আউট পুটের হিসেবটাই বড় হয়ে দাঁড়াবে । জীবন হবে কৃত্রিম ।
পৃথিবীর সুখী মানুষেরা ইকুয়েশনে বিশ্বাস করে না অকৃত্রিম ভাবে ভালোবাসে , না পেলে পাগলের মতো কাঁদে আবার নিজের সুখ খুঁজে পাওয়ার জন্য উৎসের সন্ধানে বেরিয়ে পরে ।
আধুনিকতা যেখানে আগ্রাসী জৈবিকতা সেখানে প্রগাড় মমত্ব বোধের স্বপ্ন খুঁজে বেড়ায় ।
সর্বোপরি –
“Our modern skull house a stone age of mind”
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



