somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মীয় মূল্যাবোধে নববর্ষ

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সবসময় ইসলাম নতুনত্বকে গুরুত্ব দেয়। প্রতিটি দিন ও ক্ষণ যেমন নতুন, প্রতিটি বছরও নতুন হওয়াতে দোষ নেই। আর নতুন দিন বা বছর রাসূলের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের শুরুতে ‘আসবাহনা ওয়াআসবাহাল মুলকু লিল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ বলে একত্ববাদের বাণী উচ্চারণ করেছেন। নববর্ষ মানেই নতুন কিছু—নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন সংকল্প। এসব দিনে পেছনের র্কীর্তিকর্মের হিসাব কষে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দৃঢ়সংকল্প হওয়াই ইসলামের আদর্শ। কিন্তু এগুলোর ধারেকাছেও কোনো বাঙালিকে দেখা যায় না। অথচ ৩৬৪ দিনে কোনো খবর না থাকলেও শুধু একটি দিনের জন্য খুব বাঙালিপনার আদিখ্যেতা দেখায় অনেকে। মেতে ওঠে অশ্লীল কার্যকালাপে। ঘটাতে থাকে অন্য সংস্কৃতির মিলন।

ইসলামে বিনোদন দোষের কিছু নয়। যদিও আজকাল গরিষ্ঠাহারে বিনোদন শব্দটি অশ্লীলতার মোড়কে আবৃত। প্রাচ্যবিদরা ইসলামের একেকটি পরিভাষাকে বির্তকিত করেছে। সংকুচিত করেছে। সীমাবদ্ধতায় আঁকড়ে রেখেছে। একটা সময় ‘হিজাব’ ছিল নারীর পর্দা, সময়ের বিবর্তনে এখন স্টাইল। দেহের গঠনতন্ত্র জানান দেয়া এবং মুখশ্রী অক্ষুণ্ন থাকার দোহাইযন্ত্র এসব ‘হিজাব’ এখন ইসলামের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই প্রাচ্যবিদদের মতো আমরাও একটি আনন্দদায়ক শব্দ— বিনোদনকে অশ্লীলতার গহ্বরে সেঁটে দিয়েছি। তাই বিনোদন হতে পারে শালীনভাবে। সেটা হোক যে কোনো দিনে। দিন তো প্রত্যেকটিই নতুন।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, হিজরি সন গণনা করা হয় রাসূলের মক্কা থেকে মদিনা হিজরতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হজরত ওমর রাযি. রাসূলুল্লাহর হিজরতকে স্মরণীয় করে রাখতে হিজরতের বছরকে ভিত্তি বছর ধরে ‘হিজরি সনে’র প্রবর্তন করেন। পরে মুঘল সম্রাট আকবর সভাসদ আমীর ফতেউল্লাহ সিরাজীর পরামর্শে হিজরি ৯৬৩ সনকে বাংলা ৯৬৩ সন ধরে বাংলা সন গণনার নির্দেশ দেন। এটি প্রথমত ‘ফসলী সন’ নামে ১৫৮৪-এর মার্চ মাসে প্রবর্তিত হয়। প্রকৃতপক্ষে ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের দিনটি থেকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের সূত্রপাত।



সে সময়ে এই বাংলা নবর্ষের অনুষঙ্গ ছিল ‘হালখাতা’। উদ্দেশ্য ছিল ‘উশর’, ‘খারাজ’ বা ফসলি কর পরিশোধের আনন্দ প্রকাশ করা এবং ব্যবসায়ের হিসাব ও খাজনা ‘রাজকীয় খাতায় হালনাগাদ’ রাখা। এ উপলক্ষে রাজা-জমিদারকে প্রজারা তাদের সৃজনশীল পণ্য, সূচিকর্ম উপহার দিত। রাজা-জমিদাররাও প্রজাদের ‘কর রেয়াত’ ও ‘ইনাম’ দিতেন। মেহনতি কৃষক খাজনা আদায়ের আগ্রহে বলত, ‘আর ক'টা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি...’ কিন্তু বর্তমানে তা হয়েছে এক দিনের সস্তা বিনোদনসর্বস্ব বিষয়। নববর্ষের অতীত ভুলে পালিত হয় শহুরে ঘরানায়। ব্যান্ড ও ব্র্যান্ডিংয়ের কল্যাণে বসে বাণিজ্যিক পসরা।

পক্ষান্তরে তদানীন্তনকালে হাড়ভাঙা শ্রমে ক্লান্ত যে কৃষক ঋণে জর্জরিত- তার কাছে বাংলা নববর্ষের বিনোদন কতটুকুই বা ছিল! তাছাড়া খাদ্যের সঙ্গে মিশে থাকা চুল, কাঁকরজাতীয় বস্তু যেমন অখাদ্য, তেমনি সংস্কৃতির মধ্যে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ খাদ্যে ভেজালের নামান্তর নয় কি?

স্মরণ রাখতে হবে, উৎসবের আবহে নারী-পুরুষের অবাধ-অবাধ্য মেলামেশা ইসলামে অনুমোদিত নয়। ‘চোখের হেফাজত’ খুবই তাত্পর্যপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ নির্দেশ করছেন- ‘হে নবী! আপনি মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে।’ (সুরা নুর : ৩০)

পর্দা বজায় রাখা নারী-পুরুষ সবার জন্যই সার্বক্ষণিক বাধ্যতামূলক বিধান। আর বিনোদন যেন অপচয়ের কারণ না হয়, তা-ও খেয়াল রাখা জরুরি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর কিছুতেই অপব্যয় করবে না। যারা অপব্যয় করে, তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৬, ২৭)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৭:০৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?
============================================
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×