এই দেশটাকে নিয়ে আমাদের গর্বের কোন শেষ নেই... দেশটাকে নিয়ে প্রচুর গর্ব আমাদের... যদিও এই দেশ আমাদের মত বেকারদের, যাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ ডিগ্রী প্রত্যাশিত ফলাফল থাকা সত্তেও যথাযথ চাকুরী দিতে পারে নি... তাও আমরা আমাদের দেশখানা কে ভালোবাসি... এই দেশের মানুষ নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই... কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে যা দেখা যাচ্ছে তাতে আজ এই গর্ব আর ভালোবাসা প্রশ্নবিদ্ধ ... আজ যখন দেখি শিশুহত্যা তাও আবার সকল ধরনের পাশবিকতা কে টেক্কা দিয়ে আরেকটু মর্মান্তিক ভাবে ঘটে চলেছে... রাজন এর কান্নার আওয়াজ কানে এখনো বাজে, সেটির রেশ কাটতে না কাটতেই আরও একটা ঘটনা... মাঝখানে এরকম আরও দুটি ঘটনা ঘটেছে বলে মিডিয়া তে প্রচারিত... এটা বলা মুশকিল মিডিয়ার অগোচরে এরকম আরও কত ঘটনা লুকিয়ে আছে...
আজ যদি আমরা এই জাতিটার দিকে তাকাই তবে দেখতে পাব এই রাষ্ট্র টি এক সময় শিশু অধিকার কিংবা শিশু মৃত্যু রোধ কিংবা শিশু শিক্ষা নিশ্চিত করণে তার প্রতিবেশী শক্তিধর রাষ্ট্র সমূহের চেয়ে অনেক বেশী কার্যকরী ভূমিকা রেখে এসেছে। গত শতাব্দীর শেষ দশক গুলোতে বাংলাদেশ তার প্রতিবেশীদের তুলনায় যেসকল ক্ষেত্রে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল তার মধ্যে শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা অন্যতম। একবিংশ শতাব্দীর দুই দশকের মাঝামাঝি যখন আজ আমরা এটা ভেবে নিশ্চিন্ত যে শিশুদের স্কুল যাওয়া কিংবা শিক্ষা অর্জনে কোন বাঁধা নেই। কিংবা সমাজের উচ্চ স্তর থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচী শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করছে, সেই যায়গায় আজ এইসকল মর্মান্তিক শিশু হত্যা আমাদের জাতি হিসেবে মানবিক অবক্ষয় কে নির্দেশ করছে কিনা তা প্রশ্ন থেকে যায়...।
আমরা জাতি হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি... আজ আমরা যদি এই এগিয়ে যাওয়ার পথে যারা আমাদের ভবিষ্যৎ, সেই শিশুদের নিরাপদ রাখতে না পারি, আমরা হয়ত এই অগ্রগতি খুব বেশীদিন ধরে রাখতে পারব না...
হল কি দেশটার?... এগুলো কি নতুন এক ভাইরাসে এই দেশটা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ?,... নাকি আমরা এমনই বর্বর ছিলাম?... যদি আমরা এমন হয়ে থাকি তাহলে তো এতদিন ধরে আমরা যে গর্ব লালন করে আসছি তা আজ প্রশ্নের মুখে পরে... আর আমাদের দেশপ্রেম নামক বস্তুখানা চিকন এক সুতোয় বাধা বলে পরিণীত হয়...
সত্যি কথা, এসব অঙ্ক মিলাতে গিয়ে নিজেকে একটা প্রথম শ্রেণীর গর্দভ মনে হয়...
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


