somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনন্দযাত্রা ( রম্য ) ৪

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কণা ভার্সিটি থেকে হোস্টেলে না ফেরে বাস কাউন্টারে যায় টিকেট কাটতে। পাবে কি না কে জানে ? কাউন্টারে পৌঁছে তার আশঙ্কাই সত্য হয়, বগুড়ার কোন টিকেন নেই। সে একটু দূরে এসে কাউন্টারের দিকে তাকিয়ে ভাবে, এখন কী করবে ? পাশাপাশি বেশ কয়েকটা কাউন্টার। হঠাৎ বগুড়ার পাশের কাউন্টারটা দিকে চোখ পড়ে, সৈয়দপুরের কাউন্টার। আচ্ছা, সৈয়দপুরের টিকেট আছে কিনা দেখব ? সৈয়দপুরের বাসতো বগুড়ার উপর দিয়েই যাবে, পথে নেমে যাব। এতে টাকা বেশি যাবে, যাক। কণা সৈয়দপুরের কাউন্টারের দিকে তাকিয়ে অনুমান করতে চেষ্টা করে কাউন্টারের লোকটার বয়স কত ? মেয়েদের প্রতি পুরুষের দূর্বলতা পুরুষের বৈবাহিক জীবনের উপর নির্ভর করে। অবিবাহিত পুরুষদের মেয়েদের প্রতি দূর্বলতা থাকে, যে দূর্বলতা সে প্রকাশ করতে পারে না। আর বিয়ের পর পর পুরুষের দূর্বলতা থাকে কেবল নিজের স্ত্রীর প্রতি। কিন্তু বিয়ের দুবছর পর থেকে স্ত্রীর প্রতি দূর্বলতা কমে পরনারীর প্রতি তার দূর্বলতা বাড়তে থাকে, যে দূর্বলতা সে প্রকাশ করতে কুণ্ঠা বোধ করে না। এর ব্যতিক্রমও আছে, তবে ব্যতিক্রমতো ব্যতিক্রমই। সৈয়দপুরের কাউন্টারের লোকটা বয়স চল্লিশের কোঠায়, স্ত্রীর প্রতি তার মোহ কেটে যাবার কথা, না কি লোকটা ব্যতিক্রম ? কণা মনে মনে ভাবে এ লোকটা যেন ব্যতিক্রম না হয়, না হয়। কারণ একবার না করে দিলে হাঁ করানো কঠিন। কণা ভাবছে গিয়ে প্রথম কী বলবে, প্রথম কথাটার উপরই সব নির্ভর করছে। আর ঠিক তখন লোকটাই হাত ইশারায় কণাকে ডাকে। কণা থমকে তাকায়, আরে, এতো এগ্রেসিভ দূর্বলতা প্রকাশক ! কোন ভয় ডর নাই ? কণা হেসে এগোয়। কেউ যখন এগ্রেসিভ মুডে খেলে, তখন তার সাথে অফেন্‌সিভ খেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
‘অনেকক্ষণ ধইরা দাঁড়াইয়া আছেন, যাইবেন কই ?’ লোকটা জানতে চায়।
‘দেখুন না ভাইয়া বগুড়া যাব, কিন্তু কোন টিকেট নেই, এখন ভাবছি সৈয়দপুরের বাসে উঠে বগুড়া নেমে যাব। আচ্ছা সৈয়াদপুরের টিকেট আছে না ? এতে টাকা কিছু বেশি যাবে, যাক। তবুতো বাবা-মা, ভাই-বোনের সাথে ঈদ করতে পারব। ভাইয়া দেন না একটা সৈয়দপুরের টিকেট, পি-লি-জ।’
‘টাকা বেশি দিয়া সৈয়াদপুরের টিকেট কাটবেন ক্যান, দাঁড়ান আমি আপনারে বগুড়ার টিকেটের ব্যবস্থা কইরা দিতাছি,’ লোকটা মোবাইলের কারো সাথে ফিস্ ফিস্ করে কথা বলে কণাকে বলে,‘যান আপনে বগুড়ার কাউন্টারে যান টিকেটে দিব।’
‘ধন্যবাদ ভাইয়া, অনেক, অনেক ধন্যবাদ,’ বলে কণা দ্রুত বগুড়ার কাউন্টারে যায়। বগুড়া কাউন্টারের লোকটা - যে কিছুক্ষণ আগে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, সে চোখ মুখ খিঁচে কণাকে দেখে বলে,‘একশ টাকা বেশি লাগব।’
‘জি আচ্ছা, দিন,’ একশ না কণা দুইশ দিতেও রাজি, টিকেট পেলেই হলো।
কাউন্টারের লোকটা ড্রয়ার হাতাতে হাতাতে জিজ্ঞেস করে,‘সভাপতি সাহেব আপনার পরিচিত লাগে আগে কন নাই ক্যান ? তাইলেতো আর ঘুরোন লাগে না।’
‘সভাপতি সাহেব কে ?’
‘বাস কাউন্টার শ্রমিক সমিতির সভাপতি, যে আপনারে টিকেট দিতে কইল ? হে আপনার কী লাগে ?’ লোকটা এখনো টিকেট খোঁজছে।
‘ও উনি,’ কণা একটু ভাবে,‘উনার স্ত্রী আমার বোন হন।’
‘বোন....? হে আপনের দু-দুলাভাই লাগে ! আগে কইবেন না ? বন, বন । ঐ জামাল, জামাল, জামাইল্লা আপারে একটা কোক আইনা দে, কোক না জুস ? জুস আনাই ?’ বলে লোকটা এবার টিকেট বের করে কেটে কনাকে দেয়।
‘আনান কিছু একটা,’ একশ টাকা বেশি নিবে, কিছু উসুল হলে মন্দ কী ? ভেবে কণা টিকেটের টাকা বের করে,‘এই নিন টিকেটের টাকা।’
‘আপনের বেশি দিতে হইব না, টিকেটের যা দাম তাই দেন।’
‘না, না তা কেন ?’
‘মাথা খারাপ, আপনের দুলাভাই জানলে মাইরাই ফালাইব।’
‘আমি কিন্তু বলি নাই উনি আমার কিছু হন।’
‘জি না,’ লোকটা হাসে,‘আপনে কইছেন সভাপতি সাবের পরিবার আপনার বোইন লাগে।’
‘হ্যাঁ, জগতের সব মেয়েই পরষ্পরের বোন।’
‘জি, আর কইতে হইব না, জুসের লগে কি দিমু, এক পিস কেইক খান ?’ এবার লোকটা সব দাঁত বের করে।
কণা নীরবে হাসে,‘না ধন্যবাদ।’ তারপর জুস শেষ করে আবার ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসে। আসের সময় সৈয়দপুরের কাউন্টারের লোকটাকেও আবার ধন্যবাদ জানিয়ে আসে।
কিন্তু রাস্তায় এসে কোন রিক্সা পায় না। অগত্যা হেঁটেই রওয়ানা দেয়। বেশ কিছুটা পথ হেঁটে আসার পর সাগরের সাথে দেখা। সাগর ফুটপাথ ধরে সানগ্লাস পরে লাঠি ঠুকে ঠুকে অন্ধর মত হেঁটে আসছে।
( চলবে )
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×