
প্রতিদিনের মত গতকালও তীব্র যানজটের যন্ত্রণা মোকাবিলা করে সন্ধ্যার কিছু পরে ঘরে ঢুকতেই দেখি অভিনব আরেক যানজটের চিত্র মেলে ধরেছে আমাদের পুত্র রাতিব রিদওয়ান। তার খেলনা ভাণ্ডারের ছোট-বড় গাড়িগুলো নাকি তার ভাষায় জ্যামে আটকে গেছে। আমাকে সে এটি দেখানোর জন্য অপেক্ষা করছে আমি কখন ঘরে ফিরি।
ছেলেটি প্রতিদিন স্কুলে আসতে-যেতে অসহনীয় যানজট মোকাবিলা করে। বিকেল থেকেই সে তার বাবার ঘরে ফেরার অপেক্ষায় সময় গুণতে থাকে। বাবাকে ফোন দিলে বাবা বলে এই তো আমি মগবাজার। আধ ঘণ্টা পরে আবার ফোন দিলে বাবা বলে আমি এখনো মগবাজার। ছেলে অবাক হয়- “এখনো মগবাজার !” তাকে শুনতে হয়- ‘বাবা ! অনেক জ্যাম, গাড়ী একেবারেই এগুচ্ছে না। এ সবই তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বুঝা গেল। ১৫ মিনিটের স্কুলের পথ পাড়ি দেয়ার জন্য তাকে প্রতিদিনই ন্যূনতম দেড় ঘণ্টা আগে ঘর থেকে বের হতে হয়। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় সে তার সেকশনে ফার্স্ট (শ্রেণীতে দ্বিতীয়) হয়েছে। তার ক্লাস টিচার তাকে আগে আগে আসতে পরামর্শ দিয়েছে যাতে সে সামনের বেঞ্চে বসতে পারে। কিন্তু সেটি সম্ভব হচ্ছেনা পথের এই চিরচেনা জটের কারণে। সে জন্যও সে ভয়ে থাকে যে, মিস তাকে বকা দিবে কিনা। এরই মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষাও সে সমাপ্ত করেছে। নতুন বছরে নতুন ক্লাসে যেতেও তাকে এই যানজট মোকাবেলা করতে হবে কিনা সেটাই তার জিজ্ঞাস্য।
নিজের ক্যামেরায় ছেলের তৈরি করা ঘরোয়া যানজটের ছবি তুলেছি বটে কিন্তু ‘শিশুর মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা’ নিয়ে গবেষণারত একজন বাবা হিসাবে আড়ালে আমি কী বেদনা অনুভব করেছি তা আমি অন্যকে বুঝাতে অক্ষম। আমি গত রাত থেকে মারাত্মক দহন অনুভব করছি। এই এখন কথাগুলো লেখার সময় আমার চোখ ভিজে আসছে আমাদের সামাজিক অক্ষমতার জন্য। মনে মনে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বার বার বলছি, ‘বাবারে! তোকে একটি পরিপাটি, উন্নত ও নির্ঝঞ্জাট মহানগরী উপহার দিতে না পারার জন্য আমাদের ক্ষমা করিস।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




