
তিনি জানতেন ,কিভাবে অভিনেতা/অভিনেত্রীদের কাছ থেকে সেরা টা বের করতে হয় ।বাংলাদেশের এ যাবত কালের সর্বশ্রেষ্ট চলচ্চিত্র 'আগুনের পরশমণি' র ভিডিও ক্লিপটি দেখে নিন।
একটু খেয়াল করে দেখবেন ,অভিনেতা শঙ্কর এতটুকু সময় নেয় নি কান্না করার । এত অল্প সময়ে কান্নার করার ও একটা দক্ষতা লাগে । সালাম নিয়েই শুরু করছে । আমার কাছে দৃশ্যটা বাস্তবতার উপরে যদি কিছু থাকে সেটা হত । এমন দৃশ্য নতুন বাংলা সিনেমায় দেখি না বললেই চলে । দৃশ্যটি যে কেউ দেখলে একটু হলেও নড়েচড়ে বসবে । আগুনের পরশমণির এমন অনেক দৃশ্যের কথা বলা যাবে ।
শঙ্করের বাড়ি ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহে(মোমেনশাহী) । হুমায়ূন স্যারের একটি নাটকে অল্প সময়ের জন্য অভিনয় করার সুযোগ হয়েছিল । এছাড়া কোন অভিনয়ের বিন্দু মাত্র অভিজ্ঞতা ছিল না । তবু নিলেন হুমায়ুন স্যারের মত একজন পরিচালক! ময়মনসিংহ থেকে এত উৎসাহ ও আগ্রহ নিয়ে এসে,শঙ্কর বললো,'' দাদা আপনি নতুন সিনেমা করছেন ,আমি জানি না ! আমাকে নিতেই হবে । স্যার বিনাবাক্যে তাঁকে নিয়ে নিলেন । দৃশ্যটি ধারণ করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন শঙ্কর । তবু আশাহত হয়নি সৃজনশীল হুমায়ূন স্যার । একবার তো ক্যামেরা ম্যান বলেই দিলেন, '' হুমায়ূন ভাই আপনার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে । কি পরিমাণ ফিল্ম যে নষ্ট করেছে বুঝতে পারছেন ? আজ সারাদিন তো কোন শুটই হবে না । গাধাটার পেছনে এত সময় কেন নষ্ট করছেন?'' জনপ্রিয় পরিচালক ,সে দিন এসব প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়নি ,তাঁর বইয়ে লিখেছেন, আমি জানি কেন উনার পেছনে সময় নষ্ট করছি । হুমায়ূন স্যার জানতেন, শঙ্কর সাহেব পারবেন । সব মিলিয়ে ২৩ বারের চেষ্টায় উপরের ভিডিও টি । একজন পরিচালকের কেমন ধৈর্যশক্তি থাকলে ২৩ বার শুট নিতে পারেন? আমার মনে হয় এটা একটা রেকর্ড । শঙ্কর প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন , বেচারা এত দূর থেকে এসে অতি উৎসাহ,আগ্রহ নিয়ে মনের আনন্দ নিয়ে অভিনয় করছে । আমি যদি এ মুহূর্তে তাঁকে বাদ দেই ,তাহলে তাঁর দীর্ঘশ্বাস আমার 'আগুনের পরশমণি'তে লেগে থাকবে । আমি মানুষের দীর্ঘশ্বাস খুব ভয় পাই । সালাম শ্রদ্ধেয় ।
ভিডিও এবং ছবি গুগল
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


