বাঁচতে চাইলে প্রমান করতে হবে তুমি খারাপ!!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারপতি(!) কামরুল ইসলাম, শামসুল হক টুকু, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, মাহাবুবুল আলম হানিফ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ম খা আলমগীর থেকে শুরু করে জেষ্ঠ্য বিচারপতিদের সবাই ইতিমধ্যে ঘোষনা করেছেন ডিসেম্বরেই দেয়া হবে বিচারের রায়। সেই লক্ষ্যে কাজও চলছে দূর্দান্ত গতিতে। ইতিমধ্যে সাক্ষ্য গ্রহন থেকে শুরু করে জেরার কাজও এগিয়েছে অনেক দুর। বিচার শালিস বাদ দিয়ে আটককৃতদের ঝুলিয়ে দিতেও বলেছে এই সব বিচারকদের(!) কয়েকজন। পুরো সরকার আর সরকারের মন্ত্রী-আমলা থেকে শুরু করে চ্যালা পর্যন্ত সবাই যেখানে বিচারক সে বিচার নিয়ে কেন এত ভয়? রায় ঘোষনার পূর্বে ভয় পেয়ে সরকার বেসামাল হয়ে যে সারাদেশে শিবির নিধন কর্মসূচী গ্রহন করেছে তা এখন দিবালোকের মত সত্য। এই মাত্র কয়েকদিনে সারা দেশে জামায়াত শিবিরের প্রায় বিশ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করেছে সরকার। সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী অবতীর্ণ হয়েছে চোর-ডাকাতের ভুমিকায়। তারা গভীর রাতে বাসা-বাড়ী বা ছাত্রাবাসের গেট বা তালা ভেজ্ঞে অভিযান চালায়। হয় টাকার বিনিময়ে মুক্তি আর নয় শিবির সন্দেহে সোজা লাল দালান। তারপর সামনে কিছু অস্ত্র আর ইয়াবা রেখে সংবাদ সম্মেলন। ব্যাস্ সন্ত্রাসী বানানো কমúিট। তারপর যা তাই..........
যাদের ধরা হচ্ছে তারা তো আর যুদ্ধাপরাধী নয় তবে কেন এই গ্রেপ্তার? কেউ কেউ আবার বলছেন এরা নাকি চেতনায় রাজাকার! সত্যিই জাতি আজ জানতে চাই কেন এই গ্রেপ্তার অভিযান? সরকার আর সরকারি দলের কর্তা ব্যাক্তিদের উস্কানিতে লাগামহীন হয়ে পড়েছে পুলিশ। রাতের বেলায় যেন তাদের শুরু হয় শিবির নিধনের নামে বাড়তি ব্যবসার প্রতিযোগীতা। সারা দেশব্যাপীই চলছে এ প্রতিযোগীতা। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু মাত্র হিন্দু বা অমুসলিম এবং খারাপ মানুষগুলো টাকার বিনিময়ে বাদ পড়ছে পুলিশের এ নির্যাতন থেকে। আর তাই পুলিশের এ নির্যাতন থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের গ্রেপ্তার আতংক মুক্ত রাখতে সাধারন ছাত্রদের অনেকেই নিজেকে খারাপ প্রমানে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। সাধারন ছাত্রদের অনেকেই এখন নিজেদের ম্যাচে মুজিবের ছবি সাঁটিয়ে দিয়েছে। শুরু করেছে সিগারেট খাওয়া। বাদ দিয়ে দিয়েছে ইসলামী বই কাছে রাখা বা অধ্যায়ন করা। বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই ধারনা এভাবে যুব সমাজ বিপথগামী হওয়া শুরু করলে দেশে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাবে। একটা পর্যায়ে গিয়ে আর তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যাবে না।
কেন ভয় আর আতঙ্কে নিজেরা বাঁচার তাগিদে এত গ্রেপ্তার। কি এমন দোষ এই সকল সাধারণ মানুষের। কেন সরকারের হীন উদ্দেশ্যের কাছে বলি হবে এতগুলো কোমল তাজা প্রাণ? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকার যদি সঠিক পথে হাঁটতো তবে কখনোই এ বিচারের জন্য পুরো দেশকে জিম্মি করে দিতে হতো না। তাদের মতে, এক ডাহা মিথ্যা, অবাস্তব, ইতিহাস কলংকিত ঘটনাকে সত্য করার যে নাটক মঞ্চস্ত করতে যাচ্ছে সরকার তা সরকার নিজেও বিস্বাস করে না। অবিস্বাস্য এ মিথ্যা ঘটনাকে সত্য করতে গিয়ে সরকার নিজেই খেই হারিয়ে ফেলেছে। সরকারের পায়ের নিচে এখন মাটি নেই তাই সরকার এখন সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার করে দেশকে কারাগারে পরিনত করতে চায়। তারা আরও বলেন, সরকার এই সকল রাজনীতিবীদদের মৃত্তুদন্ড দিয়ে নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চায়। সরকারকে এধরনের হীন উদ্দেশ্য থেকে ফিরে আসতেও পরামর্শ দেন তারা।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পরিস্থিতি কি জটিল?

আজকের ডায়েরী- ২০৩

খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন
Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা
সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥


শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ
সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।