somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজাউল করিম ফকির
ডক্টর এ.বি.এম. রেজাউল করিম ফকির, অধ্যাপক, জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগ আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় e-mail: [email protected]

'বিশ্বায়ন' আদর্শকে অপব্যাখ্যা দিয়ে বাঙ্গালি জাতির সর্বনাশ করা হচ্ছে!

১৪ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, আগামী ২০/৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ লোকের ১ম ভাষা হবে ইংরেজি, যাদের কাছে বাংলা হবে ২য় ভাষা। এই ৫০ লক্ষ জনগোষ্ঠী যাদের অধিকাংশের ইংরেজি জ্ঞান হয়তো বেসরকারি বাণিজ্যিক দপ্তরের ৮/১০ রকমের দলিল-পত্র বোঝার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু এই শ্রেণীটি আগামী বাংলার রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। যাদের ১ম ভাষা বাংলা, তারা এ দেশে রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কোণঠাঁসা হয়ে পড়বে। বাঙ্গালি জাতির জন্য বিষয়টি নি:সন্দেহে উদ্বেগজনক। কারণ তারা এ দেশের অর্থে দেশের জাতীয় মূল নীতিসমূহকে পাশ কাঁটিয়ে, দেশে তাদের মতো করে একটি সংস্কৃতি ও জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে। বলা যায় যে, আগামী ২০/৩০ বছর এ জনগোষ্ঠীটি দেশে একটি শাখাজাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। স্মর্তব্য যে, এই পরিমাণ জনগোষ্ঠী অনেক দেশেই নেই।

স্বদেশে এই যে (প্রথম ভাষা ইংরেজি ওয়ালা) শাখাজাতি গঠিত ও প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যে, তার অন্তরালে রয়েছে 'বিশ্বায়ন' ধারণাটির অপব্যখ্যা। কত কয়েক দশক ধরে শিক্ষাবিদরা বিশ্বায়ন ধারণাটিকে অপব্যাখ্যা দিয়ে দেশে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা ও ইংরেজি মাধ্যমের দাপ্তরিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ওকালতি করেছে।

কিন্তু 'বিশ্বায়ন' আদর্শ কোনক্রমেই বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ বিরোধী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। কিন্তু দেশে বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা ও ইংরেজি মাধ্যমের দাপ্তরিক ব্যবস্থার যে তোড়জোড় চলছে, তা বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ বিরোধী চিন্তাধারা প্রসূত। বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বায়নের নিরিখে দেশে কোন বিদেশী ভাষা মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা চালু করা হলে, সেখানে প্রথমে প্রাধান্য পাবে বাংলা, তারপরে সব বিদেশী ভাষা সমান গুরুত্ব পাবে। বিদেশী ভাষা শিক্ষাব্যবস্থাও হবে সেই আদলে। দেশে কোন ভাষানীতি নেই, বিদেশী ভাষা শিক্ষানীতিও নেই। সেই সুযোগে ইংরেজিবিদরা দেশ ও জাতিকে ভুলভাল বুঝিয়ে দেশে একটি শাখাজাতি সৃষ্টি ও প্রতিষ্ঠার মহাউদ্যোগ শুরু করেছে।

বিদেশী ভাষা শিক্ষাব্যবস্থা রূপরেখা নিয়ে আমার লেখা একটি গবেষণা সন্দর্ভ রয়েছে। যদিও টীকা ও নিবন্ধ সবাই মনযোগ দিয়ে পড়ে, কিন্তু গবেষণা সন্দর্ভ সবাই পাশ কাঁটিয়ে যায়। কিন্তু একটি নিবন্ধ যেখানে কয়েক ঘন্টায় সম্পন্ন করা যায়, সেখানে একটি গবেষণা সন্দর্ভ লিখতে লাগে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর। তাই দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ গবেষণা পড়তেও দীর্ঘ সময় লাগে। যে কারণে গবেষণা সন্দর্ভ সাধারণত: কেউ পড়তে চান না। কিন্তু যারা বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করেন, তাদের উদ্দেশ্যে এই গবেষণা সন্দর্ভটির সারমর্ম পেশ করছি, যেন তারা এক সময় ব্যয় করে হলেও এটি পড়েন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২১ দুপুর ১:২৩
১১টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফতোয়া যখন আইসক্রিম: ক্ষমতার গরমে গলে, মার্কিন বাতাসে জুড়ায়!

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৩




মুখে জিকির আর অন্তরে ডলারের ফিকির—ধর্মের নামে এই লেভেলের "মাল্টিটাস্কিং" মুনাফেকি কি আপনিও খেয়াল করেছেন?
ঈমানের তলোয়ার শুধু গরিবের ওপর চলে, আর হোয়াইট হাউজের সামনে গেলেই কেন এদের লুঙ্গি কোঁচা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×