somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সালেহ মতীন
ভাঙতে নয়, গড়তে চাই। গড়তে চাই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের একটি বিশ্ব সৌধ। আগামী প্রজন্মকে হানাহানিমুক্ত একটি শান্তিময় সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে চাই। সুন্দরকে আরো সুন্দর করে সাজানো এবং পরিশীলিত ব্লগিং চর্চার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনই আমার সাধনা।

টফফাইট’-এর স্মৃতি ও লজ্জা এখনো আমায় নক করে

১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মহানগরী ঢাকাতে ‘লাব্বাইক” নামক একটি পাবলিক পরিবহন বাসে চড়ে প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করি। নামটি দেখলেই আমার স্মৃতির পাতায় কিছু লেখা সহসা ভেসে ওঠে।

বাড়ির পাশের প্রাইমারিতে ক্লাস ফোর থেকে ফাইভে উঠেছি। সালটা ৭৯/৮০ হবে। বই জোগাড়ের পালা।এবার আর পুরনো বই কিনলে চলবে না- সরকার নতুন পাঠ্যপুস্তক চালু করেছে। বইয়ের সংখ্যাও বেড়েছে- চয়নিকা, দ্রুতপঠন আরো কয়েকটি বই। খোঁজ নিয়ে জানা গেল ক্লাস ফাইভের ১ সেট বইয়ের দাম পড়বে ৮০ টাকা। দারিদ্র্যের সংসারে এত টাকা দিয়ে বই কেনা অসম্ভব। এ যাবৎ অর্ধেক বা তিন ভাগের একভাগ দামে পুরনো বই কিনেই পড়ালেখা করেছি। নতুন বইয়ের মলাট স্পর্শ করা আমার কাছে ছিল শুধুই স্বপ্ন!

ক্লাসের প্রয়োজনীয় বই জোগাড় করতে না পারায় পড়ালেখা বন্ধ হলো। কেউ কেউ পরামর্শ দিল ছেলেটার খুব আগ্রহ, মাথাও ভালো ওর পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়া ঠিক হবে না। তাহলে কী করা যায় ? বুদ্ধি বের হলো- মাদ্রাসায় পুরনো বই চলে, সুতরাং অল্প পয়সায় মাদ্রাসার ১ সেট পুরনো বই কিনে ভর্তি হওয়া যেতে পারে। ততদিনে ২/৩ মাস পার হয়ে গেছে। আমার একমাত্র চাচাত ভাই মাওলানা আবদুর রশিদের সহায়তায় মাদ্রাসায় ভর্তি হলাম। ক্লাস ফোরে। তখন মাদ্রাসা পদ্ধতিতে এটাই ছিল প্রথম ক্লাস। আমার রোল নম্বর দাঁড়ালো ২৩।

বাড়ি থেকে পৌনে ১ কিঃ মিঃ দূরে অবস্থিত নেঙ্গুড়াহাট সিনিয়র মাদ্রাসা। প্রথম দিন ক্লাসে বসেছি- ভয়, লজ্জা সবই একত্রে এখন আমার সঙ্গী। সম্পূর্ণ আনকোরা পরিবেশে ডানে-বায়ে কারা বসেছে তাও দেখা হচ্ছে না। শুধু মায়ের কথা মনে পড়ে চোখের কোণায় অশ্রু জমছে। মাকে ছেড়ে এত দূরে তো আগে কখনো যাওয়া হয়নি।

শিক্ষক এলেন-হাজিরা ডাকা শুরু হলো। একি ! কেউ ‘ইয়েস স্যার’ অথবা ‘হাজির’- এসব কিছু বলছে না, অন্য কি একটা শব্দ বলে উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। সর্বনাশ ! ২২ জনের পর তো আমার নাম ডাকা হবে। ইয়েস স্যার বোধ হয় এখানে চলবে না। কী করি ? নতুনত্বের ঘোমটা টান মেরে খুলে পাশের জনকে জিজ্ঞেস করলাম- নাম ডাকলে কী বলতে হবে ? ........., ও আচ্ছা।

ডাকা হলো রোল নম্বর ২৩, কেউ দাঁড়ায় না। আবার ডাকা হলো- আবদুল মতীন- ওহ্ হো এ তো আমার নাম বলছে। সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে বললাম, ‘টফফাইট’। একি! সবাই হাসিতে ফেটে পড়ছে। কী এমন হলো যে হাসি থামছেই না। আমি হাজির-এর আরবি হলো ‘লাব্বাইক’। আহ্হা আমি কী বলেছি !

মনে আছে, ঐতিহাসিক ‘টফফাইট’ বলা ছোট্ট বালকটিকে নিয়ে বহুদিন পর্যন্ত ক্লাসে অনেকেই টিটকারি মেরেছে। বছর শেষে বার্ষিক পরীক্ষায় ক্লাসে ফার্স্ট হলে তবেই টিটকারির মাত্রা ধীরে ধীরে নিঃশেষের দিকে ধাবিত হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে ভয় হচ্ছে, মহান আল্লাহর মেহমান হয়ে তাঁর দরবারে যাচ্ছি। সেখানে উপস্থিতি ঘোষণা করতে বলতে হয়, “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”। সেখানে আমি তো নতুন, আমার মহীয়ান রবের কাছে এই অযোগ্য বান্দা একেবারেই তুচ্ছ। ভয়ে যদি বলে ফেলি ‘টফফাইট’ ! হে মাবুদ, আমাকে শক্তি ও সামর্থ্য দিন উপযুক্ত ভাষায় উপস্থিতি ঘোষণা ও আপনার কাছে প্রার্থনা করতে। আমীন
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ২:৫৭
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×