গল্পের চরিত্র দুইটির মধ্যে ছেলেটার নাম রাফাত, আর মেয়েটির নাম নাজনিন।
মনে করেন আমি রাফাত,
রাফাতের হয়ে গল্পটা বলছি......
.
.
প্রায় ১ বছর আগের কথা, নোটিফিকেশন সাউন্ডটা বেজে ওঠে, চেক করে দেখি একটা মেয়ের আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এসেছে।
কিন্তু আমি তো অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট তেমন Accept করি না, তাই ঝুলিয়ে রাখি।
তার কয়েকদিন পরের কথা, একটা মেসেজ আসে, সেই আইডি থেকে, তাতে লেখা "আসলে আমার লিস্টে তেমন বেশি ফ্রেন্ড নেই, এ্যাড করি না, মাত্র ১৩ টা, আমি তেমন কাউকে রিকোয়েস্ট পাঠায়ও না, আপনার দুয়েকটি লেখা আমার খুব পছন্দ হয়েছে তাই পাঠালাম"
আমি রিপ্লাই দিই "আমি সবার রিকোয়েস্ট Accept করি না, সাধারনত পরিচিতদের ও যারা ভাল স্টাটাস পোস্ট করে শুধু তাদেরগুলো Accept করি"।
মেয়েটি "সরি" বলে রিকোয়েস্ট পাঠানোর জন্য,
নিজেথেকেই রিকোয়েস্ট ক্যান্সেল করে দেয়।
কেমন যেন ধাক্কা লাগে, কিরকম একটা লাগে,
তাই নিজেথেকেই তাকে রিকোয়েস্ট পাঠায়, আর তাকে উল্টা "সরি" বলি, মেয়েটি এক্সেপ্ট করে।
তার পর নিয়মিত চ্যাট হতে থাকে, কথায় কথায় জানতে পারি মেয়েটি আমার থেকে বেশ কয়েক বছরের বড়।
সে আমাকে বেশ পছন্দ করে, আমাকে ছোট ভাই বলে, নামধরে ডাকে, আমি আপু বলি।
আমাদের সম্পর্ক যখন বেশ ভাল হয়, একপর্যায়ে আপু বলে..... আমি আসলে অনেক দুর্নামগ্রস্ত মেয়ে, আমার বাড়ি কুমিল্লা, এখন ঢাকায় থাকি, আমার আসলে তেমন কোন বন্ধু নেই, আমার কথা গুলো শেয়ার করার লোক নেই, তোকে দেখেই আমার কেমন যেন ভাল লাগে, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, হয়ত করিও, তোকে আজ আমার লাইফের কথা বলব।
এই বলে শুরু করে...... আমি খুব গরিব পরিবারের মেয়ে ছিলাম যদিও এখনো খুব ভাল অবস্থায় নেই, তবে বেশ সচ্ছল, আমার বাবা মারা যায় তখন আমার বয়স যখন ১৭।
মা আমাকে নিয়ে ঝামেলায় পড়ে। যেহেতু আমার বাবা নেই, আর এলাকার অবস্থাও তেমন ভাল না,
এলাকার বখাটেরা আমাকে উত্তক্ত করে,
প্রেম, বিয়ের প্রস্তাব দেয়, শেষপর্যন্ত কুপ্রস্তাব দেয়, আমি রাজি হইনা বলে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।
একপর্যায়ে এলাকার মাস্তানরা আমাকে ধরে নিয়ে যায়।
তাকে একটা বাড়িতে আটকে রাখে, প্রতিদিন আমাকে পালাক্রমে ৬-৭ জন ধর্ষণ করতে থাকে,
আর আমাকে ওই ঘরে আটকে রাখে, অত্যাচারের মাত্রা বাড়তেথাকে, আমি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ি, তারপরেও তারা ক্ষান্ত দেয় না, অসুস্থ অবস্থায় আমার উপর অমানুষিক অত্যাচার করতে থাকে, মাত্রা বাড়তে থাকে, নতুন নতুন লোক আসতে থাকে যাদের আমি চিনি,
একদিন চিন্তাকরি আত্মহত্যা করব,
ওড়না একদিন ফ্যানের সাথে বেধেও ফেলি, কিন্তু তখন আমার মনে হয়, মারা গেলে তো সব শেষ !
আমাকে বেচে থাকতেই হবে, টিকে থাকতে হবে।
ফিরে আসি।
এইরকম ৫-৬ বার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি, বারবার মনকে এই কথা বলে বুঝিয়ে ফেরত এসেছি, #মারা_গেলেই_তো_সব_শেষ !
একদিন হঠাৎ শুনতে পাই, তারা নাকি আমাকে পতিতালয়ে বিক্রয় করে দিবে। এতে আমি আবার আত্মহত্যার ট্রাই করতে যাই, কিন্তু মনকে আবার বোঝায়, এই তো সুযোগ !
পতিতালয়ে থেকে তাদের আস্থা অর্জন করে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার অনুমতি পাবো, তখনই পালাবো দুরে, অনেক দুরে।
ওইখানে(পতিতালয়ে) অনেকদিন থাকতে হয়,
তবে মাথায় একটা ব্যাপার সবসময়ই থাকতো "এইখানে এইভাবে বাচার জন্য আমি দুনিয়াতে আসিনি, আমাকে আমার কাঙ্খিত জীবন-যাপন করতে হবে, বাচার মত বাচতে হবে।"
একদিন সেইদিন আসে পালানোর, পালিয়ে যাই, ঢাকাতে।
(পরে জেনেছিলাম পতিতালয়ে থাকা অবস্থায় মা মারা যায়।)
.
.
সে এখন ঢাকায় থাকে, ঠিকানা আমাকে এখনো কোনদিন বলেনি, আমিও কোনদিনই জানতে চায় নি,
পালানোর ৬বছর পর সে বিয়ে করে, তার অতীতের সব কথা জেনেই ভাই তাকে বিয়ে করে। তার এখন ২টা বাচ্চা ও স্বামীর সংসার, আপু গার্মেন্টস এ কাজ করে। আপু বলে, আমি এখন অনেক সুখী,
বিয়ের আগে আমি তাকে(স্বামীকে) এব্যাপারে সব বলেছি, আমার স্বামী আমাকে কোনদিনই এইব্যাপারটার কারনে নিচু ভাবে না। আমাকে খুব সম্মান করে।
ভাইয়া নাকি তার এই মনোবল ও নিজের প্রতি ভালবাসা দেখে তাকে খুব বেশি পছন্দ করে, এইটা নাকি তাকে মাঝেমাঝেই বলে।
আপু আমারে বলেছিল, একদিন তার ছবি আমাকে দেখাবে, আমি মানা করেছিলাম।
তার সাথে এখনও কথা হয় প্রায়ই।
সে আমাকে বলে, রাফাত; কখনো হতাশ হয়ে যাবি না, হতাশ হলেই সব শেষ, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবি, যখন দেখবি কোন সম্ভাবনা নেই, তখন বর্তমান অবস্থাকে শ্রেষ্ঠ মনে করবি, অপেক্ষা করবি সুযোগের,
আপু আরো বলে, আমার মত ভুলেও নিজেকে শেষ করতে যাবি না, #আত্মহত্যা_কোন_সমাধান_হতে_পারে_না।
.
.
আমি এখনও মনোবলের অভাবজনিত কোন সমস্যায় পড়লে আপুর কথা মনে করি, তাকে নক করি অনুপ্রেরণার জন্য, সে আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়, আমাকে রিফ্রেস করে.......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




