
কুলুঙ্গি হতে উৎসারিত পিলসুজের লালচে আলোয়
তোমার ছায়া ছায়া মায়া ভরা মুখ
আর
মন ভালো করা সন্ধ্যা।
নারকোল তেল মাখা আঁটো সাটো করে বাঁধা চুল
সিঁথিতে রক্ত লাল সিঁদুর
কপালে টিপ
সাথে
আলতা রাঙা পায়ে
রিন ঝিন ঝিন নূপুর বাজে।
হলুদাভ মুখমন্ডল জুড়ে হালকা প্রলেপের তিব্বত স্নো
বাহ!
মিল করে আবার পরেছো
লাল পেড়ে কমলা রঙের শাড়ি।
সেই লাগছে তোমায়!
নাকছাবিটিও বেশ।
ভ্রু জোড়া আঁকনি
তবু দেখতে অনন্য।
একদম সরল শান্ত প্রাকৃতিক
যেখানে পড়েনি'কো বেওয়ারিশ হাত
লাগেনি কোন নাগরিক ছোঁয়া।
মন টানে
বারেবার
দৃষ্টি!সেতো নয় ফেরাবার।
দুষ্টু বালিকা কোথাকার!
তুমি যখন সত্যি বালিকা ছিলে
একদম নিপাট নিঁখুতকালে
সেই সময়
তোমাদের ঘরের ঠিক মাথার উপরে
কলা গাছের পাতা ফাঁকে উঁকি দিত কোজাগরী চাঁদ
আর উঁকি দিতাম আমি
শুধু তোমায় দেখার লোভে।
মায়াময় অপরূপ সুন্দরী!
তুমি, নাকি ওই জোছনা?
প্রতিযোগীতা চলতো।
তুলনাও চলতো
অবিরাম অবিরত!
নতুন টিনের চালে জোছনার প্রতিবিম্বে
আমি বিভ্রান্ত হতাম।
আমি উদভ্রান্ত হতাম।
খুব করে
তোমায় স্পর্শ করার সাধ হতো।
-কি ভাবছো এত? হাত ধুয়ে নাও দিকিনি!
আমি ফিরে আসি বাস্তবে।
যেথা মায়া মায়া সন্ধ্যা আর তুমি আছো সগৌরবে।
দাওয়ায় পেতেছো আসন
বেড়েছো সাদা গরম ভাত
সাথে বেগুন ভাজা আর ঘি।
আর?
জিওল মাছ দিয়ে আলু বড়ি।
বললাম,
একটা কাঁচা লঙ্কা আর পেঁয়াজ হবে কি?
তুমি কাছে এসে হাত পাখা ঘুরাতে ঘুরাতে বললে,
সব আছে ঠিক ঠাক দেখে নাও।খুঁজে নাও। শুধু আমায় দেখলেই হবে?
আমি ভাত মেখে তোমার মুখে তুলতেই তুমি
হেসে বললে,
খাও তো খাও,স্বাদ হয়েছে কি না দেখ। আমি খাবোনি।
আমি বললাম,
খুব স্বাদ হয়েছে । তুমিও খেয়ে দেখো একবার।
আমার হাতে মাখা
এক লোকমা ভাত!
কি যে ছেলেমানুষি করো,লোকে দেখবে। নিন্দে মন্দ কবে।
আবার চুপচাপ।
ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে কোথাও।
-শুনছো?
-শুনছি তো,বলো।
-বুধবারের হাটে চাপা কলা এনো তো। দুধ ভাত মেখে খাবো।শুনেছি চাপা কলা দিয়ে দুধ মেখে ভাত খেলে নাকি যে আসছে তার গায়ের রং ফর্সা হয়।
আমি খ্যাক খ্যাক করে গা জ্বালানো হাসি দিয়ে বললাম
-কে আসছে গো? আমি চিনি তাকে?
তুমি একগুচ্ছ রাগ বয়ে নিয়ে সোজা খিল দিলে ঘরে।
নাহ আবার মানভঞ্জন করতে হবে দেখছি..….
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৯:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




