somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাহার চেহারায় এমন উচ্ছাস্ এমন আবেগী ভাব আগে কখনোই আমরা দেখি নাই

১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যতদুর মনে পরে ২০০০ সালের অক্টোবরের কোন একটা দিন আমরা কয়েকজন সবুজ মাঠে গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম । কিছুক্ষন পরে এক বন্ধু এসে আমাদের সাথে যোগ দিল, কিন্তু তার চেহারায় এমন উচ্ছাস্ এমন আবেগী ভাব আগে কখনোই দেখি নাই। সবাই মিলে তাকে কারন জানার জন্য জোর প্রয়োগ করলে সে লজ্জামিশ্রিত মুখে বলল- আজকে সে তার প্রিয়তমাকে তাদের বাড়ির উঠানে এক নজর দেখতে পেয়েছিল। আর তাতেই তিনি আহাল্লাদে গদ গদ। সে যে কি অনুভুতি ছিল এক নজর দেখার, এক মিনিট কথা বলার, এক পলক লজ্জারাঙ্গা দৃষ্টিতে তাকানোর সেটা তখনকার জেনারেশন ছাড়া কাউকেই বুঝানো সম্ভব নয়। শুধুমাত্র এমন এক পলক দৃষ্টির মূল্য হাজার মিনিট ভিডিও কল কথা বলেও উশুল করা যাবে না। কোন কোন প্রিয়জনের দেয়া চিঠি যে কি যত্নে রাখা হত সম্ভবত কোন ব্যাংকও তার সব্বোর্চ সম্মানিত গ্রাহকের গয়না এতটা যত্নে রাখে না। আমরা তখন ইন্টারনেট ছাড়াই সারাদিন অনলাইনে থাকতাম কখন তার সাথে একটি বার দেখা হবে বলে, কখন তার কন্ঠখানি শুনতে পাব বলে। সেখানে ছিল হাজারও প্রতিক্ষার স্বপ্নবুনা এক রাজ্য।

তখন ছিল না ইন্টারনেটের কোন মায়াবি জাল, ছিল না কোন স্যোসাল মিডিয়ার চ্যাটরুম, ছিল না মোবাইলের গ্যালারি র্ভতি রঙ্গিন ভিডিও আর সেলফির যানজট। তখন গল্পের বিষয় থাকত স্কুলের মাষ্টারদের পড়ানোর স্টাইল, কোন বন্ধু তার বান্ধবিকে বাড়ির আঙ্গিনায় লুকিয়ে এক ঝলক দেখার তীব্র আবেগময় অনুভূতির প্রকাশ, পাশের বাড়ির আম জাম পেয়ারা পেপে চুরির কলা-কৌশল আবিস্কার, পাশের গ্রামের সাথে খেলায় জেতার সেই অন্যবদ্য সব প্লানিং।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন আমি আমার ফ্লাটের পাশের রুমের লোকটার নামটাই এখন মাঝে মাঝে মনে রাখতে পারি না। অথচ ফেইসবুকের নীলপরি, এ্যান্জেল, পীর বাবা, সবাইকে চিনি শুধু নিজের সত্ত্বাকেই চিনতে পারছি না । আমার এক ভাতিজি যার কিনা ডরিমন, মটু-পাতলু কার্টুনের সব চরিত্র মুখস্ত শুধু জানতে পারল না বাড়ির পাশের গাছের নামগুলো। তাকে দেশীয় আম, পেয়ারা, খরগোশ, কাঠবিড়ালি চেনাতে বইয়ের পাতার ছবির উপর নির্ভর করতে হয়, আপেক্ষ করার জন্য এর থেকে বেশি কিছুর কি আর প্রয়োজন আছে?

এই জেনারেশন আস্তে আস্তে হারাচ্ছে তাদের নিজস্ব সত্ত্বা, সবুজ ঘাসের উপর খালি পায়ে হাটার অনুভূতির স্নায়ুতন্ত্র তাদের বিকল হয়ে গেছে, বৃষ্টিতে কাদামাখা মাঠে খেলার অনুভূতি তারা কখনোই নিতে পারছে না, পারছে না স্কুল পালানো, পুকুরে সাতরানোর উচ্ছাসটুকু বুঝতে। সবকিছু কেমন জানি একটা কৃত্তিমতার আবরনে ঢাকা পরে যাচ্ছে। হাতে লেখা চিঠি যখন কোন প্রিয়জনের কাছে পৌছাত তখন সেই কাগজটাই তার কাছে হয়ে উঠতো হাজার টাকার নোটের থেকেও বেশি মূল্যবান। স্কাইপ, হোয়াটস্অ্যাপ, ম্যাসেন্জার, ইত্যাদির কল্যানে আমরা অতি দ্রুতই যোগাযোগ করতে পারছি সত্য কিন্তু সেই সাথে হারাচ্ছি আমাদের মৌলিক অনুভুতিগুলো।

আমরা হয়তোবা জিবনের শেষলগ্নে এসে অতিতের স্মৃতিকে রোমন্ধনের জন্য কিছু উপাদান পেয়ে যাব। আজকের জেনারেশনের কাছে কি গল্প করার মত কিছু কৃত্রিম কাল্পনিক কার্টুন ছাড়া আর কিছু অবশিস্ট থাকবে?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×