ঢাকা, মার্চ ২৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব জানতে চায়।
শনিবার দুপুরে এক স্মরণসভায় তিনি বলেন, “দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ তারা লুট করে ফেলেছে। পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রকল্প, বিদ্যুতের কুইক রেন্টাল প্রকল্প, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড বিতরণ, বেসামরিক বিমান সংস্থা- সর্বত্রই দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।”
“আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার থাকলেও প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা গত তিন বছরেও তাদের সম্পদের হিসাব দেননি। তাই এখন দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্পদের হিসাব জানতে চায়”, বলেন ফখরুল।
আয়কর জমা দেওয়ার এক মাসের মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করে গত বছর জুলাই মাসে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। একইসঙ্গে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের একটি নীতিমালাও প্রকাশ করা হয়।
এরপর মন্ত্রী পর্যায়ের অনেকেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আয়কর বিবরণী জমা দিলেও তাদের মধ্যে কতোজন সরকারকে সম্পদের হিসাব দিয়েছেন- সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় এ পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে ফখরুল বলেন, “শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আইএসআই বিএনপিকে টাকা দিয়েছে- এমন সংবাদ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমরা প্রথম থেকেই সরকারের এহেন মিথ্যা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে আসছিলাম।”
ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের ভারত সংস্করণে (অনলাইন) গত ১৫ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান আসাদ দুররানি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানিতে বলেছেন, ১৯৯১ সালে নির্বাচনের আগে তার সংস্থা বিএনপিকে অর্থ দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গত ১০ মার্চ এক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতার সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, আইএসআইয়ের কাছ থেকে বিএনপির অর্থ নেওয়ার কথা বলেন।
এরপর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলে, বিএনপিকে আইএসআইর টাকা দেওয়ার খবরটি ভিত্তিহীন।
“লন্ডনের ইকোনোমিস্ট পত্রিকা বলেছিল- আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিবেশী দেশ থেকে বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছে। এই সংবাদের বিষয়ে কেউ এখনো বলেনি- এটা সঠিক নয়”, বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের চরিত্র হনন করতে দ্বিধা করছেন না। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তিনি সুদখোর ও চোর বলেছেন। অথচ বিশ্বের অনেকেই বাংলাদেশকে চেনেন অধ্যাপক ইউনূসকে দিয়ে।”
প্রধানমন্ত্রী ‘প্রতিনিয়ত’ খালেদা জিয়া ও তার পরিবার সম্পর্কেও ‘মিথ্যাচার ও গালিগালাজ’ করছেন বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।
“দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি এমন ভাষায় কথা বলেন, প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করেন, তাহলে আমাদের নতুন প্রজন্ম কী শিখবে? প্রধানমন্ত্রীকে বলব, দয়া করে আমাদের রেহাই দেন। আমাদের বাচ্চাদের ঝগড়াটে বানাবেন না।”
বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই স্মরণসভায় তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের বর্তমান সংকটে আমরা তার মতো নেতার শূন্যতা পদে পদে অনুভব করছি।”
জাতীয় প্রেসক্লাবে মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্রের সিংহ পুরুষ কে এম ওবায়দুর রহমান স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি টি এম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।
অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ফরিদপুর জেলা সভাপতি শাহজাদা মিয়া, কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, হাফেজ আবদুল মালেক, আবদুস সালাম আজাদ, এস এম কামাল, ফারুক আহমেদ, আলী আজগর চুন্নু, শাহজাহান মিয়া সম্রাট স্মরণসভায় বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আজম খান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



