
দেশাত্মবোধ? কোথায় দেশাত্মবোধ? বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে বেশি আয় করতে পারলে বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটার যে জাতীয় দলে খেলা ছাড়তেও রাজি! জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই মত তাদের।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংস্থা ফিকা এক জরিপের পর এই খবর প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের সাথে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের সহমত। তাই টেস্ট ক্রিকেট কমিয়ে বেশি বেশি টি-টোয়েন্টি আয়োজনের জন্য ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিকে পরামর্শ দিয়েছে ফিকা। সাতটি দেশের ১২৯ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে জরিপ করেছে ফিকা।
প্রশ্ন ছিল, "ফ্রি এজেন্ট হিসেবে (শুধু আইপিএল, বিগ ব্যাশের মতো টি-টোয়েন্টি লিগে খেলে) যথেষ্ট বেশি আয় করতে পারলে আপনি কি জাতীয় দলের চুক্তি প্রত্যাখ্যানের কথা ভাববেন?"
জরিপের প্রশ্নটাকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। সব মিলিয়ে ৪৯ শতাংশ ক্রিকেটার বলেছেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে বেশি আয় করতে পারলে জাতীয় দলের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করতে আপত্তি নেই তাদের।

বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এটি ৫৮.৬ শতাংশ।
ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ৩৯.৩ শতাংশ ক্রিকেটার এমনটা হলে জাতীয় দলকে উপেক্ষা করতে রাজি।
আইসিসির কাছে ফিকার প্রধান নির্বাহী টনি আইরিশ তার রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সেখানে খেলোয়াড়দের এই মনোভাবের ব্যাখ্যাও দেওয়া আছে। "নিউজিল্যান্ডের একজন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ১৭১,০০০ পাউন্ড আয় করতে পারে। টি-টোয়েন্টি লিগ থেকে সেই আয় ৩৮০,০০০ পাউন্ড।" এখানে ৭০ দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার হিসেব দেওয়া হয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেটি মাত্র ৩২ দিন। ফিকা মনে করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে নিজের নিরাপত্তার জন্যই পরিকল্পনা বদলানো দরকার।
ঘটনা সত্য হলে তা খুবই দু:খজনক। দেশের থেকে টাকা কখনো বড় হতে পারে না। আমাদের দেশের বিভিন্ন সেক্টরে যত দূর্নীতিবাজ মানুষই থাক না কেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দেকে অন্তত সে রকম মনে করি না। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এরকম করবে না।
সূত্র: কালের কন্ঠ (০১.০৭.২০১৬-অনলাইন), ছবি: গুগল
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


