somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবেগী কথামালা

৩০ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে নিয়ে এডিট করা)

জাতি হিসেবে আমরা একটু বেশিই আবেগী এটা নিশ্চই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যেমনি স্বৈরাচারদের পতনের পর হতে আমাদের আবেগ উথলে পরছে। কি বলবো আর কি করবো তার কোনো দিক-বিদিক খুঁজে পাচ্ছিনা। তেমনি সামুটিমের নতুন সাজ দেখেও ভীষণ আবেগি হয়েই এই পোস্টটা লিখছি। টিমের কাছে অনুরোধ যে, যদি পোস্টটি নীতিমালা বহির্ভূত হয় তবে দয়া করে জানাবেন এবং সড়িয়ে নেবার সময় দেবেন। হঠাৎ করে পোস্ট সড়িয়ে দিলে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে খারাপই লাগে।

যা বলতে চাচ্ছি তা ভালোভাবে গুছিয়ে বলতে অনেক সময় দরকার। কিন্তু পোস্টটি দীর্ঘ না করার চাপ নিয়ে লিখছি। সেইসাথে এই চাপও রয়েছে পোস্টের কারণে কোনো নীতি ভঙ্গ হচ্ছে নাকি। আর এভাবে চাপ নিয়ে যদি লিখতে হয়, আমি নিশ্চিত কেউ মনের ভাব স্বাধীন এবং পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটিয়ে উঠাতে পারবে না। তাই সব লেখকের অন্তত এই স্বাধীনতাটুকু থাকা দরকার। আবার এই স্বাধীনতা পেলে কখন যে স্বাধীনতার অপব্যবহার হয়ে যায় তা লেখক ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বুঝে উঠতে পারে না। আর তখনই প্রশ্ন উঠে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের।

সম্প্রতি সামু টিমকে ভীষণ এ্যাক্টিভ দেখে খুব ভালো লাগছে। এই এ্যাক্টিভ থাকতে দেয়ার জন্যে আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্যও নিশ্চই কম নয়। কিন্তু আমরা যদি নিজেরা দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ হই, তখন সামুটিমের একার পক্ষে কি এভাবে সক্রিয় থাকা সম্ভব হবে? সামুটিমতো আর মেসিন নয়। তাই সামুটিমের প্রতি আমাদের যথেষ্ঠ্য সহযোগি হওয়া দরকার। আর সহযোগিতা বলতে যদি আমরা পোস্ট এবং মন্তব্য করার আগে খেয়াল রাখি তা যেনো কারো কাছে প্রশ্নবোধক না হয়, তবেই যথেষ্ঠ্য। তখন আশা করি সামুটিমও এভাবে এ্যাক্টিভ থেকে নিজের দায়িত্ব সহজ ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারবে।

কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা সম্ভবত নিজের প্রতিই অজ্ঞতা। তথা বুঝতে না পারা কোনটা আমার কর্তব্য এবং কোনটা অনধিকারচর্চা। আর এর মূল হচ্ছে মতের অমিল। কিন্তু কিছু বিষয়ে মতের অমিল হতেই পারে। কেননা, সবাই একই প্রেক্ষাপট হতে ব্লগিং করিনা। তাই আমাদের উচিৎ নিজস্ব ব্যাকগ্রাউন্ড হতে বের হয়ে আসা। ব্লগে দল-মতের উর্দ্ধে পরিচয় হচ্ছে, “সবাই ব্লগার”। সমাজে যেমন ডাক্তার দরকার, তেমনি দরকার কৃষকেরও। তাই ব্লগেও যেমনি মেডিক্যাল সাইন্স বিষয়ক লিখা থাকবে, তেমনি থাকবে কৃষিতথ্যও। এখন কৃষি তথ্য দেখে নাক সিঁটকালে মনে হয় না ব্লগিং স্ট্যাটাস থাকা দরকার। যার কৃষিতথ্যের প্রয়োজন নেই তিনি এড়িয়ে গেলেই হলো। এখানে কেউতো কাউকে জোর করে পড়াচ্ছে না।

এখন এড়িয়ে যেয়েও বাঁচা সম্ভব হয় না কারণ, যিনি মেডিক্যাল সাইন্স নিয়ে লিখছেন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কৃষিতথ্যকে জড়াবেন। হয়তো বলবেন, অমুক কৃষিবিদের পদ্ধতিতে চাষ করে খেলে তমুক রোগ হবে। আর মূল সমস্যা এখান হতেই শুরু। কিন্তু তিনি চাইলেই মেডিক্যাল সাইন্সের রেফারেন্স দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে খেলে কি উপকারিতা সেটা বর্ণনা করতে পারেন। কিন্তু সেটা না করে, কোনো যুক্তি বা রেফারেন্স না দিয়ে, সরাসরি ব্যক্তিআক্রমণ করে বসবেন পোস্ট বা মন্তব্যে। আর তখনই এরজন্যে পাল্টা আক্রমণ এলে কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা শুরু হয়ে যাবে। এই কালচার অব্যহত থাকলে মনে হয় না কোনো ব্লগটিমই সফল হতে পারবে। কারণ, এক টিম কতোদিক সামাল দিবে? আমরা নিশ্চই এখানে কেউই শিশু নই? আমরা সমাজের বিবেক। আর এজন্যেই আমাদের নিকটে নিশ্চই এসব আচরণ অপ্রত্যাশিত।

আর এর মূলে রয়েছে আমাদের অতি আবেগ প্রবণতা। কি প্রয়োজন ব্লগে নিজেকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থাপন করার? মনে হয় না ব্লগের সুবাদে আজপর্যন্ত কারো বিয়ে-শাদী হয়েছে। তো কি দরকার আছে ব্লগে নিজের ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস তুলে ধরার? তবে এখানেও সমস্যা আছে। অনেক যতীশ আছেন এখানে। ঊনারা হাত নয়, পোস্ট দেখেই ব্যাকগ্রাউন্ড বলে দেন। এই ব্লগে না এলে কখনো হয়তো জানতে পারতাম না আমি জামাতি, ছাগু, ক্রিমিনাল ব্লা ব্লা ব্লা…….. =p~

আর আমাদের এসব বাচ্চামি আচরণ হয়তো কোনো ব্লগটিমকেই শান্তি দেবেনা। এসব বাচ্চামির চাপে ভুলে যাবে নিজের দায়িত্ব কর্তব্য। যদিও বুড়ো বয়সে বাচ্চামি মন্দ নয় :P

সম্প্রতি ব্লগটিমের পোস্টগুলোর মন্তব্যে আলোচ্য বিষয়ের চাইতে অভিযোগের পরিমাণ কম নয়। যদিও এখন পর্যন্ত ব্লগটিম অনেক সুন্দরভাবে প্রতিটি মন্তব্যের উত্তর করে যাচ্ছেন। কিন্তু ভয় হয় কখন জানি উনারাও ব্যার্থ হন আমাদের আচরণে। তাই আমাদের এই অভিযোগের কালচার হতে বের হয়ে এসে প্রয়োজন আত্মউন্নয়ন। তবেই শুধু ব্লগ নয়, দেশ এমনকি দুনিয়াও সুন্দর হয়ে যাবে।

তবে ব্লগটিমের কাছে চাওয়া, নিয়মিত ও দ্রুত, অভিযোগ এবং ত্রুটি সম্পর্কে নিজেদের মাঝে আলোচনা বাদ দিয়ে সরাসরি ব্লগটিমের সঙ্গে আলোচনার পথটি আরো সহজতর করা। সেক্ষেত্রে যদিও ব্লগের ফিডব্যাক সিস্টেম অনেকটা সেকেলে, তবুও এই সিস্টেম দিয়েই আপডেট ওয়ে বাস্তবায়ন সম্ভব। সেক্ষেত্রে নিয়মিত ব্লগটিম হতে আপডেট জানাতে, এবং ব্লগারদের অভিযোগ বা ত্রুটি জানতে একটি পোস্ট দিলে মন্দ হতোনা। কারণ প্রতিটি পোস্ট পড়ে-পড়ে তার ত্রুটি বের করার চাইতে সবাই মিলে প্রাপ্ত ত্রুটিগুলো একসাথে করে ব্লগটিমকে পেশ করতে পারলে হয়তো ব্লগটিমের জন্যে সহজতর হতো। সেইসাথে রিপোর্ট এবং ইমেইল অপসনের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্যাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি করলে উত্তম হতো। কারণ, জাতি হিসেবে আমরা সর্ট-ট্যাম্পার্ড। তাই সমাধান পেতে দেরি সহ্য হয়না। তখন নিজেই ব্যবস্থা নিয়ে ফেলি। তবে সেক্ষেত্রে পাল্টা নীতিও দরকার। কেউ যদি অযথা অতিরিক্ত অভিযোগ বরাবর প্রদান করি তখন মূল সমস্যা কার সেটাও দেখা দরকার। সেক্ষেত্রে অভিযোগকারি দোষী হলে তাকেও নীতিমালার আওতায় আনা উচিৎ।

তবে ব্যক্তি আক্রমনের পাশাপাশি মনে হয় ব্লগটিমের সার্বজনীন সঠিক চাহিদার প্রতিও জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা দরকার। সে চাহিদা হোক ধর্মীয়, কিবা রাজনৈতিক। আলোচনা-সমালোচনা চলুক অবিরাম। কিন্তু এতে যেনো পারষ্পরিক সম্মান এবং ভ্রাতৃত্ববোধ অক্ষুণ্ণ থাকে ♥♥♥♥♥

লিখাটা অনেক বড় হয়ে যাওয়ায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ব্লগটিম, ব্লগার, সর্বোপরি সামুর যাত্রা সুন্দর এবং অব্যহত হোক।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ২:১৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×