somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ একজন আর্তের আত্মকাহিনী

১৮ ই জুলাই, ২০২১ দুপুর ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি যে রেললাইনের দোরগোড়ায় আমার ঝুপড়ি ঘর হলেও কোনদিন মনের খায়েশ মেটানোর অভিপ্রায়ে রেলগাড়ীতে ওঠা হয়নি আমার।

এ কথা শুনে ভাবতে পারেন এটা আবার কোন কথা হলো? এ আর এমন কি ব্যপার টুক করে রেলগাড়ীতে উঠে পড়লেই তো হলো।

টুক করে রেলগাড়ীতে কতই তো উঠি কিন্তু বাবুরা অনেক সময় রেগে গালাগাল করে নামিয়ে দেন,তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন। আর এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে রেলগাড়ী চড়াকে কি রেল ভ্রমণ বলে?

আমি সেই অর্থে রেলগাড়ী চড়াকে বোঝাতে চেয়েছি যেমনটি সবাই মিলে দুরে কোথাও বেড়াতে যায় আত্নীয় পরিজন নিয়ে।

আত্নীয় পরিজন!

কথাটা শুনতে বেশ।কিন্তু আমার নিজের আত্মীয় পরিজন বা আপনজন বলতে এ পৃথিবীতে কেউই নেই।

বাবা কোথায় থাকে কি করে বা করতেন তা জানি না। জানা সম্ভবও না কোনকালে,তো সেই সূত্রে কোন আত্নীয় থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

আর মা? সে তো পাগলী ছিল তাকে সবাই দুলু পাগলী বলে ডাকতো। এমন অদ্ভুত নাম তার কি করে হলো তা না জানতে পারলেও এটুকু অনুমান করতে পারি যে সে পাগলামির সময় মা দুলে দুলে গান গাইতো।তাই তার নাম দুলু পাগলী।

সেই দুলু পাগলীর কখনও বিয়ে হয়েছিল কিনা কেউ সেটা বলতে না পারলেও তার গর্ভে আমি হয়েছি এটা কিন্তু সবাই জানে। তাই জ্ঞানত দুলুই আমার মা।

সেই মা আমায় জন্ম দিলেন ঠিকই কিন্তু পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে জন্ম হয়নি আমার।বোঝাতে পারলাম না হয়তো।আসলে জন্মের থেকে আমার দুই পা নেই।

অদ্ভুত!

এটাই নিয়তি। আরেকটু বড় যখন হলাম তখন একটা দূর্ঘটনায় আমার ডান চোখে খোঁচা লাগলো। কী যে যন্ত্রণা বলে বোঝাতে পারবো না আমি। দিনগুলো অনেক কষ্টে গেছে।

অনেকদিন লেগে ছিল ক্ষত শুকাতে।ক্ষত তো শুকালো।কিন্তু আমি একচোখে দৃষ্টি হারালাম।

বাবুমশাইরা নিজের কথা অনেক বললাম।প্রতিদিনই বলি বলতে হয়।আজ আর বলতে পারছি না বাবুমশাই। মাথাটা ঝিমঝিম করছে।পেট জ্বলে যাচ্ছে। খুব খিদে পেয়েছে।খুব....

গতকাল থেকে কিছু খাইনি,শরীর জুড়ে প্রচন্ড জ্বর আর ক্লান্তি।একটু সাহায্য চাইছি।
দুটো টাকা অথবা কিছু খাবার হবে কি বাবুমশাইরা?

হঠাৎ একজন মোটাসোটা লোক আমার দিকে তেড়ে এলো।
-নাম! নাম বলছি।

-নামবো কেন আমি কি করেছি অমন করছেন কেন?

-নামতে বলছি নেমে যা।

-একটু কিছু সাহায্য করুন।আমার পা নেই এক চোখ অন্ধ। আমি অক্ষম মানুষ। একটু সাহায্য চাইছি...

ওকি? একি করছেন? আমায় মারছেন কেন? কি করছি আমি? চুরি তো করিনি? আমি লুলা অক্ষম মানুষ একটু দয়া করবেন তা না আমায় মারছেন।কেন মারছেন? এ কেমন বিবেক আপনাদের?

তারা আমায় মারতে মারতে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিলেন। কে একজন বলল,
-কোন কমন সেন্স আছে এই বেহায়াগুলোর? করোনা নিয়ে উঠেছে ট্রেনে এই রাস্কেলগুলোর জন্য তো করোনা ছড়াচ্ছে।

কি করে বোঝাই এদের আমি যে আমার করোনা হয়নি। একটু জ্বর হয়েছে। আর খুব খিদেও পেয়েছে।
একটু সাহায্য চাইছি বাবুমশাইরা।......

আমি পরবর্তী ট্রেনের অপেক্ষা করতে লাগলাম... যদি কিছু খাবার অথবা টাকা মেলে।
ক্ষুধার জ্বালার মত নিষ্ঠুর কিছু এই পৃথিবীতে নেই। এ কথা কি করে বোঝাই.........
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৯:১২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯



রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।

চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×