
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, আগামী ২০/৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ লোকের ১ম ভাষা হবে ইংরেজি, যাদের কাছে বাংলা হবে ২য় ভাষা। এই ৫০ লক্ষ জনগোষ্ঠী যাদের অধিকাংশের ইংরেজি জ্ঞান হয়তো বেসরকারি বাণিজ্যিক দপ্তরের ৮/১০ রকমের দলিল-পত্র বোঝার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু এই শ্রেণীটি আগামী বাংলার রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। যাদের ১ম ভাষা বাংলা, তারা এ দেশে রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কোণঠাঁসা হয়ে পড়বে। বাঙ্গালি জাতির জন্য বিষয়টি নি:সন্দেহে উদ্বেগজনক। কারণ তারা এ দেশের অর্থে দেশের জাতীয় মূল নীতিসমূহকে পাশ কাঁটিয়ে, দেশে তাদের মতো করে একটি সংস্কৃতি ও জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে। বলা যায় যে, আগামী ২০/৩০ বছর এ জনগোষ্ঠীটি দেশে একটি শাখাজাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। স্মর্তব্য যে, এই পরিমাণ জনগোষ্ঠী অনেক দেশেই নেই।
স্বদেশে এই যে (প্রথম ভাষা ইংরেজি ওয়ালা) শাখাজাতি গঠিত ও প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যে, তার অন্তরালে রয়েছে 'বিশ্বায়ন' ধারণাটির অপব্যখ্যা। কত কয়েক দশক ধরে শিক্ষাবিদরা বিশ্বায়ন ধারণাটিকে অপব্যাখ্যা দিয়ে দেশে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা ও ইংরেজি মাধ্যমের দাপ্তরিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ওকালতি করেছে।
কিন্তু 'বিশ্বায়ন' আদর্শ কোনক্রমেই বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ বিরোধী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। কিন্তু দেশে বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা ও ইংরেজি মাধ্যমের দাপ্তরিক ব্যবস্থার যে তোড়জোড় চলছে, তা বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ বিরোধী চিন্তাধারা প্রসূত। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বায়নের নিরিখে দেশে কোন বিদেশী ভাষা মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা চালু করা হলে, সেখানে প্রথমে প্রাধান্য পাবে বাংলা, তারপরে সব বিদেশী ভাষা সমান গুরুত্ব পাবে। বিদেশী ভাষা শিক্ষাব্যবস্থাও হবে সেই আদলে। দেশে কোন ভাষানীতি নেই, বিদেশী ভাষা শিক্ষানীতিও নেই। সেই সুযোগে ইংরেজিবিদরা দেশ ও জাতিকে ভুলভাল বুঝিয়ে দেশে একটি শাখাজাতি সৃষ্টি ও প্রতিষ্ঠার মহাউদ্যোগ শুরু করেছে।
বিদেশী ভাষা শিক্ষাব্যবস্থা রূপরেখা নিয়ে আমার লেখা একটি গবেষণা সন্দর্ভ রয়েছে। যদিও টীকা ও নিবন্ধ সবাই মনযোগ দিয়ে পড়ে, কিন্তু গবেষণা সন্দর্ভ সবাই পাশ কাঁটিয়ে যায়। কিন্তু একটি নিবন্ধ যেখানে কয়েক ঘন্টায় সম্পন্ন করা যায়, সেখানে একটি গবেষণা সন্দর্ভ লিখতে লাগে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর। তাই দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ গবেষণা পড়তেও দীর্ঘ সময় লাগে। যে কারণে গবেষণা সন্দর্ভ সাধারণত: কেউ পড়তে চান না। কিন্তু যারা বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করেন, তাদের উদ্দেশ্যে এই গবেষণা সন্দর্ভটির সারমর্ম পেশ করছি, যেন তারা এক সময় ব্যয় করে হলেও এটি পড়েন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




