somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আর বি এম টুটুল
সহজ মানুষ,সহজ মন,সহজ কথা,সহজ সত্য আমার মতামত । প্রচার করুন যদি একটি মাত্র আয়াতও হয়....লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ । ৫ ওয়াক্ত নামাজ মানুষের জীবনকে বদলে দেয় ইসলামিক বিধান মেনে একটি সুন্দর জীবন চায়।আল্লাহ্‌ আপনি সব কিছুর মালিক ।

[ মা বাবার স্বপ্ন এবং সন্তানের কর্তব্য ]

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

SELF JUSTIFICATION
মা বাবার স্বপ্ন এবং সন্তানের কর্তব্যঃ-
======================
মা বাবা হওয়ার স্বপ্নটা সব সময়ই স্বপ্নীল থাকে ।
সন্তান যখন নিষ্পাপ থাকে, মা বাবার স্বপ্ন গুলিও নিষ্পাপ থাকে ।
সন্তান যখন ধিরে ধিরে বুঝতে শিখে,মা বাবার স্বপ্ন গুলিও ধূসর হতে শুরু করে ।
সন্তান যখন নিজে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে, মা বাবার স্বপ্ন গুলি ধিরে ধিরে হারিয়ে যেতে শুরু করে ।
আর মা বাবা তখনই সবচেয়ে বেশী কষ্ট পাই,যখন বুঝতে পারে সন্তানের সেই রঙ্গিন স্বপ্নের কোন অংশেই সেই মা বাবার কোন উপস্তিতি নেই । যখন বুঝেন তার গর্ভজাত সন্তান তার অবাধ্য । প্রসব যন্ত্রনা থেকেও যন্ত্রনাময় মা বাবার অবাদ্য সন্তান ।
তাই, প্রতিটি সন্তানের উচিৎ মা বাবার স্বপ্ন গুলিকে প্রাধান্য দেওয়া,কেননা সন্তানকে নিয়ে মা বাবার যে স্বপ্ন সেই স্বপ্নটা অনেক বেশী স্বপ্নিল থাকে। তাই সেই স্বপ্নটা অপুরনীয় তাকলে মা বাবা অনেক বেশী কষ্ট পান , পৃথিবীতে প্রতিটি সন্তানের প্রথম দায়িত্ব মা বাবার স্বপ্নটা পুরন করার অথবা আপ্রান চেষ্টা করার । কারন মা বাবা কষ্ট পেলে সন্তান কখনো তার স্বপ্ন পুরন করতে পারবেনা । মা বাবার সুখী হলে পৃথিবীতে সেই সন্তানেই সব চেয়ে সুখী মানুষ ।

পবিত্র কোরআন শরিফে,আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেছেন,
তোমরা তোমাদের মা বাবার সাথে এমন ভাবে কথা বলনা যেন মা বাবা কষ্ট পেয়ে উহঃ শব্দ টুকু না করেন ।
আর নবী করিম (সঃ),বলেছেন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত।

মা-বাবা আমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত। মা-বাবা ছাড়া পৃথিবী কল্পনা করা যায় না। যদি মা-বাবার ভালোবাসার দৃষ্টি না পড়ত, তাহলে এ পৃথিবী থাকত মায়া-মমতাহীন। মা-বাবার কারণেই আমরা এ সুন্দর পৃথিবীর মুখ দেখতে পারছি। খেয়ে-দেয়ে-ঘুমাই, মনের সুখে ঘুরে বেড়াই, পড়াশোনা ও চাকরিবাকরি করে জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখি। পৃথিবীতে যে দুজন মানুষ আমাদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, তারা হলেন প্রিয় মা-বাবা। আমাদের প্রতি মা-বাবার দয়া-ভালোবাসার কথা বলে শেষ করা যাবে না। মা যেমন সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে আমাদের পেটে ধারণ করেন, জন্ম দেন, দুধ পান করান এবং লালন-পালনের অতুলনীয় দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি বাবাও অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের বেঁচে থাকার সব উপকরণের ব্যবস্থা করেন। আমাদের ভবিষ্যৎ-চিন্তায় অত্যধিক অধীর থাকেন মা-বাবা। আমাদের বিপদাপদে, অসুখ-বিসুখে ছায়ার মতো কাছে থাকেন তারা। মায়ের আঁচলে-আদরে, বাবার স্নেহের চাদরে আশ্রয় নিয়ে মুক্তি পাই বিপদাপদ থেকে, সুস্থ হয়ে উঠি অসুখ-বিসুখ থেকে। মা-বাবাহীন ঘর শূন্য মরুভূমি। যাদের মা-বাবা বেঁচে নেই, শুধু তারাই বোঝে মা-বাবা কী জিনিস।

মা-বাবার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাই সৃষ্টিকর্তা হিসেবে যেমন আল্লাহ তায়ালার ইবাদত-বন্দেগি করা আমাদের দায়িত্ব, তেমনি জন্মদাতা হিসেবে মা-বাবার প্রতি সম্মান দেখানো এবং তাদের আন্তরিক সেবা করা কর্তব্য। এজন্যই পবিত্র কোরআনের অন্তত ১৫ জায়গায় মা-বাবার প্রতি সন্তানের কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে এবং আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের পাশাপাশি মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমার পালনকর্তা আদেশ করছেন যে, তাঁকে (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবনকালে বৃদ্ধ হয়ে যায়, তবে তাদের ‘উহ্’ শব্দটিও বলো না এবং ধমক দিও না। বরং তাদের সঙ্গে নরম সুরে কথা বলো। দয়াপরবশ হয়ে নম্রভাবে তাদের সামনে মাথানত করে দাও এবং বলো, হে পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে স্নেহ-মমতা দিয়ে লালন-পালন করেছেন।”
(সূরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। কেননা তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। আমি আরও নির্দেশ দিয়েছি, আমার প্রতি ও তোমার বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে তোমাদের আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে।’ (সূরা লোকমান : ১৪)।

জনৈক সাহাবি প্রিয়নবী (সা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! সন্তানদের ওপর মা-বাবার কতটুকু হক বা অধিকার রয়েছে? প্রিয়নবী (সা.) বললেন, ‘মা-বাবা হলেন তোমাদের জান্নাত এবং জাহান্নাম।’ অর্থাৎ তোমরা যদি মা-বাবার আনুগত্য ও খেদমত করে তাদের সন্তুষ্ট রাখ, তাহলে জান্নাতের উপযুক্ত হবে। আর যদি তাদের অবাধ্য হয়ে অসন্তুষ্ট রাখ, তাহলে তোমাদের ঠিকানা হবে চিরশাস্তির জায়গা জাহান্নাম। প্রিয়নবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পরেই মায়ের স্থান এবং মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।’ বাবার মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘বাবার সন্তুষ্টির ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং বাবার অসন্তুষ্টির ওপর আল্লাহর অসন্তুষ্টি নির্ভর করে।’ অন্য হাদিসে বলেছেন, ‘বাবা বেহেশতের উত্তম দরজা’।

বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণের পরিণাম সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে মারাত্মক কবিরা গোনাহ কোনটি তা কি আমি তোমাদের জানাব? তা হচ্ছে, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে অসদাচরণ।’ হজরত আলী (রা.) বলেছেন, ‘বাবা-মাকে অসম্মান করা বড় ধরনের পাপ।’

মা-বাবা দুজনই সন্তানের কাছে মর্যাদাবান হলেও ইসলামে মায়ের মর্যাদা বাবার চেয়ে বেশি দেয়া হয়েছে। কারণ সন্তানকে লালন-পালন করার ক্ষেত্রে মা-ই বেশি ভূমিকা পালন করে থাকেন।

আমাদের প্রিয়নবী (সা.) তাঁর জন্মের আগেই বাবা এবং মাত্র ছয় বছর বয়সেই মাকে হারান। বাবার স্নেহের চাদর ও মায়ের অফুরান আদর থেকে বঞ্চিত হলেও নবীজি তাঁর দুধমা হালিমা (রা.) কে মায়ের মতোই ভালোবাসতেন।

কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। তাই আমরা কখনও মা-বাবার অবাধ্য হব না, তাদের মনে কষ্ট দেব না। তাদের ইসলামসম্মত সব আদেশ-নিষেধ মেনে চলব। তাদের আন্তরিক দোয়া নেব। তাদের দোয়া সরাসরি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। অতীতের অনেক মহামনীষী মা-বাবার দোয়ায় অনেক বড় হয়েছেন। আর যাদের মা-বাবা বেঁচে নেই, তারা মৃত মা-বাবার জন্য দোয়া করব:-

রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সগিরা।

আমার ইসলামিক পেইজ
[ জান্নাতের সিঁড়ি ও বাংলা অর্থ সহ কোরআন শরীফ



সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯



৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ জুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×