শিক্ষক আর শিক্ষার্থীর সম্পর্ক সেই গুরু-শীষ্যর মত আর নেই। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শিক্ষার্থীদের মাঝে তেমন ভাবে পাওয়া যায় না। শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকদের তেমন গুরুত্বদানও এখন নেই। দু'পক্ষের ভেতরেই ভালোবাসার সম্পর্ক পাওয়া দুষ্কর।
এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দোষটা অনেক বেশী বলব। কলেজ লেভেলের শিক্ষকরা যতটা আন্তরিক ভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে মেশেন সেখানে শিক্ষার্থীরা তার আন্তরিকতা সুযোগে অনেক সময় অনেক অপমানজনক আচরণ করে বসে। অনেক শিক্ষকই আবার প্রয়োজন ব্যাতিরেকেই অনেক বেশী ভাবগম্ভির। একটা দ্বন্দ্ব আছেই এই সম্পর্কে।
বাণিজ্যিক ভাবে শিক্ষা দেওয়ার জন্যও এই সম্পর্কের অবনমন। কিন্তু একজন শিক্ষকের বেতনের কথা ভাবুন, সে বেতনে কিভাবে সে পরিবার সামলিয়ে উপযুক্ত শিক্ষিত করবে শিক্ষার্থীদের? অপরদিকে যদি শিক্ষার্থীদের কথা ধরা যাক, তাদের উপর সব সময় একটা চাপ; এ প্লাস, সার্টিফিকেট, ভালো ভার্সিটি, ভালো চাকরি, তাকে ঘিরে পরিবারের মান সম্মান, সামাজিক 'স্ট্যাটাস'! ফলে তারও শিক্ষাটাকে বাণিজ্যিক ভাবে গ্রহণ করে, জানার বা শেখার আগ্রহের জন্য না।
এসবের দ্বায় ভার আমি দেব শিক্ষা পদ্ধতির। আমাদের শিক্ষা পদ্ধতিটা এমন ভাবে তৈরি যাতে শিক্ষককে মেন্টর হতে দেয় না, শিক্ষক শুধু একটি কাজে নিজুক্ত ব্যাক্তি হয়ে থেকে যান। শিক্ষার্থীরা হয় কলুর বলদ। সমাজ, পরিবার, আপন জনের স্বপ্ন পূরণ সব তাদের দ্বায় ভার। তাদের নিজেদেরও যে কিছু ইচ্ছা বা স্বপ্ন আছে এটা সব কিছুর নিচে দাবা পড়ে যায়। ছোট থেকেই আমরা চিন্তা করার এবং এক্সপেরিমেন্ট করার ক্ষমতাকে বন্দি করে দেই। একটা শিক্ষার্থীর যেমন শিক্ষা নেওয়ার স্বাধীনতা নাই, শিক্ষকেরও তেমনি নেই নিজের মত করে শিক্ষা দেওয়ার।
যদি শিক্ষকদের বলা হত আপনারা নিজেদের মত করে শিক্ষা দেন আর তারপর নিজের মত করে তাদের মূল্যায়ন করেন, তাহলে মনে হয় না শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই বিভেদ থাকতো। আর যদি শিক্ষার্থীরা নিজ ইচ্ছা ও কৌতূহল অনুযায়ী শিক্ষার বিষয় বেছে নিয়ে তার উপর পড়ালেখা করতো তবেই প্রকৃত শিক্ষানুরাগী বা শিক্ষিত মানুষ হয়ে উঠতে পারতো।
গাঁদা গাঁদা বই দিয়ে গাধা বানানোর থেকে স্বতঃস্ফূর্ত শিক্ষা পরিবেশ দিয়ে সুশিক্ষিত বানানো কি উত্তম না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


