রণেশ দাশগুপ্তঃ সাহিত্যিক, সাংবাদিক, মার্ক্সবাদী রাজনৈতিক কর্মী
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, মার্ক্সবাদী রাজনৈতিক কর্মী রণেশ দাশগুপ্তের জন্ম ১৯১২ সালের ১৫ জানুয়ারি। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গাউরদিয়া গ্রামে। বাবা অপূর্বরত্ন দাশগুপ্ত। তিনি খ্যাতনামা খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁর কাকা নিবারণ দাশগুপ্ত ছিলেন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ও শিক্ষক। আরেক কাকা ছিলেন গান্ধীবাদী স্বদেশী। পারিবারিক রাজনৈতিক ধারার জন্য রণেশ দাশগুপ্ত ছোটবেলা থেকেই দেশমাতৃকার সাধীনতা সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের বীজ অন্তরে বুনেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এভাবেই রণেশ দাশগুপ্ত এক সময় হয়ে ওঠেন তুখোড় মার্ক্সবাদী রাজনৈতিক কর্মী।
পড়াশুনার হাতেখড়ি পরিবারে। তারপর পাঠশালা ও প্রাইমারী। ছোটবেলায় পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বইপড়া ও লেখালেখি করে সময় কাটাতেন। প্রাইমারী পড়াশুনা শেষ করে রাঁচির (বিহার) স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকে ১৯২৯ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর ভর্তি হন বাঁকুড়ার কলেজে। এ কলেজে পড়াশুনাকালে তিনি সশস্ত্র বিপ্লববাদী দল অনুশীলনের সঙ্গে পরিচিত হন। ধীরে ধীরে তিনি এই দলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
সশস্ত্র বিপ্লববাদী দল অনুশীলনের সাথে যুক্ত থাকার কারণে বাঁকুড়া কলেজ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। কিছুদিন পর তিনি অনুশীলন দলের সিদান্ত অনুযায়ী কলকাতায় এসে সিটি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশের উৎপাতে কারণে লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটতে থাকে। পুনরায় তিনি দলের কথা মতো বরিশালে এসে ব্রজমোহন কলেজে ভর্তি হন। এ সময় তিনি তার মাতুল সত্যানন্দ দাশের বাড়িতে থাকতেন। সত্যানন্দ দাশ ছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা। এখানেও বেশীদিন থাকা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি বিপ্লববাদী দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
১৯৩৪ সালে তার পিতা অপূর্বরত্ন দাশগুপ্ত অবসর গ্রহণ করলে তারা সপরিবারে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গাউরদিয়া গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে সবাই বসবাস করতে শুরু করেন। ২ বছর পর ওই গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। তখন সবাই ঢাকা শহরে চলে আসেন। বাবা অপূর্বরত্ন দাশগুপ্ত তখন বার্ধক্যের কারণে উপার্জন করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। তখন রণেশ দাশগুপ্ত সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। চাকরি নেন সংবাদপত্রে। শুরু হয় সাংবাদিকতা জীবন।
তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত পত্রিকা ‘সোনার বাংলা’য় সাংবাদিক জীবনের সূচনা ঘটে। এ সময় থেকেই মূলত তাঁর লেখক জীবনের শুরু হয়। সেকালের ঢাকা সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি তরুণ সাহিত্যিক সোমেন চন্দ, অচ্যুত গোম্বামী, কবি কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত প্রমুখের বন্ধুত্ব লাভ করেন। এদের সঙ্গে নানা রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে থাকেন। এ সময় তিনি ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।
১৯৪৩ সাল। বাংলা ১৩৫০ সন। এই সনটি ইতিহাসে মন্বান্তরের সন হিসেবে পরিচিত। এই সময় ইংরেজ শাসকদের অবহেলার কারণে সারা বাংলায় দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়। এ সময় তিনি দুর্ভিক্ষ ও মহামারী মোকাবেলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর রাজনৈতিক কারণে তাকে পাকিস্তান পুলিশ গ্রেফতার করে। বিনা বিচারে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়। গোটা পাকিস্তানি আমলে তাঁকে বহুবার গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। কারণ একটাই তিনি কমিউনিস্ট পার্টি করতেন এবং বিপ্লবী দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়েও তিনি জেলে ছিলেন। সেখানে বসেও তিনি তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের সাথে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে পাঠচক্র করতেন। নাট্যকার মুনীর চৌধুরীকে ‘কবর’ নাটক লিখতে তিনিই উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ‘কবর’ নাটকটি তাদের চেষ্টায় কারাগারে মঞ্চস্থ হতে পেরেছিল।
কারামুক্তির পর ১৯৫৫ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার চাকরি নেন। এ পত্রিকাকে ব্যাপক অর্থে প্রগতির মুখপত্র হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর অবদানই ছিল মূখ্য। তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি ঘটে এ সময়েই। তিনি এসময় ‘উপন্যাসের শিল্পরূপ’ (১৯৫৯) নামে একটি বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ রচনার জন্য। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবর্ষ পালনের সময়ে তাকে আবার পাকিস্তান পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ১৯৬২ সালে মুক্তি পান। আবার কারারুদ্ধ করা হন ১৯৬৫ সালে। এবার মুক্তি পান ’৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর। ১৯৬৯ সালে বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ মিলে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গঠন করেন।
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একজাঁক সংবাদ কর্মীকে নিয়ে ভারতে যান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তিনি। তরুণ ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমিক ও কৃষকদের রিক্রুট, ট্রেনিং, দেয়া প্রভৃতি এবং কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনার যোদ্ধাদের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর কলকাতায় একটি সভায় যোগ দিতে গিয়ে সেখানে থেকে যেতে বাধ্য হন। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে সামরিক শাসন চালু হয়েছিল। তারপর বাংলাদেশ নানা বিপর্যয় ও উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হয়। তিনি আর ফিরে আসেননি, স্বেচ্ছানির্বাসিতের জীবন বেছে নিয়েছিলেন।
তিনি একাধিক ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন। ইংরেজি ও উর্দুভাষা উত্তমরূপে আয়ত্ত করেছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের অধিকাংশই মননশীল প্রবন্ধ ও অনুবাদ।
উপন্যাসের শিল্পরূপ(বঙ্গাব্দ ১৩৬৬), শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নে (বঙ্গাব্দ ১৩৭৩), ল্যাটিন আমেরিকার মুক্তি সংগ্রাম(১৯৭২ খ্রি.), আলো দিয়ে আলো জ্বালা(১৯৭০ খ্রি.) ও আয়ত দৃষ্টিতে আয়ত রূপ। অনুবাদঃ ফয়েজ আহমদ ফয়েজের কবিতা (১৯৬৯ খ্রি.)। সম্পাদনাঃ জীবনানন্দ দাশের কাব্যসমগ্র।
রণেশ দাশগুপ্ত ১৯৯৭ সালের ৪ নভেম্বর কলকাতর পিজি হাসপাতালে মারা যান। অকৃতদার ছিলেন তিনি। নিরভিমান ও ঋষিতুল্য উদার স্বভাবের এই মানুষটির মরদেহ সবার ইচ্ছায় ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশের সবাই পরিপূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে পোস্তগোলা শ্মশানে তার অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
ইশারার ভিতর আগুন রেখে
ইশারার ভিতর আগুন রেখে
সংযমের নামে লুকানো ছুরি—
বেইমানি নিজের বুকেই ঢোকে।
রাত জানে, কুহুক জানে,
দেয়ালও জানে সব কথা,
শুধু মানুষ শোনে না—
শা-ঝে-মাঝে নিজের শব্দেই বধির।
জীবনের ভিতর ফাগুন ছিল,
রক্তের মতো উষ্ণ।
তবু সারাদিন একা বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট
ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !

বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন
মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার হারিয়ে যাবার গল্প
তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।
তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।
আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।