somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনু গল্পঃ বায়োলজিকাল প্যারেন্টস

২৩ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোজো ভাত নিয়ে বসেছে ঠিকই কিন্তু দু এক লোকমা মুখে দিয়েছে কি দেয়নি অমনি আনমনা হয়ে আবার কি যেন ভাবতে বসে গেছে।

সে যে অন্যজগতে বিচরণ করছে তা তার বিষন্ন চেহারা আর আঙুল দিয়ে চুপচাপ ভাত মাছ নাড়াচাড়া করা দেখেই বোঝা যাচ্ছে ।

জোবাইদা খানম কয়েকবার গভীরভাবে লক্ষ করলেন, কিছুটা সময় নিলেন তারপর গলার স্বরটা ভারি করে বললেন,

-কি হলো খাচ্ছো না কেন?ভাতে তো পানি উঠে যাবে।

-মা তুমি এত বড় একটা ব্যাপার এতটা বছর ধরে কেন গোপন করে রাখলে?

-প্রয়োজন ছিল,আবশ্যকও ছিলো তাই গোপন করেছি। যা করেছি তোমার ভালোর জন্য করেছি।আমার ধারণা আমাদের অবস্থানে যদি তুমি থাকতে তবে তাই করতে নিশ্চয় ।

- না অবশ্যই করতাম না।

-যা করা হয়েছে তোমার ভালোর জন্য করা হয়েছে।

-আমার বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে।

-তোজো আমি তোমার সাথে এই ব্যপারে আর আলোচনা করতে চাচ্ছি না।

-কেন? কেন আলোচনা নয়?

-প্রয়োজন মনে করছি না তাই ।

-জ্ঞান হওয়া অবধি অন্য একজনকে কি করে আমার বাবা বলে পরিচয় করিয়ে দিলে বলতো? ছি! কিভাবে এটা পারলে?

-এই সামান্য একটা ব্যপার নিয়ে কেন এত পেঁচাচ্ছো? বুঝতে পারছি না তো কিছু ।কি চাও তুমি?

-এটা মোটেও সামান্য ব্যপার নয়।আমার শিকড় আমার পরিচয় আমার মান সম্মান সব এর সাথে জড়িত।

জোবাইদা খানম অনেক কষ্টে নিজেকে সামলালেন।এখন কিছু কড়া কথা তাকে বলতে হবে। তিনি বুঝতে পারছেন না, বলা ঠিক হবে কি না।তবুও তিনি শুরু করলেন।

-শোন তোজো তোমার উচিত তোমার বর্তমান নিয়ে ভাবা।নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি যত্নশীল হওয়া। ভবিষ্যৎ জীবন কীভাবে সাজাবে সেসবের দিকে বেশি নজর দেওয়া তা না করে তুমি শিকড়, পরিচয়, অতীত এসব নিয়ে বিশ্লেষণ করে নানা ভাবনা ভেবে ভেবে অযথা সময় নষ্ট করছো। যে লোকটা এতদিন ধরে এত মাস এত বছরের এত এত মূল্যবান সময় তোমার পিছনে ব্যয় করলো নিঃস্বার্থভাবে, তার কি কোন মূল্য নেই। তুমি কি বুঝতে পারছো না যে এতে করে সেই লোকটিকেই অসম্মানিত করা হচ্ছে। যাকে তুমি এতকাল নিজের বাবা বলে জেনে এসেছো।
কে আমার বাবা কে আমার বাবা বলে এতবার বলার কি আছে?এত ঘাটাঘাটি করারই বা কি আছে।যারা তোমাকে যত্ন করে এত বড় করেছে সুন্দর জীবন দেবার চেষ্টা করেছে তাদের দিকটা তোমার ভাবা উচিত ছিল।
যে বা যারা তোমাকে এই সব সত্যি মিথ্যা মেশানো তথ্যর সন্ধান দিয়েছে তবে তার কাছেই যাও। অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে যে তোমাকে বিভ্রান্ত করেছে তার কথাই গুরুত্বপূর্ণ আর বিশ্বাসযোগ্য হয়ে গেল। আর আমাদের কথা সব মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য উঠে পড়ে লাগলে। আমরা বুঝি সব বেনোজলে ভেসে এসেছি? কোন মূল্য নেই আমাদের কথার?

- মা! এভাবে বলছো কেন?

- মা বলার দরকার নেই। তোমার মুখে মা ডাক শোনার ইচ্ছা আমার মরে গেছে।

- মা প্লিজ, ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড।

-তুমি লোকের কথায় নাচছো তোজো।

-আমি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি এই সব নানা ভাবনায়। আমি সমাজে কি করে মুখ দেখাবো বল তো? আ'ম জাস্ট শকড।
আমি ভাবতেই পারছি না আমার মায়ের দুই স্বামী। কেন তুমি বাবাকে ছেড়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে? কি করেছিল বাবা?

-এবার কিন্তু তুমি আমায় অপমান করছো।

-তুমি ভুল বুঝছো মা।

-এত দিনের ভালোবাসা অধিকারের সম্পর্কের কোনই কি মূল্য নেই? সব তুচ্ছ?

-তার জন্য আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞতা।

-শুধু এটুকুই। ব্যস!

-আর কি করতে হবে।গায়ের চামড়া দিয়ে জুতো বানিয়ে ঋণ শোধ করতে হবে?

-অনেক বড় বড় কথা বলে ফেলছিস তোজো।আমাকে দুঃখ দে সে ঠিক আছে। লোকটিকে এভাবে অপমান করিস না প্লিজ।

- আমার বাবা কি এতই খারাপ ছিল? কি করেছিল সে, তাকে ছেড়ে তুমি ইনাকে বিয়ে করলে কেন? আমি সত্যটা জানতে চাই।

-তোজো আমি জানি না তুমি কার কথায় এসব বলছো বা করছো। তুমি হয়তো ঠিক এখন হয়তো সময় এসেছে সত্য প্রকাশিত হবার। তবে তাই হোক। সত্য প্রকাশিত হোক।সবটা শুনলে তুমি পারবে তো সইতে?

-কেন পারবো না। আমি তো তোমারই ছেলে নাকি?

-তবে আগে প্রথম সত্যটি শুনে রাখো, আমি তোমার গর্ভধারিনী মা নই। আর তুমি এখন যাকে বাবা বলে জানো তিনি আমার একমাত্র স্বামী এবং আমার বিয়ে একবারই হয়েছে। আমি বা উনি কেউই তোমার বায়োলজিকাল প্যারেন্টস নই।

তোমার আসল মা আর আমার নাম একই বলে তুমি অন্যরকম কিছু ভেবে বসে আছো। এমনকি তুমি আমার চরিত্রের প্রতি কটাক্ষও করেছো। উপকারের প্রতিদান এমন হবে যদি জানা থাকতো তবে হয়তো সেই সময় অন্য কিছু ভাবতাম।......

তোজোর মাথাটা ক্রমশ নিচু থেকে নিচু হয়ে এলো।

© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৯:১২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×