আমাদের মফস্বল শহরে তখনো যান্ত্রিকতার ছোয়া তেমন একটা লাগেনি। অধিকাংশ লোকজনই আধাপাকা বাড়িতে বসবাস করতো। শহরে হাইরাইজিং বিল্ডিং যা ছিল তা হাতেগুনার মত। বাড়ির পাশে পরে থাকা ফাকা প্লটগুলোই ছিল প্রতিবেশি ছেলে মেয়েদের নিয়ে খেলার স্থান।
আমাদের বাসার আঙ্গিনাতে ছোট একটা ফুলের বাগান ছিল। চিকন বাশের কঞ্চি দিয়ে ঘেরা বাগানের মধ্যে জেনিয়া, ডালিয়া, গাদাঁ, গোলাপ, দূর্বাফুলই শোভাবর্ধনের দ্বায়িত্ব পালন করত। প্রতিটি শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমই অনেক কৌতুহল নিয়ে হিসেব করতাম আজকে কয়টা ফুল ফুটেছে, কয়টা কলি উকি দিয়েছে?
পাশের বাসার মেয়েদের থেকে ফুলগুলোকে বাচানোর জন্য সবসময় একটা সর্তক দৃষ্টি রাখতে হত। ফুল চুরি করা নিয়ে ছাড় দেয়ার ব্যাপারে কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে আমি মোটেও রাজি নই। একদিন সকালে আবিস্কার করলাম গতকাল থেকেই যেই গোলাপের কলিটা প্রস্ফুটিত হওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিল, সেটা আজ সেখানে অনুপস্থিত! আমি দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয়ে মনে মনে সম্ভাব্য সব মেয়েদের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করলাম। আধাবেলা পযর্ন্ত মন খারাপ নিয়ে বাড়ির পাশের ফাকাঁ প্লটে ছোট বাউন্ডারির উপর আনমনে বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি পাশের বাসার সুন্দরি মেয়েটি হাতে করে একটা ফুল নিয়ে আমার দিকেই এগিয়ে আসছে। কাছে আসতেই বুঝতে পারলাম এটা আমার বাগানেরই চুরি হয়ে যাওয়া কাঙ্খিত সেই গোলাপ। রাগে, ক্ষোভে কিছু বলতে যাওয়ার ঠিক পূর্বক্ষনেই সে গোলাপটি আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "এটি শুধুই তোমার জন্য"।
সবসময় "আপনি" করে বলা মেয়েটিও যখন "তুমি" সম্মোধন করে গোলাপ বাড়িয়ে দেয় তখন হতবুদ্ধ হয়ে সেটা গ্রহন করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
বাকিটা ইতিহাস !!
বিঃ দ্রঃ ইতিহাসের অংশ হিসেবে তাহার পুত্র এখন আমাকে মামা বলে সম্মোধন করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



