
পার্কের মধ্যে সবচেয়ে বড় কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে বসে অপূর্ব কয়েক ঢোক জল খেলো।বোতলে বেশি জল নেই। আজ বেশ গরম পড়েছে।সে চটের ব্যাগ থেকে একটা পুরানো রুমাল বের করলো। রুমালটিকে সে প্রথমে জল দিয়ে ধুলো তারপর সেই রুমাল সে মুখে চেপে ধরলো। এটা তার ক্লান্তি কাটানো একটা প্রক্রিয়া।প্রজেক্টের নাম গরীবের এসি।
আহ শান্তি!দেহ মন যেন জুড়িয়ে গেলো।
শরীরটা থিতু হতেই পেট জানালো জ্বালানি প্রয়োজন।কিন্তু পকেট তো গড়ের মাঠ? এখন?
ভাবতে ভাবতে মুখ থেকে রুমাল সরাতেই অপূর্ব দেখলো তার পাশে অচেনা এক মেয়ে বসে আছে। অসম্ভব রুপবতী মেয়েটির দিকে তাকিয়ে সে বিষ্ময়ে হাঁ হয়ে গেলো।
কিছুক্ষণ পরে মেয়েটির বিরক্ত ভরা প্রশ্ন আসতেই সম্বিত ফিরে এলো তার।
-কি ব্যপার ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছেন কেন? কোন কালে মেয়ে দেখেননি নাকি?
-আপনি কে?
-আমি বলতে বাধ্য নই।
-এখানে কি?
-এখানে কি মানে? এই পার্কটা কি আপনার? কেনা?
-মানে আমার পাশে কি?
-এবার নিশ্চয় বলবেন এই বেঞ্চটা আপনার পারমানেন্ট?
-পারমানেন্ট না হলেও এখানেই আমি বসি।
-ইশ !চেম্বার বানাইছে।এখানে আমি বসি।বললেই হলো।
-দেখুন এমনিতে খিদাতে আমার মাথা গরম তার উপরে আরো গরম বাড়ায়ে দিয়েন না।
-খিদা পাইছে তো আমি কি করবো? আসছে মেজাজ দেখাতে।
-আপনাকে কখন মেজাজ দেখালাম বলুন তো। শুধু শুধু ঝগড়া করছেন।
-এই ভালো হবে বলছি। আমাকে ঝগড়াটে বলবেন না।
-আপনাকে আমি কখন ঝগড়াটে বললাম। আজব তো।
-আপনি আজব।আজব নাম্বার ওয়ান।
অপূর্ব দেখলো পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। অচেনা একটি মেয়ের সাথে তার ঝগড়া করা ঠিক হচ্ছে না। সে উঠে পড়লো। খাদ্যের সন্ধানে বের হতে হবে। বড় বেশি ক্ষুধা পেয়েছে।
হঠাৎ মেয়েটি বলল,
-কি ব্যাপার কোথায় চললেন?
-বলতে বাধ্য নই আমি।
-আমিও যাবো।
-কোথায়?
-আপনার সাথে।
-আপনার কি মাথা খারাপ? স্ক্রু ঢিলা।
-আপনি প্লিজ আমাকে একা ফেলে যাবেন।একা একা আমার খুব ভয় করে।
হঠাৎ করে কেন যেন এই অপূর্ব রুপবতী মেয়েটির প্রতি মায়া জন্মালো।কে মেয়েটি? আহা এমন করে কেউ বলে নাকি? নিশ্চয় বিপদে পড়েছে। কি ভেবে সে পার্কের বেঞ্চে আবার বসে পড়লো। খিদেটা সত্যি খুব বেশি পরিমান জানান দিচ্ছে।সে মেয়েটির দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল।
-আপনার নামটা কি বলা যাবে?
মেয়েটি হঠাৎ যেন লাজবতী কন্যা হয়ে কুকড়ে গেলো, বলল,
-আমার নাম মোহিনী।
অপূর্বর খুব ইচ্ছা করলো মোহিনীর হাতটা একটু ছুয়ে দেখে। কিন্তু এই কড়া রোদ গরমে তার ভিতর থেকে কে যেন স্মরণ করিয়ে দিলো ।চড় থাপ্পর খাবি নাকি?অপূর্ব অন্য চিন্তা বাদ দিয়ে মোহিনীর দিকে মিষ্টি করে হাসলো।বলল,
-তোমার নামটা খুব সুন্দর তো।
চলবে
ছবিঃগুগোল থেকে
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



