somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ েমন কেন ???

০৮ ই মে, ২০১৬ রাত ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় কয়েক মাস হল এক আপু দেখা করতে চাইছিল। আপুর বাসা সিলেটেই।আপুটা ডাক্তার।পরিচয় ফেসবুক এবং লেখালেখির কল্যানেই। অসুস্থ্য হলেই ওকে কল দিয়ে প্রেসক্রিপশন করে নিতাম। আপুকে বলতাম এ দিন দেখা করব, ও দিন দেখা করব। কিন্তু আমার ব্যস্ততা আর সিলেটে না থাকার কারনে সম্ভব হয়নি। সেদিন রাতে ও আমায় যখন বলল ও ঘুমের টাবলেট নিয়ে ঘুমাচ্ছে তখন খুব খারাপ লাগছিল। কারন ও ঘুমের টাবলেট একদম পছন্দ করত না। আমি ওকে কিছুদিন আগে এক ডিসপেনসারিতে গিয়ে কল দিয়ে বললাম বিক্রেতাকে বলতে আমায় যেন ঘুমের টাবলেট দেয়। ও শুনে আমায় খুব বকা দেয়।কিছুতেই দিবেনা। আমি একটু রাগ করলে ও বিক্রেতাকে ০.৫ পাউয়ারের মাত্র একটি টাবলেট দিতে বলে। দোকানদারের সাথে আমার সম্পর্ক ভাল,বিধায় নিজের ইচ্ছে মতয় নিতে পারি।শুধু দরকার ছিল একজন ডাক্তারের রেফারেন্স। যে আপু ঘুমের টাবলেট পছন্দ করত না,আজ সে ঘুমের টাবলেট নিয়ে ঘুমাচ্ছে। আবার রাতে যখন কথা হল তখন বলল, "আমি মরে গেলে এসে দেখে যাস। তোর তো এখন আর সময় হবেনা।"
,
ওর এই কথাটা আমার বুকের মাঝে খুব বেধে যায়।বুঝতে পারলাম ও ভাল নেই। আমি বললাম পরের দিন মাষ্ট দেখা করব। পরের দিন দেখা করতে গেলাম।
ও জব থেকে সরাসরি আসল।আমি কীন ব্রিজের নিচে দাড়িয়ে ছিলাম। ওকে যেখানে আসতে বলি সেখানে আসতে পারেনা। একটু দূরে দাড়িয়ে থেকে আমাকে সেখানে যেতে বলে। আমি ওর কাছে গিয়েই ঝারি মেরে বললাম," যেখানে আসতে বলি সেখানেও আসতে পারিস না??"
এরপর দুজনে নদীর পাশে গেলাম।
দাড়িয়ে ছিলাম, এরপর বসলাম। আমি চটপটির ওডার দেয়। ও আমাকে আগের দিন রাতেই বলে ও একজনকে খুব ভালবাসে। ও কে বললাম,
" কি হয়েছে বল।"
দেখি ওর চোখে জল টলমল করছে। এরপর সব বাধ ভেংগে ফোটায় ফোটায় গড়িয়ে পড়ে।সেদিন ও কয়েকবার এ ভাবে কেঁদে ফেলে। ওর সব কথা শুনে বুঝলাম আপু যাকে ভালবাসে সে ভাইয়া ওকে নিয়ে খেলছে।আপুকে ভালবাসেনা। ওকে অনেক বুঝানোর ট্রাই করলাম।ও সবি বুঝে কিন্তু নিজেকে মানাতে পারেনা।
,
আসলে যারা কাউকে খুব ভালবাসে তারা এমনই হয়। আমার খুব আফসোস হচ্ছিল ভাইয়াটার জন্য। ভাবছিলাম কত হতভাগা সে। এই আপুটা তাকে এত্ত ভালবাসে,আর সে কিনা এমন করছে। আপুর চোখের জলে আমি দেখেছি কতটা সুন্দর তার ভালবাসা। কতটা গভির তার ভালবাসা। তার এ চোখের জল মিথ্যে নয়। কারন আমি চিনি মিথ্যে চোখের জলকে। অনেকবার দেখেছি মিথ্যে চোখের জলকে। কিন্ত এই আপুর চোখের জলে বিন্দু মাত্র ভেজাল নেই। এই জলের সবটা জুড়েই ছিল ভাইয়াটার জন্য অকৃত্রিম এক ভালবাসা।
,
আপু আমায় জিজ্ঞেস করল
", রাহাত, আমি তো কোন অন্যায় করিনি, তবে আল্লাহ আমার সাথে কেন এমন করছে?"
আমি অকে বুঝালাম," আল্লাহ তোকে নিজের ভূল শুধরে নেবার সুযোগ দিয়েছে। তোর লাইফ থেকে একজন ভূল মানুষ চলে যাওয়া মানে, সঠিক মানুষের আগমনের পথ খুলে যাওয়া।" ও বার বার কাদছিল দেখে বললাম,
" তুই আমার থেকে বয়সে একটু বড় না হলে গালের নিচে টেনে টেনে কয়েকটা থাপ্পর দিতাম। এ রকম পাগলামির কোন মানেই হয়না। "
,
আমাদের প্রথম দেখা ছিল সেদিন,আপু আমার কান মলা দিয়েছিল।যাবার আগে ও আমায় বলেছিল তুই আয় তোর কান মলে দিব। ওর সাথে যে ওই দিনই প্রথম দেখা করছি তা মনে হয়নি। বরং মনে হচ্ছিল আমরা ভাই বোন প্রায় এ ভাবে বসে মজা করি।
আপুর মত এই রকম মেয়েদের দেখিয়ে সেই সব ভাইয়াদের যারা কাউকে ভালবেসে ধোকা খেয়ে মরে যেতে চায়,সুইসাইড করতে চাচ্ছে,অথবা অন্ধকারে হাড়িয়ে যাচ্ছে তাদের বলতে ইচ্ছে করে,ভাইয়া এই আপুর মত অসংখ্য মেয়ে আছে,যারা সত্যিই অসম্ভব রকম ভালবাসতে জানে। এদের এই চোখের জল অসুন্দর নয়,বরং পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দর বস্তুর/ দৃশ্যের থেকেও সুন্দর। এরা যে তোমার মতয় একজনকে চায়। তবে তুমি কেন এদেরকে ছেড়ে হারিয়ে যাচ্ছ?বোকা,তুমি কত্ত বোকা।।
তোমার তো খুশিতে আত্নহাড়া হওয়া উচিৎ, তোমার জীবন থেকে একজন ধোকাবাজ হাড়িয়ে গেল,একটি নষ্ট চরিত্র হাড়িয়ে গেল। ইশ,তুমি কত্ত ভাগ্যবান। একবার ভেবেছ সে যদি তোমার লাইফে থাকত তোমার লাইফটা একদমম শেষ হয়ে যেত। জীবন তো একটাই,তবে এই জীবনটা কেন শেষ করে দিচ্ছ অন্য কারো জন্য?তুমি কেন হেড়ে যাচ্ছ?তুমি জিতে যাও,দেখবে সে এমনিতেই হেড়ে যাবে। পৃথিবীর কোন মানুষই। অসুন্দরকে পছন্দ করেনা,যদিও বা করে তা ক্ষনিকের জন্যেই। মোহ আর কত দিন থাকে বল? যে অন্যায় করছে,পাপ করছে তার শাস্তি সে পাবেই।তবে তুমি কেন নিজের সাথে অন্যায় করছ?
জিবনে চলতে গেলে কিছু কাজ করতেই হয়। কিছু ভূল মানুষের পাল্লায় পড়তে হয়,কিছু ভূল সিদ্ধান্ত নিতে হয়।এরপর আবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি একটি কথা সব সময় বলি, "যা উচিৎ তা করতে হয়, নয়ত অনেক বড় পাপ হয়।"
|
___ রাহাত চৌধুরী( দুঃখ বিলাসী কবি)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৬ রাত ৩:৩৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×