somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজওয়ান26
আমি একজন ব্লগার হিসাবে সামুর সাথে ২০১৩ সাল থেকে আছি কিন্তু ২০১৪ সালের শেষের দিক থেকে আমার লেখা প্রথম পাতায় যায় না (২০১৫ এর মাঝে ১ মাস বাদে)। আমি কিন্তু আবার একজন সেইফ ব্লগার!!!

“জিয়া বিশ্ব নেতা” – জিমি কার্টার

৩০ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেবল মুখে মুখে ‘বড় নেতা‘ দাবি করা সহজ, যদি অনুগত স্তাবকরা থাকে। তবে যারা সত্যিকারের কাজের মানুষ, তারা কাজ করে দেখায়। আমাদের রসুলুল্লাহ (সঃ) শিশুটিকে মিষ্টি খেতে বারণ করার আগে নিজে মিষ্টি খাওয়া ছেড়েছিলেন।মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া। এই সময়ে তিনি নিজে একটি পরাধীন দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সশস্ত্র যুদ্ধের নেতৃত্ব দিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করে। আর ‘বড় নেতা’র পরামর্শমত তার দলের নেতারা ঐ সময়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করে। ইনার কথামত দেশের মানুষ চললে আজও এদেশ থাকত- পাকিস্তান। দেশ স্বাধীন হবার পরেও সেই নেতা এলেন নতুন বানানো পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে; হয়ে গেলেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, তারপর প্রধানমন্ত্রী!! নিজের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পচাত্তরে করলেন সাংবিধানিক ক্যু–’বাকশাল’। আর এ শাসনতান্ত্রিক ক্যু’য়ের অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়ায় আসে আগষ্ট-নভেম্বরের বিপ্লব। দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হলো ।

সদ্য স্বাধীন দেশের চরম দুঃসময়ে আবার ডাক পড়ে- জিয়ার। এবারে দেশ গঠনের। তিন বছর আগে সেই ’বড় নেতা’ এ কাজে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু দেশ গড়তে সকল দল ও মতের জ্ঞানী গুনীদের নিয়ে জিয়া এগিয়ে গেলেন। দুর্ভিক্ষপীড়িত ‘তলাবিহিন ঝুড়ি’র দেশকে তিনি ’সবুজ বিপ্লব’ দিয়ে দ্বিগুণ ফসল ফলিয়ে কি করে খাদ্যে স্বয়ম্ভর করলেন, সে গল্পটি প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনও ভাস্মর। তবে এর একটি দলিল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অফিস হোয়াইট হাউজে। সেখানে লেখা রয়েছে “President Ziaur and I (President Carter) have been discussing, in the last few minutes, the possibility–he says the inevitability- that Bangladesh will in the near future be self-sufficient in food production–perhaps even able to export food to other countries”(The Carter Center). বাকী সব বাদ দিলেও কেবল এই একটি কাজের জন্য জিয়া “নোবেল শান্তি পদক” পাওনা হয়ে আছেন।

জিয়া কেবল দেশের খাদ্য ও শিল্প উৎপাদন বাড়িয়ে দুর্ভিক্ষ দূর করেননি, কৃষির সম্প্রসারণের জন্য নিজে হাতে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন করলেন। আইন শৃংখলার উন্নতি ঘটিয়ে দেশকে নিয়ন্ত্রনে আনলেন। সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে একে শক্তিশালী বাহিনীতে পরিনত করলেন। একদলীয় শাসন রদ করে বহুদলীয় গণতন্ত্র্র প্রবর্তন করলেন। ‘ইয়থ কমপ্লেক্সে’ মাধ্যমে যুবকদের জন্য ট্রেনিং ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন। বাংলাদেশীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলো। পরিবার পরিকল্পনা চালু করে দেশে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করলেন। গণশিক্ষা প্রবর্তন করে সারাদেশে সাক্ষরতা বাড়ালেন। জাতিধর্ম নির্বেশেষে দেশের সকল মানুষের একক পরিচয় “বাংলাদেশী” নির্ধারণ করলেন। ফারাক্কা বাঁধের সমস্যাকে জাতিসংঘে তুলে ভারতকে বাধ্য করলেন বাংলাদেশের জন্য পানির গ্যারান্টি দিতে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে জিয়া ঘোষণা করলেন ১৯ দফা কর্মসূচি এবং দারুনভাবে সফল হলেন। দেখা যায়, বাংলাদেশের হেন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে জিয়ার হাত পড়েনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিয়া বাংলাদেশকে অতি উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তার আমলেই বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরবসহ প্রভাবশালী বিশ্বের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। নবীন দেশ বাংলাদেশ স্থান করে নেয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি বিশ্বনায়ক জিয়া সারা দুনিয়ায় ছুটে বেড়ান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। আজ আমেরিকা; তো কাল জার্মানী; পরশু প্যালেষ্টাইন; তার পরের দিন চীন। কি ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে তৎপরতা; কি জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন; কি ওআইসি; কি ‘আল-কুদস কমিটি’; কোথায় নেই জিয়া? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার হোয়াইট হাউজে সম্বর্ধনা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াকে। হোয়াইট হাউজের কাছে জিয়া নেমেছিলেন হেলিকপ্টারে করে। এটা সম্ভব হয়েছিলো- জিয়ার স্টেটসম্যানশীপ ব্যক্তিত্ব ও কর্মের জন্যই। বাংলাদেশের অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট বা সরকার প্রধানের ভাগ্যে এ সম্মান জুটে নি। ১৯৮০ সালে মর্কিন প্রেসিডেন্ট কার্টার হোয়াইট হাউজ লনে শতাধিক বিদেশী সাংবাদিকের সামনে জিয়ার প্রশংসা করে বলেছিলেন, “শুধু মুসলিম দেশ ও সমাজের মধ্যেই নয়, প্রকৃতপক্ষে গোটা বিশ্বসমাজে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমরা তার জন্যেও কৃতজ্ঞ। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসাবে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক দুর্যোগের মাসগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে” (রুহুল আমিন সম্পাদিত জিয়াউর রহমান স্মারক গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৯৯৩)।

আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সংগঠন তৈরীর জন্য জিয়া চিঠি দিলেন দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোতে। পাঠালেন দূত। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে জন্ম হলো–দক্ষিন এশীয় আঞ্চলিক সহযোতিা- SAARC. এক ভিশনারী রাষ্ট্রনায়ক ও বিশ্বনেতা জিয়াউর রহমানের কর্মের মূল্যায়ন এ দেশের কিছু অন্ধ দলবাজ করতে না পারলেও তাকে চিনেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, রোনাল্ড রেগ্যান, কূট ওয়াল্ড হেইম, হাবিব সাত্তি, মার্গারেট থেচার, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, মার্শাল টিটো, ইয়াসির আরাফাত, শেখ জাবের আল সাবাহ, আহমেদ সেকুতুরে, সুহার্তো, সাদ্দাম হুসেন, শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান, মোরারজী দেশাই, ইন্দিরা গান্ধী, রিচার্ড জয়বর্ধনে, রাজা জিগমে সিংমে ওয়াংচুক, মামুন আবদুল গাইউম, রাজা বীরেন্দ্র, জিয়াউল হক, বাদশাহ হুসেনের মত বিশ্ব নেতৃবৃন্দ।

১৯৮১ সালে তাঁর অকাল শাদাদৎ না হলে আজ জিয়া হতেন মুসলিম বিশ্বের অবিংসবাদিত নেতা।


http://www.ghoshona26march.com/?p=293&single=5
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৯:৩৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×