somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এস.এম. আজাদ রহমান
নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়ে আমার ভার্চুয়াল জগত!

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা, শক্তিশালী বেসামরিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো। একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার দায়িত্ব প্রধানত বেসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ন্যস্ত থাকে। সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা।

যখন কোনো নির্বাচিত সরকার বারবার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে বাধ্য হয়, তখন প্রশ্ন জাগে—রাষ্ট্রের প্রচলিত বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো কি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে? যদি প্রশাসন, পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা জনগণের আস্থা হারায় অথবা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফলে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

তবে এটাও সত্য যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতীয় জরুরি অবস্থা, মহামারি কিংবা বিশেষ নিরাপত্তা সংকটের সময় সেনাবাহিনীকে সহায়ক শক্তি হিসেবে মাঠে নামানো অনেক দেশেই স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া। সমস্যা তখনই দেখা দেয়, যখন রাজনৈতিক বিরোধ, জনঅসন্তোষ বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা মোকাবিলার প্রধান উপায় হিসেবে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে নিয়মে পরিণত করা হয়। এতে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা জন্ম নিতে পারে যে বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অসামরিক কাঠামোর পরিবর্তে শক্তিনির্ভর পদ্ধতির প্রভাব বাড়ছে।

গণতন্ত্র কেবল নির্বাচননির্ভর ব্যবস্থা নয়; এটি প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সমন্বিত রূপ। তাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুস্থতা নির্ভর করে তার বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, স্বাধীনতা এবং জনগণের আস্থার ওপর। যখন সেনাবাহিনীর ভূমিকা ক্রমশ অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্র নিজের ভবিষ্যৎ, ভারসাম্য ও কার্যকারিতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। কারণ গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি অস্ত্রের প্রদর্শনে নয়, বরং জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন এবং শক্তিশালী বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে।

সুতরাং, নির্বাচিত সরকারের অধীনে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় ও সাংবিধানিক ভূমিকা থাকলেও, একটি পরিণত গণতন্ত্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সংকট মোকাবিলার প্রধান ভরসা হবে দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বেসামরিক প্রতিষ্ঠান। তখনই গণতন্ত্র তার প্রকৃত অর্থে নিরাপদ, শক্তিশালী এবং টেকসই হয়ে উঠবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×