
জহির গাজী প্রতিদিন নিয়ম করে সকালের নাস্তা সেরে স্হানীয় বাজারে নির্দিষ্ট একটা টং দোকানের পিছনের চালায় চৌকিখাটে এসে সটান শুয়ে পড়েন।
সেই দোকানের নীচ থেকে রাস্তায় চলাচলরত মানুষের মুখ দেখা না গেলেও কোমর থেকে পা অবধি ভালোই দেখা যায়।
এখানে বিশেষ করে গরমের সময় খোলা মাঠ হতে দখিনা বাতাসের তীব্র বাতাস বয়ে যায়। যা অতি মনোরম। নির্দিষ্ট কিছু মানুষের নিম্নাঙ্গ দেখা আর বাতাস খেয়ে জহির গাজীর শরীর মন দুটোই জুড়ায়।
এই চালায় অবস্থান করা তার বহু বছরের পুরানো অভ্যাস।
ইদানীং বাজারের উঠতি চ্যাংড়া ছেলেরা এই নিয়ে কানাঘুষা করলেও তিন কন্যা সন্তানের পিতা জহির গাজীকে ঘাটানোর সাহস কারো নেই। কারণ জহির গাজী লোকটি মোটেও সহজ সরল নয়।
জহির গাজী এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি। সম্পন্ন গৃহস্থ মানুষ।বিচার সালিশ বৈঠকে তিনি প্রথম সারির মোড়ল মাতব্বর। দৈনন্দিন জীবনে কাজ বলতে তার এটুকুই। নিত্য অন্যান্য কাজ তার না করলেও চলে।বাকি সময়টুকু অখণ্ড অবসর।
অলস সময় টুকু বন্ধু মনিরুলের সাথে এখানে এই চালায় কাটাতে তার দারুণ ভালো লাগে।
নানা রসালো আলোচনায় তাদের সময়টা বেশ ভালো কাটে।
সকালের দিকে দোকানের নিচ দিয়ে স্কুল পড়ুয়া কচি কচি পুতুলের মত মেয়েগুলোর পা ও নিতম্ব দেখে তারা অন্যরকম সুখ খুঁজে পায়।
আহ শান্তি বটে!
এই অকাজে তার সঙ্গী মনিরুল ইদানিং একটা ভিডিও ফোন জোগাড় করে এনেছে। তার ছেলে নাকি মালয়েশিয়া থেকে পাঠিয়েছে।
তা যন্ত্রটি বেশ কাজের বলাই বাহুল্য ।
পছন্দের শিকারের ছবি বা ভিডিও ধারন করতে কোন বাঁধা নেই। কেউ জানতেই পারে না তাকে চিরতরে বন্দি করে ফেলা হয়েছে।
পরবর্তীতে যত খুশি রসিয়ে রসিয়ে দেখ আর সুখ খুঁজে নাও। এই অসুস্থ দুই রুগির রুচিবোধ প্রচন্ড রকম নিম্নগামী।
বাতাসে জহির গাজীর ঘুম জড়িয়ে এসেছিল।সেই সময় মনিরুল একটা মেয়ের পা ও নিতম্বের ছবি ভিডিও করেছে । মনিরুল বলেছে স্পেশাল মাল!
স্পেশালই বটে!
হালকা তন্দ্রা শেষে এই ভিডিও দেখে জহির গাজীর যৌবন সেই বিশ বছরের যুবকের মত তড়াক করে লাফিয়ে উঠেছে।এতটাই মজেছে যে সে মনিরুলের কাছ থেকে নিজেই ভিডিও ফোনটা একবেলার জন্য চেয়ে রেখে দিয়েছে সে।
দুপুরে খাওয়া পর্ব শেষে ভাত ঘুম দেওয়ার আগে রসিয়ে রসিয়ে ভিডিও দেখে আয়েশ মিটিয়ে উপভোগ করবে বলে বারোটার আগে বাড়ি চলে এসেছে।
সকাল সকাল স্নান খাওয়া সেরে নেয় জহির গাজী। ফাঁকা বাড়ি বউ গেছে পুকুরঘাটে। মেয়েরা স্কুলে। এ সময়ে বাইরের ঘরে ভিডিওটা উপভোগ করছে সে। নানা চিন্তায় তার মাথা অস্থির হবার মত অবস্থা। যে কোন সময় ঘটনা দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
হঠাৎ জানালা দিয়ে সিং দরজার দিকে দৃষ্টি যেতে ছবির ভিডিওটির যেন বাস্তব রূপ দেখল।সেই একই দৃশ্য।
এ যেন মেঘ না চাইতে পানি।
ভিডিও স্ক্রিনে সেই পা সেই হাঁটার ভঙ্গি এমন কি সেই একই নেইল পালিশ মেয়েটির পায়ের পাতায়। সলোয়ার ও চটি জোড়াও অবিকল এক।
কিন্তু মুখের দিকে তাকাতেই বাস্তবে এসে বড় একটি ধাক্কা খায়। সম্বিৎ ফেরে তার। এ যে তার নিজেরই বড় মেয়ে জয়নব!
কি লজ্জা! কি লজ্জা!!
কি পাপ! কি পাপ!!
জহির গাজী আচমকা কেঁপে উঠে মাথা ঘুরে পড়ে যায় ঘরের মেঝেতে। মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরিয়ে আসে।..........
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৯:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




