somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কার পেছনে আপনে চড়বেন?

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
একটা রাইড শেয়ারিং কোম্পানিরে দেখলাম বিজ্ঞাপন বানাইছে। বিজ্ঞাপনের লিড ডায়ালগ হইতেছে, কার পেছনে আপনে চড়বেন?


বিজ্ঞাপনের ভিডিওটাতে দেখা যাইতেছে, একটা ছেলে নির্দিষ্ট ছকের ভেতর দিয়া বাইক চালানোর জন্য ড্রাইভিং টেস্ট দিতেছে। এরপর ছকের ভেতর দিয়া চালাইতে ব্যর্থ হয়া পইড়া গেছে। ব্যাকগ্রাউন্টে কলিজার ধুকপুকানি আওয়াজ। কিছু একটা হইতে যাইতেছে টাইপ। এরপর পরীক্ষক কইলো, সরি ভাই, আমরা আপনেরে নিতে পারতেছি না। ছেলেটা হতদরিদ্র চেহারা নিয়া মায়ে হাসপাতালে আছে প্রচুর টাকার প্রয়োজনভঙ্গিতে আমতা আমতা কইরা কইলো, ভাই চাকরিটা খুব দরকার আমার।

কাহিনি এই পর্যন্তই। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক কথাবার্তা এবং স্লোগান। কইলো—“দুঃখিত, এইখানে (কোম্পানির নাম) অদক্ষ চালকগোরে নেয়া হয় না। কারণ, আমাদের কাছে সব কিছুর আগে যাত্রীদের নিরাপত্তা। আর এক্ষেত্রে সবচে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হইতেছে, কার পেছনে আমাদের যাত্রীরা চড়ছেন?”

লাস্ট ও ফিনিশিং ডায়ালগে কইলো—“আপনে যে রাইড ব্যবহার করছেন, সেখানে চালকদের দক্ষতার ব্যাপারটা গুরুত্ব পায় তো?”

আমার কাছে বিষয়টা তাৎক্ষণিক ভালোই লাগছে। দেশ আগায়া যাইতেছে। জনগণের সাথে কোম্পানিগুলোও সতর্ক হইতেছে। মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হইতেছে। খারাপ কি?

কিন্তু নিচে দেয়া ডিসক্রিপশনে গিয়া দেখলাম, তাদের কাছে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ছবি, এনআইডি, গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চাইতেছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স কেন চাইতেছে? তারা তো টেস্ট ড্রাইভ নিতেছেই, যেমনটা বিজ্ঞাপনে দেখলাম। তাইলে কি বিআরটিসির লাইসেন্স ও তার ড্রাইভ টেস্ট নিয়া আঙ্গুল তুলতেছে কোম্পানিটা? তাও আবার সেইটা বিজ্ঞাপনের ভাষায়? বাংলাদেশ সরকারের একটা অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যখন এইভাবে খুল্লমখোলা কথা কয়া পার পায়া যায়, তখনই বুঝা যায়, বাংলাদেশ কতটা নিচে আছে! তবুও দেখেন, কারো টনক নড়ে না?

তার উপর পাবলিকরে শেষে গিয়া কনফিউশনে ফালায়া দিতেছে এই বইলা, “আপনে যে রাইড ব্যবহার করছেন, সেখানে চালকদের দক্ষতার ব্যাপারটা গুরুত্ব পায় তো?” মানে, আমরাই সরকারের এই দূর্বল জায়গাটায় প্রথম হাত দিছি। অন্য কেউ দিতে পারছে?

ছবি প্রতীকী, সূত্র ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৪
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কমলা রোদের মাল্টা-১

লিখেছেন রিম সাবরিনা জাহান সরকার, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:১৫



চারিদিক রুক্ষ। মরুভূমি মরুভূমি চেহারা। ক্যাকটাস গাছগুলো দেখিয়ে আদিবা বলেই ফেলল, ‘মনে হচ্ছে যেন সৌদি আরব চলে এসেছি’। শুনে খিক্ করে হেসে ফেললাম। টাইলসের দোকান, বিউটি পার্লার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেপ্টেম্বর ১১ মেমোরিয়াল ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-২

লিখেছেন রাবেয়া রাহীম, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:০০



২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ধসে পড়ে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার খ্যাত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের গগনচুম্বী দুটি ভবন। এই ঘটনার জের ধরে দুনিয়া জুড়ে ঘটে যায় আরও অনেক অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ২১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৯



সুমন অনুরোধ করে বলল, সোনিয়া মা'র জন্য নাস্তা বানাও।
সোনিয়া তেজ দেখিয়ে বলল, আমি তোমার মার জন্য নাস্তা বানাতে পারবো না। আমার ঠেকা পরে নাই। তোমার মা-বাবা আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চন্দ্রাবতী

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪১


চন্দ্রাবতী অনেক তো হলো পেঁয়াজ পান্তা খাওয়া........
এবার তাহলে এসো জলে দেই ডুব ।
দুষ্টু স্রোতে আব্রু হারালো যৌবন।
চকমকি পাথর তোমার ভালোবাসা ।
রক্তমাখা ললাট তোমার বিমূর্ত চিত্র ,
আমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই নোবেল বিজয়ী নিজ দেশে রাজনৈতিক কুৎসার শিকার

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪০

সুয়েডীয় বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইলের মর্মানুসারে নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×