
ইমন জুবায়ের
ইমন জুবায়ের
জন্ম: ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ – মৃত্যু: ৪ঠা জানুয়ারি, ২০১৩
শুরুতেই বলে রাখা ভালো- বাংলা ব্লগের অন্যতম নক্ষত্র ইমন জুবায়ের ভাই
পুরো নাম- জুবায়ের হোসেন ইমন। ‘ইমন’ তাঁর মেজোমামার দেয়া ডাকনাম। পরবর্তীতে ইমন জুবায়ের নামেই তিনি পরিচিত। তাঁর বাবা আবদুল মালেক পাটোয়ারী একজন আইনজীবী ছিলেন। মা- নুরুন্নেসা হামিদা বেগম, তিনি ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষিকা।চার বোন ও এক ভাই হলেও ইমন ভাই আর স্বাতী দু’জন পিঠাপিঠি ছিলেন।
শৈশব কাটে তাঁর নানাবাড়িতে। তিনি অবশ্য নানীর বাড়ি বলতে ভালোবাসতেন। কিশোর বয়সে তিনি ছিলেন খুব চঞ্চল প্রকৃতির। জলপাই গাছ বেয়ে বাড়ির ছাদে ওঠা, হরবরি গাছে উঠে দেয়াল টপকানো আর বন্ধুদের নিয়ে শহরময় ঘুরে বেড়ানো ছিলো তার নিত্যদিনের ব্যাপার। ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র তাঁর নজর কাঁড়তো। ফুটবল তাঁর প্রিয় খেলা। তিনি ছিলেন একজন সফল গোলরক্ষক। শূন্যে উড়ে বল গ্রিপ করার নৈপুণ্যে তাঁর খুব নাম ডাক ছিলো। বল ছিঁটকে বেরিয়ে আসার আগেই বুঝতে পারতেন বল কোন দিকে যাবে। তিনি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাপোর্টার ছিলেন। এছাড়া ক্রিকেটও ভালো খেলতেন তিনি। তিনি স্পিন বলার হলেও অনায়াসেই বল তালুবন্দি (ক্যাচ) করতে পারতেন। প্রিয় দল বাংলাদেশ, তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ছেলেবেলার বন্ধু পাড়ার গৌতম, শাকিল ও পার্থ। শৈশব থেকেই তিনি গান শনতে পছন্দ করতেন।
এতো কিছুর পরও তিনি প্রচুর বই পড়তেন। বইয়ের পোকা যাকে বলে। এই অভ্যেসটা তিনি মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তাঁর প্রিয় সিরিজ ছিলো ‘কুয়াশা’, ‘দস্যু বনহুর’, ও ‘দস্যু পাঞ্জা’। তাঁর কোনও এক লেখায় তিনি লিখেছেন- “ছেলেবেলায় আমার চারপাশে ছিল বইয়ের অফুরন্ত সম্ভার। রাস্তার ওপারে ‘সবুজ লাইব্রেরি’ নামে বইয়ের একটা দোকান ছিল। আজও আছে। বিকেলের দিকে যেতাম দোকানটায়। এক টাকা কি দুই টাকায় ‘কুয়াশা’ সিরিজ পাওয়া যেত। অবশ্য কেনার মতো পয়সা ছিল না। আমার মুখ দেখেই হয়তো দোকানের লোকটার দয়া হত। বইয়ের পাতা ভাঁজ না করার শর্তে আমাকে ‘কুয়াশা’ সিরিজের বই পড়তে দিতেন। ফাঁকা ফুটপাতের ওপরই পড়তে বসে যেতাম। কী নির্জন রাস্তা; জনশূন্য শান্তিনগর মোড়। দশ/পনেরো মিনিট পর পর একটা রিকশা কি একটা মাজদা গাড়ি কি রামপুরা- গুলিস্তান রুটে সবুজ রঙের ধ্যাড়ধ্যাড়া মুড়ির টিন যেত। সেই ১৯৭৭/৭৮ সালের কথা ... পড়তে পড়তে সন্ধ্যা নেমে আসত। আমিনবাগ জামে মসজিদ থেকে মাগরিবের আজান ভেসে আসত। দোকানে বই ফেরৎ দিয়ে রাস্তা পার হয়ে বাড়ি ফিরতাম ...”।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, নীহার রঞ্জন ও নিমাই ভট্টাচার্য এর বই তার প্রিয় ছিলো। আশুতোষের ‘সোনার হরিণ নেই’ পড়ার পর অনেক দিন তাঁর মন খারাপ থাকে।
প্রিয় এই মানুষটি ছেলেবেলায় শুধু গল্পের বই-ই পড়েন নি। অন্যদের তুলনায় তার জ্ঞান আহরণ প্রক্রিয়া ছিলো ভিন্ন। ক্লাসের পড়ার বাইরেও তিনি মৌলিক ও বৈষয়িক শিক্ষা লাভ করেন (যদিও সেসবের পুরোটা তাঁর অপরিণত মাথায় ধরতো না)। তাঁর লেখায় তিনি বলেছেন- “ইডেনে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময়ই আমার আম্মার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল । ভীষণ জেদি মহিলা ছিলেন। এম . এ পাস করবেনই । একটা মেয়েদের স্কুলে পড়াতেন। তারপরও জগন্নাথ কলেজে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে নাইট শিফটে এম.এ ক্লাসে ভর্তি হলেন । সন্ধ্যার আগে-আগে আম্মার সঙ্গে মালিবাগ মোড় থেকে ঠেলাঠেলি করে মুড়ির টিনে উঠতাম । গন্তব্য বাংলাবাজার। বড় একটা হল ঘরে বাতি জ্বলত, বেঞ্চর ওপর বসে থাকা ছাত্রছাত্রীরা কেমন শান্ত, জীবনহীন, ছায়া-ছায়া; বুড়োমতন একজন স্যার কীসব বলে যেতেন। পরে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে পড়েছি । অথচ শৈশবেই ইতিহাসের অধ্যাপকের ক্লাস আমার করা হয়ে গেছে। আম্মা পড়তেন রান্না করার সময় । আব্বা আইনজীবি। মামলা-মোকদ্দমার জন্য গ্রামের বাড়ির থেকে লোকজন আসতেই থাকত। এ ভাত খাবে তো ও রুটি খাবে; এর অজুর জন্য গরম পানি চাই তো ওর জন্য তরকারি গরম কর। আম্মা পড়তেন এসবই সামলে ...”
ছেলেবেলায় যে ইতিহাস বিষয়ে হাতে খড়ি হয়েছিলো মায়ের কাছে, সেই একই বিভাগে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
তিনি নি:স্বার্থভাবে লিখতে পছন্দ করতেন। তার সব লেখা-ই বলতে গেলে ব্লগে প্রকাশিত। সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মতত্ব, চিত্রকলা, সঙ্গীত ও মিথোলজিসহ নানান বিষয়ে তার লেখনীর পদচারণা আজও বিদ্যমান। তাঁর বেশকিছু লেখা নারীর অধিকার বিষয়ক। এর মাঝে ‘ অ্যাসিড রেইন’, ‘আরও একজন ’ ও ‘তাক ’ অন্যতম। একটা সময় যখন ব্লগে সৃজনশীল সাহিত্যের অভাব বিরাজ করছিলো- ঠিক সেই সময়ে নিরলসভাবে তিনি দিনের পর দিন সাজিয়ে গেছেন জ্ঞানগর্ভ মূল্যবান লেখাগুলো। পনেরোশত পোস্ট। কম নয়। আবার এর একটাও ফেলে দেবার নয়। বরং তাঁর একেকটা লেখা অনেক ধরণের তথ্যপূর্ণ হতো।
তিনি ছোটকাগজেও লিখতেন। ‘অনুপ্রাণন’ এর কোনও এক সংখ্যায় ‘একদিন গৌতম বুদ্ধ’ ছাপা হয়েছিলো। ‘শিরদাঁড়া’-তে প্রকাশিত হয় ‘আমার তো কপিলে বিশ্বাস’, ‘পূর্বাহ্নের আগুন’, ‘অন্ধকারে সব মুছে যাবার আগে’ ও ‘আগুনের গলি’।
লেখালেখির পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ব্ল্যাক’ এর গীতিকার ছিলেন। বলতে গেলে ব্ল্যাক এর যাত্রা ইমন ভাইয়ের বাসা থেকেই। তিনি প্রায় ত্রিশটির মতো গানের কথা লিখেছেন। তাঁর লেখা কিছু গীতি এখান থেকে পাওয়া যাবে।
রাগ পূরবীর প্র্যাক্টিসে ইমন ভাই
তিনি ছিলেন ২০১১ সালের সেরা ব্লগার। সে বছর “দ্য বব্স” এর আন্তর্জাতিক সেরা ব্লগার প্রতিযোগিতায় ডয়েচে ভ্যালে’তে “বেস্ট বাংলা ব্লগ” ক্যাটাগরিতে তিনি মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু নিজে থেকেই তিনি তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
তাঁর সর্বশেষ লেখা ছিলো অতিপ্রাকৃত গল্প: সতরই জুলাই । কিন্তু আজ সতরই ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্মবার্ষিকী। আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়- তাঁর শেষ লেখার শিরোনামের সাথে তাঁর জন্ম তারিখের কোথাও কোনও মিল আছে।
গান আর লেখনী। লেখনী আর গান। এই দু’টোর পরে কর্মজীবনকে তিনি বৈবাহিক জীবনে রূপান্তর করতে চান নি। অধ্যবসায়ে ব্যাঘাত ঘটবে সেই সঙ্কায় তিনি বিয়ে করেন নি। কিন্তু লেখালেখিতে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রেমের ফলে তিনি ব্যক্তিজীবনে শরীরের প্রতি যত্ন নিতে পারতেন না। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নেয়া হয়। কিন্তু ২০১৩ ৩রা জানুয়ারি হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কথা ছিলো পরদিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। কিন্তু তার আর হয়নি। মাঝরাতে (৪ঠা জানুয়ারি) তিনি এই পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে ওপারে পাড়ি জমান। আনুমানিক ২.৩০ মিনিটে। ভালো মানুষগুলো মনে হয় এইভাবেই পৃথিবীকে ছেড়ে যায়।
এলাকার আমিনবাগ জামে মসজিদে জুম্মা নামাজের পর তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন বিকাল প্রায় চারটার দিকে তাকে সমাহিত করা হয়। তিনি এখন শুয়ে আছেন আজিমপুর সমাধিক্ষেত্রে।
ইমন ভাই এর লেখা গান
প্রতিমুহূর্তে
প্রতীকে আমার বিশ্বাস নেই
সব কিছু খুলে দেখতে চাই
মৃত্যুর মূলে ঘ্রাণ চাই আমি
এমনকি তোমার জীবনের ভেতর
এখন অন্ধকারই একমাত্র সত্য মনে হয়
মনে হয় আমিও অন্ধকারের এক জীব
যে আলোর দিকে যেতে যেতে
মুখ থুবড়ে পড়েছি আঁধারে
রক্তাক্ত মুখের আর্তনাদ
উঠেছে হৃদয়ের গভীরে, প্রতিমুহূর্তে
বুকের ভেতর কাঁদছে কেউ অনন্তকাল
আমার রক্তাক্ত কোষের অজস্র সরীস্রিত
ক্রমাগত ছোবল মারতে উদ্যত
আতংকে শিউরে উঠছি প্রতিমুহূর্তে।
———————————————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের। ব্যান্ডঃ স্টেনটোরিয়ান। এলবামঃ প্রতিমুহূর্তে।
========================================
মনে পড়ে না?
সবাই চলে গেলে শুন্যতা জমে উঠে
বুকের ভেতর বাজে কারো কারো গান
এসব অর্থহীন স্বপ্ন মনে হয়
কারো ফেলে যাওয়া ফুল তুলে নেই আমি
তখন রাত্রির বুকে অন্ধকারে এক
পরিচিত সুর ভেসে এলে
মনে পড়ে নারে
মনে পড়ে নারে নারে না
মনে পড়ে না, রাত্রি নামছে ধীরে
তারপর দীর্ঘরাত, অবশেষে ভোর
হারানো সমুদ্রের পাড়ে নাবিকের গান
বাতাসে কিছু সুর ভেসে আসে
শোকে মগ্ন বুকেরই পাশে।
———————————————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের। ব্যান্ডঃ স্টেনটোরিয়ান। এলবামঃ প্রতিমুহূর্তে।
========================================
অদৃশ্য যুদ্ধ
এই রাত্রির শেষে জেগে উঠবে ভোর
এই ভোরের বিষন্ন আলোয় দেখো
নিহত আত্মার গান
এরকমই দিনকাল কুয়াসাময়
তোমরা কেউ সতর্ক নও বলে
পথের দু পাশে অজস্র লাশ
এ কার নিয়তি বলতে চাও
দিকভ্রান্ত নিয়তির শুনি চিৎকার
অদৃশ্য যুদ্ধ চলছে
চারদিকে বিপন্ন প্রহর
মানুষের চোখে ফুটে আছে বিস্ময়
কতকাল এভাবে কাটবে বলো।
———————————————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের। ব্যান্ডঃ স্টেনটোরিয়ান। এলবামঃ প্রতিমুহূর্তে।
=======================================
ভয়
অনেক ভয় জমে আছে মনে
যদি ভাঙতে পারো তুমি
তাহলে সাথী হবে আমার
আমার ভয়টা ভাঙ্গাবে তুমি
তোমার ভয়টা কোন খানে জানি
এসোনা রোদ্রে হাত মেলি
স্নান করি সাগরের জলে
এসো না যাই দূর দিকে
তোমার পায়ে আজ কেন শেকল
ভেঙ্গে দেব আজ পরাবো নূপুর
মাঝ পথে ভেঙ্গে যায় স্মৃতি
রেখে যায় পদচিহ্ন
চারদিকে শকুনের দল
খাবলে নিচ্ছে মানচিত্র।
———————————————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের। ব্যান্ডঃ স্টেনটোরিয়ান। এলবামঃ প্রতিমুহূর্তে।
========================================
অদৃশ্য যুদ্ধ-২
তোমরা কেউ সতর্ক নও বলে
পথের দু পাশে অজস্র লাশ
অদৃশ্য যুদ্ধ থামেনি
অদৃশ্য যুদ্ধ চলছে
ক্রমস সব ডুবছে গাঢ় অন্ধকারে
আলো নেই বলে ছায়ারাও সরে গেছে দূরে
সবগুলো চোখে আজ ঘুমের চিহ্ন
অদৃশ্য যুদ্ধ থামেনি এখনো…
বাতাস আহত বলে কারো নেই ঘুম
তবু স্তব্ধ সব এখন মনে হয়
মুমূর্ষ সময়ের এ কেমন উত্থান
প্রতিশোধে জেগে থাকে মধ্যরাত
আমরা পতনের মুহূর্তের সাক্ষী হব
খন্ডিত সময়ের সমান্তরালে জেগে
অর্থহীন প্রলাপে ছুঁই নিমগ্ন চোখ
তারপর হলুদ আলোয় যাই ভেসে।
———————————————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের। ব্যান্ডঃ স্টেনটোরিয়ান। এলবামঃ প্রতিমুহূর্তে।
========================================
জলস্রোত
কখনও আবার হলো দেখা
ধর কোন জলস্রোতের কিনারায়
তুমি কি বলবে জানি না
আমি তো সব মুছে ফেলেছি
স্মৃতি থেকে……
জান কি কোন দিন হারালে ঐ মুখ।
গভীর শোক থেকে উঠে আসা এই আমি
নিহন সকালে একা শোক চিহ্ন মুছে
সবাইকে এড়িয়ে ছিলাম একাকী মনে।
অবরুদ্ধ চেতনার গ্রাসে ঝাপসা সবই
অনন্ত আঁধারে কেবল লক্ষহীন আমি
আজো দেখ আমার নির্বাক পথচলা
সাথে থাকে আমার শোকের ছায়া……
———————————————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের। ব্যান্ডঃ স্টেনটোরিয়ান। এলবামঃ প্রতিমুহূর্তে।
========================================
বিদ্রোহী
সব কিছু ভেঙ্গে ফেলে দাঁড়াবে কবে
নতুন করে সব সাজাবে কবে
এতসব অনিয়ম এতসব দূর্ভিক্ষের জাল
এতসব ভেঙ্গে ফেলে কর নতুন দিনের বিন্যাস
তোমার অপেক্ষায় আছে নিরন্ন লোক
তোমার অপেক্ষায় আছে শোকার্ত মা
তোমার অপেক্ষায় আছে নির্বাক পাখি
তোমার জন্য জাগে আকাশের চাঁদ
উঠে এসো সাহসী তুমি পাথুরে দেয়াল ভেঙ্গে
আগ্নেয়গিরির ধ্বংস ক্ষমতা নিয়ে চলে এসো তুমি
সাত সমুদ্র মথিত করে চলে এস বিদ্রোহী
অন্ধ তীরের মত বসে যাও ধ্বংসের চাতালে
———————————————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের। ব্যান্ডঃ স্টেনটোরিয়ান। এলবামঃ প্রতিমুহূর্তে।
========================================
অবিনশ্বর
এখানে যে ঘুমিয়ে, তার স্বপ্ন ছিল, উড়বার।
এক অন্তহীন আঁধারে আজন্ম বন্দী ছিল সে।
এখন সে বিপরীত আলোয়
আরো বেশি ঘোরে সচেতন
দৃশ্যের ওপারে দৃশ্য দেখে
একা একা তার শিহরণ
সবই এখন হাতের মুঠোয়
নেই ফেরার সাধ
স্মৃতি তবুও টানে শব্দহীন মৃত জগতে
এখন সে বিপরীত আলোয়
আরো বেশি ঘোরে সচেতন
দৃশ্যের ওপারে দৃশ্য দেখে
একা একা তার শিহরণ
———————————————————————————
কথাঃ জুবায়ের হোসেন ইমন। ব্যান্ডঃ ব্ল্যাক। এলবামঃ অনুশীলন
==========================================
অনুভূতি
বাতাসের হাত ধরে আছি
হারানো মেঘের খোঁজে
চোখের গভীরে আলো নেই
তাই এখানে এসেছি
পেছনে সবুজ মাঠ
তারপরে বালিয়াড়ি
সেখানে তুমি নেই
আছে তোমার অনুভূতি
এখন তো বৃষ্টি নেই
তবুও ভেজা মাটির ঘ্রাণ
এখন তো স্বপ্ন নেই
কেবলই বিষণ্ণ গান
পেছনে সবুজ মাঠ
তারপরে বালিয়াড়ি
সেখানে তুমি নেই
আছে তোমার অনুভূতি।
———————————————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের। ব্যান্ডঃ স্টেনটোরিয়ান। এলবামঃ প্রতিমুহূর্তে।।
=========================================
একজন
কে আমি এসব ভেবে নির্ঘুম কাটে রাত
উত্তর নেই কেন এই প্রশ্নের, কেন ?
তুমি খুব ভোরে এখানে এসেছ
দেখছ ম্লান আলোয় অনেক মানুষ
দাড়িয়ে নির্বাক জগতে।
দেখো পথ গেছে বেঁকে দিগন্ত অবধি
যেখানে ঝড়ে চাঁদ, নীল জোছনার আলোয়
তুমি খুব রাতে এখানে এসেছ
দেখছ নিয়ন আলোয় অনেক মানুষ
ঘুমিয়ে নির্বাক জগতে
কেন এই প্রশ্ন ?
—————————
কথাঃ ইমন জুবায়ের
ব্যান্ডঃ ব্ল্যাক
এলবামঃ ব্ল্যাক
============================================================================
তথ্য সূত্রঃ
http://ikhtamin.blogspot.com/
ও অন্যান্য
আমার দেয়া তথ্যে কোন ভুল ক্রুটি থাকলে দয়া করে শুধরে দেওয়ার অনুরোধ থাকলো । শ্রদ্ধেয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের সম্পর্কে
কেউ কিছু লিখছে না বলেই আমার এই প্রচেষ্টা । ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



