''অনেকদিন আগে এক গ্রামে এক মা আর তাঁর
ছেলে বাস করতো। সেই ছেলে জীবনের নিয়মেই
বড় হল। খানিক দূরের একটি মেয়ের সঙ্গে তাঁর
প্রেমও হল। দুজনই-দুজনকে বড় ভালোবাসতো।
দিব্যি চলছিল প্রেম। কিন্তু শুধু প্রেম আর
কতদিন হবে! বিয়েটাও তো করতে হবে। ছেলেটি
বিয়ের প্রস্তাব দিয়েই বসলো মেয়েটিকে।
আপত্তি ছিল না মেয়েরও। শুধু ভাবী স্বামীকে
একটাবারের জন্য পরীক্ষা করে নিতে চাইলো
সে। তাই মেয়েটি বলল তাঁর প্রেমিককে, তুমি তো
আমায় বেশি ভালোবাসো না। তুমি তো তোমার
মাকেই ভালোবাসো। ছেলেটি আকাশ থেকে পড়ে
বলল, না গো। আমি মাকেও ভালোবাসি আবার
তোমাকেও খুব ভালোবাসি। কিন্তু মেয়েটির শুধু
এই কথাতে মন গলবে কীভাবে! তাই সে সরাসরি
বলল, আমাকে তুমি বোঝাও যে, তুমি তোমার
মায়ের থেকেও আমাকে বেশি ভালোবাসো।
ছেলেটি পড়ল বেজায় ফাঁপড়ে। সে বলল, আচ্ছা
বাবা, বলো তোমার জন্য কী করতে হবে?
মেয়েটি তখন বলল, তুমি তোমার মায়ের
হৃত্পিণ্ডটা কেটে নিয়ে এসে আমার হাতে দাও।
তাহলেই বুঝবো যে, তুমি তোমার মাকে নয়,
আমাকেই বেশি ভালোবাসো। ছেলেটি যে তখন
প্রেমে পাগল। বলল, আচ্ছা, তুমি যখন চাইছো,
তাহলে তাই হবে। তাই ছেলেটি চলল তাঁর
বাড়িতে। আর ছুড়ি বসিয়ে দিল দিব্যি তাঁর
মায়ের বুকে। মারা গেল ছেলেটির মা। ছেলেটি
তখন মায়ের হৃত্পিণ্ডটা খুবলে নিয়ে বেরিয়ে
আসতে গেল ঘর থেকে। যাতে তাঁর প্রেমিকাকে
সে এবার বিয়ের করতে পারে। ঘর থেকে বেরিয়ে
আসার সময় ছেলেটি দরজার চৌকাঠে হোঁচট
খেল। আর তাঁর হাত থেকে মায়ের হৃত্পিণ্ডটা
ছিটকে পড়ে গেল দূরে। ছেলেটি সামলে নিয়ে
উঠতে উঠতে শুনতে পেল, ওই হৃদপিণ্ডটা বলছে,
'আহা রে খোকা তোর লাগেনি তো?'
এই হল মা। বুঝলেন। আর কোনওদিন মাকে কষ্ট
দেবেন না। কারণ, আমার-আপনার সেই ক্ষমতাই
নেই, যা দিয়ে 'মা'কে কষ্ট দেওয়া যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৬ সকাল ১১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




