
মহাবিশ্বের সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক মজার মজার ঘটনা যা হয়ত অনেকেরই অজানা। গত পর্বগুলোর ধারাবাহিকতায় অাজকের পর্বেও থাকছে কিছু মজার ঘটনা। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক সেই ঘটনাগুলো।
১) এটা সবাই জানি যে একটি ফোটনের গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। সেই হিসেবে একটি ফোটনের সূর্য থেকে পৃথিবীতে অাসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। কিন্তু অাপনি কি জানেন এই ফোটনটির সূর্যের কেন্দ্র থেকে তার পৃষ্ঠে অাসতে কত সময় লেগেছে? শুনলে রীতিমত চমকে উঠবেন। একটি ফোটনের সূর্যের কেন্দ্রে উৎপন্ন হয়ে সূর্যের পৃষ্ঠে পৌছতেই সময় লাগে প্রায় ১০,০০০ থেকে ১,৭০,০০০ বছর!!! তারপর এটি প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ডে পৃথিবীতে পৌছায়। সূর্যের কেন্দ্রে উৎপন্ন হওয়ার পর ফোটনগুলো সূর্যের প্লাজমা দ্বারা শোষিত হয় এবং অাবার নিন্মশক্তিতে বিকিরিত হয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যা বার বার ঘটতে থাকে, হাজার হাজার এমনকি লক্ষ বছর ধরে। যার ফলে ফোটনের সূর্যের পৃষ্টে পৌছতে এত সময় লাগে।

২) অামাদের কাছে ফোটনের গতিবেগ অনেক বেশি মনে হলেও মহাবিশ্বের বিশালতার কাছে তা খুবই সামান্য। উদাহরণস্বরূপ, একটি ফোটন কণার অামাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌছতে প্রায় ১ লক্ষ বছর সময় লাগে! শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে বিজ্ঞানীরা শত শত কোটি অালোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রও পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। মজার বিষয় হলো টেলিস্কোপে নক্ষত্রগুলোর যে চিত্র ধরা পড়ে তা কিন্তু শত শত কোটি বছর অাগের। বর্তমান রূপটি অামাদের কাছে অজানাই। এই দৈর্ঘ্য সময় ফোটনগুলো মহাবিশ্বের দৈর্ঘ্য পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে পৃথিবীতে পৌছছে। প্রতিটি নক্ষত্রের ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটে, শুধু দূরত্বের তারতম্য রয়েছে। কাজেই প্রতি রাতে অামরা নক্ষত্রসজ্জিত যেই সুন্দর অাকাশটি প্রত্যক্ষ করি, তা অতিতের প্রতিচ্ছবি মাত্র।

সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ইনশাঅাল্লাহ অাগামী পর্বে অাবার অাপনাদের সামনে মহাবিশ্বের অন্য কোন মজার বিষয় নিয়ে হাজির হবো।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১৮ সকাল ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



