somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

B-) আমার পোলাপাইন আমলের কিছু সৃতি। (চার)

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার পোলাপাইন আমলের কিছু সৃতি। (এক) (দুই) (তিন)

আজকের এই লিখার বিষয় আমার এবাদত বন্দেগী।

ছোট বেলায় আমি খুব ভালো ভদ্র বদের হাড্ডি আছিলাম। সারাদিন বান্দরামী দুষ্টামী যাই করিনা কেন নামাজটা ঠিক মত মসজিদে গিয়ে পড়তাম। এর একটা কারন ছিলো। যেই মসজিদে নামাজ পড়তাম সেখানে একটা মাজার ছিলো। আর মাজার থাকার কারনে অনেক এই অনেক কিছু মানত করতো। আছরের সময় মাগরিবের সময় প্রায় সময় মিলাদ হইতো। মিলাদের শেষে তবারক দিতো জিলাপি বাতাশা কোন কোন সময় বিস্কুটও দিতো। তাই আমি আছর আর মাগরিবের নামাজের নিয়মিত মুছল্লী হয়ে গেলাম B-) ফজরের সময় ঘুম থাকি.... জোহরের টাইমে স্কুলে...... আছরের সময়টা খেলার সময় তাই এই সময় মুছল্লী হওয়ায় দোষ নাই..... আরো একটা কাহিনী ছিলো আছরের নামাজ পরার জন্য ঘড় থেকে একটু তারাতারি বের হওয়া যাইতো। একটু সময় নিয়ে খেলাধুলা করা যাইতো আবার মাগরিবের নামাজ পরে বাসায় ফিরতাম। এশার নামাজে তোবারক পাওয়া যাইতো না তাই ঐ সময় পড়ালেখা নিয়ে ব্যাস্ত থাকতাম।


একটা জিনিষ আমার পরিস্কার মনে আছে ছোট বেলায় যখন আমি নামাজের কোন সুরা ক্যারাত জানতাম না তখন কানটা খারা করে রাখে শুনতাম আমার পাসের জন কি বলতেছে বা কি পড়তেছে। সবাইতো মনে মনে পড়ে /:) আমি আর শুনতাম না। তখন একটা ধারনা ছিলো আমার হুজুর জোরে জোরে পড়ে তার মানে হুজুর সব জানে আর বাকী যারা মনে মনে পড়ে তারা সবাই ফাঁকিবাজ। আমার মত ওরাও কিছু জানেনা তাই চুপি চুপি মনে মনে পড়ে। জারা একটু জোরে জোরে পড়ে আমি তাদের পাসে গিয়ে দাড়াইতাম। একটা শব্দ শুনলে ঐটা বার বার পড়তাম। হয়তো একটু শুনলাম তিন আমিও মনে মনে পড়তাম তিন, তিন, তিন আর একটা শব্দ না শোনা পর্যন্ত আমি ঐটাই পড়তে থাকতাম। আবার হয়তো শুনলাম গোস্ত আমি ও মনে মনে পড়া শুরু করে দিলাম গোস্ত, গোস্ত, গোস্ত আবার যদি শুনতাম সুবাহ্ আমিও পড়া শুরু করে দিতাম সুবাহ্, সুবাহ্ , সুবাহ্ এই রকম ছিলো আমার প্রথম জীবনের নামাজ পড়া।

খুব কষ্ট পাইতাম যখন সামনের কাতারে দাড়াইতে চাইতাম কিন্তু ধরে ছোট বলে পেছনে পাঠাইয়া দিত। :(( বড় হয়ে কাবা ঘড়ের সামনে নামাজ পরছি, মসজিদে নাবাবীতে নামাজ পরছি কিন্তু এমনটা দেখি নাই। ছোট কাউরে পেছনে পাঠাইয়া দিতে ।

এবার আসি আমার মানত নিয়া।
স্কুল ছুটি যখন থাকতো প্রায় দিনই আমি সকালে খেলতে বের হইলে দুপুরেও বাসায় আসতাম না। ফুফাত ভাইয়ের সাথে খেলতাম ফুফুর বাসায় দুপুরে খাইয়া আবার খেলতাম সন্ধায় বাসায় ফিরার কথা মনে পরলেই সারছে :| আমরা থাকতাম ৩ তলায় প্রতি তলায় উঠার জন্য ২টা করে সিড়ি। দুইতালা থেকে তিনতালায় উঠার মাঝের সিড়িতে পষ্চিম দিকে ফিরা হাত তুলে মোনাজাত ধরতাম। আল্লাহ্ আজকে যেন মাইর না খাই আজকের জন্য আমারে মাফ করে দাও :(( আজকে যদি মাইর না খাই তাইলে আটআনা পয়সা ফকিররে দিমু আটআনা পয়সা মাজারে দিমু। কোন কোন দিন এই দোয়াতে কাজ হইতো। কোন কোন দিন আম্মুর হাতে ২-৩ ডোস মাইর হজম করতে হইতো। যেইদিন মাইর খাইতাম ঐদিন বাথরুমে গিয়া আবার আল্লাহ্ রে কইতাম কইছিনা ১টাকা দিমু তার পরে ও আজকে মাইর খাইলাম কেন। বাথরুমে হাত মুখ ধুইতাম আর আল্লাহ্ রে নালিস দিতাম।

আম্মুর কাছে অনেক মাইর খাইছি জীবেন। আব্বুর থেকে কখনো মাইর খাই নাই B-) আমার আব্বু শ্রেষ্ট আব্বু। আম্মুর হাতে মাইর খাওয়ার পরে আব্বু হাত মুখ ধুইয়া দিতো। আর বুঝাইতো তুমি এই কাজটা করছো এটাকি ঠিক ছিলো ?? সোজা উত্তর না। আব্বু বুঝাইতো তাইলে এই রকম করো কেন ? এমন আর না করলে কি তোমার আজকের এই মাইর গুলো খাওয়া লাগতো? কোন মা বাবাই তার ছেলে মেয়েকে ইচ্ছে করে মারে না তাদের ভালোর জন্য মারে। তোমাকে আজকে শাসন না করলে তুমি কালকে আবার এই কাজটাই করবা যেটা তুমি একটু আগে বলছো এটা ভালো কাজ না। তোমরা খারাপ হয়ে যাও এটাকি আমরা চাই? আমারা চাই তোমরা মানুষের মত মানুষ হও। দুধ গরম করে বিস্কুট দিয়ে খাওয়াই দিতেন। এর পরে পড়তে বসাইতেন।
আমার আব্বু কখনোই আমাদের ভাই বোনদের কাউরে তুই করে ডাকে নাই, আমি শুনি নাই। সব সময় তুমি করে বলতো। আর আব্বু যখন বুঝাইয়া বলতেন তখন এমনিতেই চোখে পানি চলে আসতো। চড় থাপ্পোরের দরকার পরতোনা।

ছবিগুলো গুগল.কম থেকে খুজে নেয়া।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৪
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×