আমি যুদ্ধ দেখিনি,
শুধু গল্প শুনেছি স্বাধীনতার।
শুনেছি ছেলে-হারা মায়ের কান্না আর হাহাকার,
শুনেছি ধর্ষিতা নারীর আর্তচিৎকার।
হানাদারের নিষ্ঠুরতার বর্বর অত্যাচার।
শুনে ভয় পেয়ে দুচোখ বুঁজি,
কল্পনায় যেন আসে তেড়ে অমানুষ হানাদার।
আমি যুদ্ধে যাইনি স্বাধীনতার ।
শুনেছি কেবল নরপিশাচের অন্যায়-অবিচার,
পশুদের সেই ভয়াল থাবা পড়েনি আমার গায়,
দেখিনি আমি ভয়ংকর সেই কালরাত,
তবুও সেসব শুনে ধমনীতে আমার রক্ত উঠে ফুটে।
সোনার বাংলা পরিণত হয় শ্মশানেতে।
আমি শুনিনি কামান-দাগার গর্জন,
আমি দেখিনি অগণিত লাশ---
পুরুষের লাশ, নারীর লাশ, শিশুর লাশ
হিন্দুর লাশ কিংবা মুসলমানের লাশ।
রক্তগঙ্গা বইতে দেখিনি আমি,
‘জয় বাংলা’ বলে রাজপথেও নামিনি
দেশমাতাকে ভালবেসে আমি গাইনি মুক্তির গান।
আমি যুদ্ধে যাইনি স্বাধীনতার
তবু আমি এই বাংলার সন্তান
চোখ মেলে দেখেছি স্বাধীন আকাশ,
মুক্ত বাতাস, লাল-সবুজের পতাকা।
এযে যোদ্ধা পিতার অবদান
অস্ত্র হাতে সংসার ফেলে ছুটে গিয়েছিল
কেবল মাতৃভূমির টানে, করেছে কোরবান,
এযে একাত্তরের তরুণ ভাইয়ের আত্মদান
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ঘরে ফেরেনি,
ছুটে গেছে যুদ্ধে, জন্মভূমির তরে।
ঘরে বসে শুধু কেঁদেছে তার মা
যে মায়ের চোখ কেউ মুছে দেয়নি আর।
বাংলার মাটিতে আজও সেই ভায়ের রক্ত।
শুনেছি কেবল, যুদ্ধে যাইনি স্বাধীনতার।
চোখের সামনে ধর্ষিত হতে দেখিনি,
লজ্জায় ঘৃণায় দেখিনি ফাঁসির দড়িতে নিজের বোনকে ঝুলতে।
বুঝিনি আমি, এ দৃশ্য সহ্য করার যন্ত্রণা,
কেবল অনুভব করেছি, যুদ্ধ দেখিনি স্বাধীনতার।
তবু মনে তীব্র ঘৃণা, ধি্ক পাকিস্তান।
বড় ব্যাথা লাগে, যখন শুনি এদেশের ছিল কিছু কুলাঙ্গার
কিছু ছিল বেজন্মার দল, পাকিস্তানের দালাল।
নাম শুনলেই থুথু ফেলি, তারা বাংলার রাজাকার
গোলাম আজম, কাদের মোল্লা, নিজামী,
সাঈদী, সাকা, বাচ্চু চোরা
এবং আরও কিছু নাম।
হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ ছিল তাদের কাম।
ওহে বাংলার রাজাকার, মুনাফিকের দল
বাংলার মাটিতেই তোদের হবে কতল।
ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে তোদের
মারবো একেক করে।
বুঝবি তখন ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
আমরা আজ গড়েছি শাহবাগ প্রতিবাদ।
একাত্তরের চেতনা নিয়ে এসেছি ঘোঁচাতে পাপ।
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে করেছি একাত্মবাদ
লক্ষ লক্ষ মানুষ একাত্তরের প্রতিচ্ছবি হয়ে ফোঁটে,
একাত্তর আজ তাই আমার কাছে গণদাবি হয়ে বাঁচে।
লক্ষ মানুষের স্লোগানে মুখরিত
‘জয় বাংলা’, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা।’
‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা পাকিস্তানে ফিরে যা’
‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই,
রাজাকারদের ফাঁসি চাই।’
একেকটি মানুষ যেন একেকটি অগ্নিমূর্তি
মুখ দিয়ে ছুঁড়ছে আগুনের ফুলকি।
সকলে মিলে গাইছে তারুণ্যের জয়গান।
আবার সময় এসেছে যুদ্ধে যাওয়ার,
জাতির কলঙ্ক থেকে মুক্তির যুদ্ধে ।
কলঙ্ক মুক্তির যুদ্ধে সময় এসেছে ঝাঁপিয়ে পড়ার।
যদিও আমি যুদ্ধ দেখিনি স্বাধীনতার।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




