আজ এমন একটা ব্যাপার
নিয়ে লিখতে বসেছি,
যে ব্যাপারে আমি কোনদিনই কারও
সাথে কথা বলিনি, শেয়ার করিনি।
.
.
সালটা সম্ভাবত ২০১৭, ঠিক
মনে পড়তেছে না, তবে তারিখ
মনে আছে নভেম্বর মাসের ২ তারিখ
(তারিখ মনে থাকার বিশেষ
একটা কারন আছে তা আজ বলছি না),
আগ্রহায়ন মাস আসবে আসবে ভাব। এই
মাসটা আমার খুবই প্রিয়
কারন, এর পরেই শীত ঋতুটির আগমন ঘটে।
এইবার আসি আসল কথায়, অফিসের পথ
ধরেছি,
সকালে বাসা থেকে নাস্তা করে বের
হইনি। তাই ভাবলাম পথে কোন
জায়গায় বার্গার-ঠার্গার
খেয়ে নাস্তাটা সেরে নেব,
একটাতে ঢুকলাম,
প্লেটে নিয়ে বসতে যাব, এমন সময়
পিছন থেকে অনেক পরিচিত গলায়
একটা ডাক শুনলাম,
সাথে সাথে মনটা খুশি হয়ে গেল,
মুখে হালকা মিষ্টি হাসি আসলো,
তা কন্ট্রোল করে মুখটাকে অবাক
হওয়ার ভঙ্গি করে পিছে তাকালাম।
প্রশ্ন আসলো,
..কি অবস্থা, কেমন আছ তুমি ? হাতটাও
আগায়ে আসলো।
...হাত মিলিয়ে,
উত্তরটা এড়িয়ে গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন
করে বসলাম, আদিবা তুমি এখানে ?
..কেন, তুমি জান না ? আফনানের
ট্রান্সফার ঢাকায় হয়েছে !! তোমার
সাথে কথা হয়নি ?
...তোমার সাথেই তো কতদিন
কথা হয়না, আফনানের
সাথে কিভাবে হবে ? তোমার
কারনেই তো ওর সাথে হত !
..বাদ দাও, আমরা ওই যে, ওই
ফ্লাটে থাকছি, উপর
থেকে কয়েকদিন
তোমাকে দেখেছি, তাই আজ
নিচে দাড়িয়ে ছিলাম দেখা করব
বলে।
...শুনেছি আফনানের
আবারো প্রোমোশন হয়েছে ?
..হ্যা, তার পরেই
তো এখানে এসেছি।
...তাহলে তো অনেক সুখেই দিন
কাটছে তোমাদের ? (প্রশ্ন করেই ওর
মুখের দিকে তাকালাম, মূহুর্তের
মধ্যে মুখের রং টা পাল্টে গেল,
সাথে সাথেই স্বাভাবিক
করে ফেলল, ইমোশন কন্ট্রোলের
ব্যাপারে ও বরাবরই টপক্লাসের)
আমার কথার উত্তর না দিয়ে বলল,
..আমি এখন যায়, একদিন সময়
করে বাসায় এসো, বেড়াতে যাব।
এই বলে, আমাকে কোন কথার সুযোগ
না দিয়েই চলে গেল.....
আমি আবারো অবাক হয়ে তার
চলে যাওয়ার পথের
দিকে তাকিয়ে থাকলাম, ঠিক
যেমনটি তাকিয়ে ছিলাম বছর কয়েক
আগের সেদিন।
সেই দিনের কথা বলব, শেষে।
আগে বলব হঠাৎ ওর মুখের
রং পাল্টে যাওয়ার কারন
এবং ঐভাবে হঠাৎ চলে যাওয়ার
কারন।
আদিবার পরিবার অনেক সম্ভ্রান্ত ও
ধনী। ওদের বিয়েটা ভালবেসেই
হয়েছিল কিন্তু টাকা, পজিশন,
স্টাটাস অনেক সময় মানুষকে খুব
বেশি নোংরা করে ফেলে,
যেমনটি হয়েছিল আফনানের
বেলাতে।
(আমি আফনানের ব্যাপারে সবসময়ই
খোঁজ রাখতাম, রাখি)
ওদের বিয়ের দেড় বছরের মাথায়
কোন এক ইমার্জেন্সিতে একদিন
ওদের বাড়িতে যায়, গিয়েই
আমি হতভম্ভ হয়ে যাই, আদিবার
হাতে ও মুখে কয়েকটি অস্বাভাবিক
দাগ দেখতে পায়, কিছুক্ষন কথার পর
কথায় কথায় আমি দাগের
ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই ও
বলে আমি বাইরে যাব তুমি এখন যাও,,
শুনে আমি চলে আসি।
আফনানের সাথে ওর আরও অনেক
সমস্যা হয়েছে যা আমি প্রকাশ
করতে চাচ্ছি না। শুধু এইটা বলছি,
আমি যেকোনভাবে সেটা জেনেছি।
এইবার আসি আমার অবাক
হয়ে তাকিয়ে থাকার প্রসঙ্গে,
আমাদের বন্ধুত্ব অনেকদিনের,
আমাদের মধ্যে তেমন কোন
গোপনীয়তা ছিল না(বেসিক কিছু
ব্যাপারে ছাড়া)।
আমরা সব কথাই একে অপরের
সাথে শেয়ার করতাম।
আমাদের দুজনের বন্ধুত্ব
দেখে আমাদের অন্য বন্ধুরা ইর্ষা করত।
(শব্দটা কিন্তু "ইর্ষা", "হিংসা" না।
হিংসা আর ইর্ষার মধ্যে বিস্তর
পার্থক্য আছে)
আমাদের বন্ধুত্ব একসময় ভালবাসায়
রুপান্তরিত হয়, দুঃখিত !
কথাটা আসলে হবে এই যে, আমার
বন্ধুত্ব একসময় ভালবাসায় রুপান্তরিত
হয় !! মনে মনে আমি একসময়
তাকে চাইতে শুরু করেছিলাম।
এরই মাঝে আদিবা আমাকে একদিন
আফনানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়
তার নতুন বন্ধু বলে।
তার কয়েকদিন পরেই জেনেছিলাম,
আফনান আসলে ওর শুধু বন্ধু না, তার
থেকেও বেশি কিছু। ওদের প্লান
অনেক দুরপর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।
আফনানের সাথে আমার পরিচয় অবশ্য
সেদিন থেকে না, আরও
আগে থেকেই, অন্য এক
সূত্রে তাকে আমি ভালভাবেই
জানতাম। সেজন্য সেদিন আমি অবাক
হয়েছিলাম, এইরকম একটা ছেলের
সাথে আদিবা প্রেম করবে আমার
সবচেয়ে কাছের বন্ধু !!?!!
আফনানের অনেক সমস্যার(চারিত্রিক)
কথা আমার জানা ছিল,
আমি নিজেও একদিন ওর ওই সমস্যার
কারনে আমার কয়েকজন বড়ভাইয়ের
কাছে চরম অপদস্থ হতে দেখেছিলাম।
এর বেশি আমি এখানে বলছি না।
আমি ইশারা-ইঙ্গিতে আফনানের
সমস্যার ব্যাপারে বুঝাতে চাইতাম,
কিন্তু আদিবা আমাকে অবিশ্বাসের
হাসি দিয়ে আমার
কথা উড়িয়ে দিত।
তাই ওকে বিপদ
থেকে রক্ষা করতে একদিন
সরাসরি আফনানের ব্যাপারে বললাম
এবং কয়েকটি প্রমানও দিলাম,
সাথে আমি যে ওকে অনেক
ভালবাসি এই কথাও জানালাম। আর
বললাম, এই
কারনে আমি তোকে খুশি দেখতে চাই,
ভাল চায়।
এইখানেই আমি ভুলটা করি, প্রমান
দেয়া পর্যন্ত ঠিক ছিল কিন্তু আমার
ভালবাসার কথাটা বলা ভুল ছিল।
কারন, ও
ভাবলো আমি ভালবাসি বলেই
আফনানকে হিংসা করছি, আফনানের
সম্পর্কে উল্টা-পাল্টা বলছি, নিজের
স্বার্থের কারনে !!
ওইদিনথেকেই আমার সাথে কথা ও
যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। যাওয়ার
সময় সে আমাকে অপ্রীতিকর ও অকথ্য
ভাষায় কথা বলে আমাকে প্রচন্ড
রকমের অপদস্থ করে চলে যায়,
আমাকে কোন কথা বলার সুযোগ
না দিয়েই চলে যায়।
আমি অবাক হয়ে তার চলে যাওয়ার
পথের দিকে অবাক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি,
স্তব্ধভাবে.....
.
.
পরে অবশ্য আফনান, আদিবা ও আমাদের
সম্পর্কে কি ঘটেছিল
বা কিভাবে শেষ হয়েছিল
বা কিভাবে শুরু হয়েছিল,
তা আমাদের
সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট সবাই
জানে, সেজন্য
এব্যাপারে লিখছি না।
প্রয়োজন বোধ করলে অন্য আরেকদিন
লিখব।
.
.
.
আজ,
পিছন থেকে সেই পরিচিত গলায়
ডাক পড়ল,
..এই, তোমাকে এককাপ কফি দেব ?
...না, এখন লাগবে না।
..আমার খুব খেতে ইচ্ছে করতেছে,
বানিয়ে আনি দুই কাপ ?
...আচ্ছা ঠিক আছে, নিয়ে এসো....
(আবারো, মুখে সেই
মিষ্টি হাসিটা........!!)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




