১৯৪৮-এর মার্চ মাসে মহারাজা হরি সিং-এর মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, শেখ আব্দুল্লা । মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা অন্যান্য মন্ত্রিরা ছিলেন—আফজল বেগ, গিরিধারীলাল দোর্গা, বক্সী গোলাম মহম্মদ, কর্ণেল পীর মহম্মদ, সর্দার বুধ সিং, শ্যামলাল শরাফ প্রমুখ ।
শেখ আব্দুল্লা প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথম যে কাজটি করতে গেলেন, তা’ মহারাজা হরি সিং-এর পছন্দ ছিল না । আঞ্চলিক জমিদারী, জায়গীরদারী, চকদারী প্রভৃতির উচ্ছেদ করলেন । তাঁদের চার লক্ষ একর জমি বাজেয়াপ্ত করলেন, কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়া । তাছাড়া কৃষকদের ঋণ মুকুব ক’রে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শেখ আব্দুল্লা রাজতন্ত্র’র বিরোধী ছিলেন । সেজন্য তিনি একসময় আন্দোলনও করেছিলেন মহারাজা হরি সিং-এর বিরুদ্ধে । কিন্তু সেই আন্দোলনে তিনি সাফল্য অর্জন করতে পারেননি । মহারাজা হরি সিং তখন তাঁকে দেশদ্রোহীতার অপরাধে কারারুদ্ধ করেছিলেন । কিন্তু আজ মহারাজার প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতালাভ ক’রে কীভাবে রাজার বিরুদ্ধাচরণ করতে পারেন? এই প্রশ্ন রাজার মনে অসন্তোষ সৃষ্টি করল । ঠিক এ কারণেই শেখ আব্দুল্লার সঙ্গে মহারাজার সম্পর্ক খারাপ হতে থাকল । এক বছরের কিছু বেশি সময় পরে নেহেরু যখন দেখলেন যে আব্দুল্লার সঙ্গে সম্পর্ক’র অবনতি চরম পর্যায়ে পৌছে গেছে, নেহেরু শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির জন্য মহারাজাকে বোঝালেন যে এখন পুত্র করণ সিং আপনার দায়িত্ব গ্রহণ করার উপযুক্ত, তাই আপনি অবকাশ গ্রহণ করুন । নেহরুর কথায় রাজা হরি সিং আশ্বস্ত হলেন । মহারাজার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তাঁর পুত্র করণ সিং, ১৯৪৯-র ২৫শে মে । সিংহাসনে বসেই প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লার জমিসংক্রান্ত আইন, করণ সিং রাজা হিসেবে নিজে অনুমোদন না ক’রে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালেন । একটি বিষয় উল্লেখ্য যে মহারাজার বিরুদ্ধে ভূমিসংস্কার সংক্রান্ত বিষয়টি নেহরু ভাল মনে করেননি । তাই আব্দুল্লার সঙ্গে নেহরুর একটা মানসিক ব্যবধান তৈরি হচ্ছিল । আর রাজার আসনে বসেই করণ সিং যা’ করলেন অর্থাৎ ভূমিসংক্রান্ত আইনী বিষয়টি নিজে অনুমোদন না ক’রে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালেন, তা’ ছিল ভারত-কাশ্মীর চুক্তির বিরোধী কাজ । ....(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৮ রাত ১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




