somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রিদওয়ান হাসান
বিন্দুর মাঝে সিন্ধু দর্শনের আশায় পথ চলি...

করোনার প্রতিরোধে পদক্ষেপ : চীন বনাম আমেরিকা

০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চীন হচ্ছে একটি একদলীয় শাসনাধীন সরকার ব্যবস্থায় পরিচালিত দেশ। অর্থাৎ মিলেটারি ডিক্টেটরশিপ চলে এদেশে। চাইনিজরা খুব একটা বৌদ্ধও নয়। এরা ঠিক কোনো ধর্মের ধারে কাছে ঘেষে না, নাস্তিকমতো চালচলন এদের। এদের অভিধানে 'রিলিজিয়ন' শব্দটি নেই। ধর্ম কী জিনিস, সেটা এরা না জানে, না জানায়। এরা শুধু বুঝে 'টাকা' বা 'রিনমিমবি' (আরএমবি/ ইউয়ান)।

এখানে জনমত প্রকাশ করা নিষেধ। প্রকাশ্যে রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা একটি রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ। দেয়ালে কোনো পোস্টার সাটকানো বা দেয়াল লিখনও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ। এমনকি চীনে 'উচ্চস্বরে কথা বলা' বা 'সাউট' করাও একটা ফৌজদারী অপরাধ। রাষ্ট্রে যে কোনো নির্দেশনা বিনাবাক্য ব্যয়ে পালন করা 'ফরজ'। চাইনিজরা রাষ্ট্রের নির্দেশের বাইরে কোনো কিছু বলা বা করার কথা চিন্তাও করতে পারে না। সেদেশে আইন ও তার বাস্তবায়ন হয় লিখিত আকারে অক্ষরে অক্ষরে।

যখন উপর্যুক্ত গুণাবলীর দেশটিতে করোনা মহামারীরূপে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারও বুঝতে পারে এটি একটি বড় মহামারী; সঙ্গে সঙ্গে চীন সরকার কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল করোনার প্রাদুর্ভাব দমনে। চলুন, দেখে নেয়া যাক :

১। ১৫০ কোটি মানুষ এবং বিদেশীরাও যে যেখানে যে স্থানে যে অবস্থায় রয়েছে সেখান থেকে কেউ মুভ করতে পারবে না। মূল ভবন থেকেই বাইরে বের হতে পারবে না; প্রয়োজনে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিতে বলা হলো।

২। ঘোষণা দেয়া হলো, কার বাসায় কী কী খাবার প্রয়োজন, তার একটা ফিরিস্তি দিতে। এবং প্রতিটি বাড়িতে যার যা দরকার তা সরকারিভাবে পৌঁছে দেয়া শুরু হলো। অর্থাৎ জনগণের খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান নিরাপদ করা হলো; বিদেশীদেরও। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষ নির্ধারিত স্থানে 'অবরুদ্ধ' হয়ে গেল। ইতিমধ্যে লাখ লাখ কোম্পানি, ফ্যাক্টরি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব কিছুই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

৩। অসংখ্য অস্থায়ী হসপিটাল তৈরি হয়ে গেল সপ্তাহান্তে। অতিরিক্ত ডাক্তার, নার্স নিয়োগ দেয়া হলো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেস্ট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হলো। ঘরের বাইরের পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীও নামানো হলো। আর চাইনিজরা যেহেতু সরকারি নির্দেশের বাইরে খুব একটা যায় না এবং সরকারও জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই করছে; সেহেতু মানুষও সরকারকে সহায়তা করলো সর্বাত্মকভাবে।

৪। অসুস্থদের হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবং বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হলো। মৃতদের পুড়িয়ে দেয়া হলো। চীনে পুড়িয়ে দেয়ায় বা কবর দেয়ায় কিছুই যায় আসে না, ধর্মহীন মানুষের আবেগ কম থাকে।

করোনা ভাইরাসকে নির্মুল করতে চীন প্রথম মাসেই এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কাজেই আক্রান্তের সংখ্যাটি কমতে শুরু করলো। ৮২ হাজারের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত হয়ে গেলো। যদিও ৩ হাজারের বেশি লোক মারা গেছে, তবুও রিকভার হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছে অনেকেই।

এবার যখন নতুন করে আর আক্রান্ত হবার সুযোগ থাকলো না, তখন তারা নিশ্চিত করলো যে, বিদেশ থেকে কেউ চীনে ঢুকলে তাকে এয়ারপোর্টেই প্রথমে করোনা টেষ্ট করা হবে। এই প্রেক্ষিতে যদি তার টেস্টে করোনা পজেটিভ হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ওখান থেকেই হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হবে। আর যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে তাকে হয় সরকারি ব্যবস্থাপনায় অথবা ব্যক্তিগত উপায় থাকলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১৪-দিনের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে আবদ্ধ থাকতে হবে। এভাবে তার ঘরে তালা মেরে দেয়া হলো, যেন সে বাইরে যেতে না পারে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের ব্যবস্থা করা হলো সরকারি পর্যায় থেকে।

এভাবে চীন করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলো। প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দেশ আমেরিকা কেন করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো না?

উত্তরটি খুব সহজ। প্রথমত, আমেরিকায় গণতন্ত্র, পূর্ণ নাগরিক অধিকার এবং মানবাধিকার অত্যন্ত বেশিমাত্রায় ভোগ করা যায়। সরকার চাইলেই জনগণের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারে না। সরকারি নির্দেশ কেউ অমান্য করলে তাকে 'জরিমানা' করা হয়; কিন্তু গ্রেফতার করা যায় না, গায়ে হাত তোলার কোনো নিয়ম নেই- এতে পুলিশেরই চাকুরি চলে যাবে।

২। ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে 'টাকা ছাড়া আর কিছু বুঝে না' বিধায় সে আমেরিকাকে 'অচল' করতে চায় না; সে সিদ্ধান্তহীনতা অথবা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে ভাইরাসটি স্প্রেড হবার সুযোগ করে দিয়েছে।

৩। যখন ওয়াশিংটন স্টেট বা ওরগেন স্টেটে করোনা ভাইরাসটির প্রকোপ দেখা দিলো, মানুষ আক্রান্ত ও মরতে শুরু করলো- তখনও ট্রাম্প নীরব। জনবহুল নিউইয়র্ক সিটিতে যখন আক্রমণ শুরু হলো; তখনই গভর্নর চিপায় পড়ে সে বাধ্য হলো প্রথমে একটা হসপিটাল শীপ পাঠাতে; এরপর অত্যন্ত আস্তে আস্তে সে বিভিন্ন কাজকর্ম করা শুরু করলো।

৪। যে করোনা ভাইরাসটি এতটা মহামারী রূপ নিতে পারে, সেটাকে নিয়ে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ টিকা আবিস্কারের জন্য ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে চাইলো মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার; কিন্তু কংগ্রেস মুহুর্তেই তার হাতে তুলে দিলো ৮.৬ বিলিয়ন ডলার; তারপরই গবেষণা শুরু হলো। সব কিছুতেই তার দেরি ও ভাড়ামী ভাব আছেই।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন সবচেয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:০৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×