somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রিকেট ও আমাদের সীমাবদ্ধ মানসিকতা !!

২৩ শে জুন, ২০১৭ সকাল ৮:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুধুমাত্র একটা খেলা একটা জাতিকে কতটা বিকৃত করে দিতে পারে অামাদের ক্রিকেট তার অন্যতম উদাহরন। প্রথমত ক্রিকেট খেলাটা হওয়া উচিত ছিল শুধুই একটা খেলা, একটা বিনোদনের মাধ্যম। ব্যস্ এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত ছিল।
কিন্তুু দিনের পর দিন দেশপ্রেমের অজুহাতে এটাকে রিতিমত পূজা করার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোন দেশের সাথে খেলার কিছুদিন অাগে থেকেই এটাকে আমরা যুদ্ধ যুদ্ধ প্রস্তুতির পোষাক পরিয়ে ফেসবুক, সংবাদপত্র, টিভি মিডিয়া, চা স্টলে ঝড় তুলে দেই। অথচ দিন শেষে এটা শ্রেফ একটা খেলা হয়েই থেকে যায়।
প্রাচিন গ্রিসে বিভিন্ন জাতির মধ্যে অলেম্পিকের প্রচলন ঘটেছিল যেন পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধভাব কাটিয়ে সৌহার্দ মনোভাব তৈরি করা সম্ভব হয়, এবং এটা সেই সময়ে অনেকটা কাজেও দিয়েছিল। অথচ খেলা উপলক্ষে অামরা এখন শুধু বিপক্ষ দলকেই নিয়ে নয় বরং তাদের দেশ, সংস্কৃতি, ব্যক্তি থেকে সবকিছুকেই তুচ্ছ প্রমান করার জন্য হাজার বিকৃত ট্রল বানিয়ে ফেরি করে বেরাই। প্রতিপক্ষও প্রতিশোধ নিতে শতগুন বিকৃত করে অামাদের উপস্থাপন করে। দিনশেষে কার কি লাভ হল? মাঝখান থেকে উভয়ের মধ্যে বৃদ্ধি পেল দুরত্ব, তৈরি হল জাতিগত বৈরিতা। একটা খেলা কেমন করে দেশপ্রেম পরিমাপ করার বিষয় হতে পারে সেটা অামার মাথায় ধরে না। যেই মানুষটা প্রতিবন্ধি হয়ে জন্ম নিয়েছে, যেই লোকটা বর্নমালাও চিনতে পারে না অথবা কোন শিল্পপতি, দেশের সেরা ডিগ্রীধারি সবাই নিজ নিজ দেশকে সাপোর্ট করবে এটা বেসিক হিসাব তাই বলে এটাকে দেশপ্রেমের নামে প্রচার করতে হবে কেন? যেই অামলা দেশের বারোটা বাজাচ্ছে প্রতিনিয়ত, যেই রাজনৈতিক গদির জন্য শত লাশ ফেলতেও দ্বিধা করে না, যেই শিল্পপতিরা হাজার কোটি টাকা লোপাট করে ব্যাংকে দেউলিয়া হতে বাধ্য করছে এমন শত শত দুনির্তীবাজরা কিন্তুু খেলার সময় নিজ নিজ দেশকেই সাপোর্ট করে তাই বলে অাপনি তাদের দেশপ্রেমিক উপাধি দিতে পারেন না। খেলার বাইরেও দুনিয়াতে প্রতিনিয়ত অনেক কিছু ঘটে চলেছে সেই দিকে কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, ধর্মিয় জিবনের পরিসর অনেক বিশাল। সেই তুলনায় ক্রিকেট খুবই তুচ্ছ একটা বিষয়, অথচ অামরা সবাই এটাকেই বড় মাপের পরিমাপক হিসেবে নিয়েছি। ভাবটা এমন যেন কোন একটা ম্যাচ/টুর্নামেন্ট হারলেই দেশটাকে অন্যরা নিয়ে নিবে। এই সংকির্ন মানষিকতা থেকে যতদিন বের হতে না পারবো ততদিন অামাদের অাত্মার, অামাদের চিন্তার, অামাদের মেধার দ্বারা এই দেশের কোন উন্নতিই সম্ভব নয়। একটা টুর্নামেন্ট জিতলে বা হারলে সাময়িক কিছু অানন্দ বা হতাশা ছাড়া অাপামর দেশের কোন অবস্থার উন্নতি হয় না, কোন সেক্টরে দুনির্তির হ্রাস পায় না, হয় না কোন সামগ্রিক উন্নয়ন। এইটা আর অাট/দশটা বিনোদনের মতই শুধুই একটা বিনোদনের মাধ্যম মাত্র এই সত্যটা যত তারাতারি বুঝতে পারবো ততই অামাদের জন্য মঙ্গল। অামিও ক্রিকেটের বড় ম্যাচ গুলোও আপডেট নেই, স্ট্যাটাসও দেই, সবার সাথে অানন্দ উপভোগ করি কিন্তুু সবকিছুই সাময়িক বিনোদনের অংশ হিসেবে, এর থেকে বেশি কিছু নয়।

পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই, আজকের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালি দেশ সমুহের (অামেরিকা, ইউরোপের প্রায় সবদেশ, চিন, জাপান, রাশিয়া) অধিকাংশই ক্রিকেট খেলে না, তাই বলে তাদের দেশপ্রেমের ঘাটতি পরেনি কখনো। তারা আমাদের মতো অলিক সপ্নে মেতে থাকে না। এই হাওয়াই ভাসানো অাবেগি ক্রিকেটিয় দেশপ্রেম থেকে বের হয়ে বস্তুবাদি দেশপ্রেমে কাজ করতে পারলেই "দেশপ্রেম" এর সঙ্গায়নটা সঠিক রূপলাভ করবে। ধন্যবাদ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৭ সকাল ৮:২৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×