somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়েস বিরম্বনা (ফান পোস্ট)

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিলেট থেকে ঢাকা ফিরছিলাম। তখন রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। পোলাপান মোবাইলে যেভাবে কার রেসিং গেম খেলে ঠিক সেইভাবে ড্রাইভার সাহেব বাস চালাচ্ছেন। ডানে বামে তাকালে ভয় লাগছে তাই চোখ বন্ধ করে সীটের উপর ঘাপটি মেরে বসে আছি। ঘুমানোর চেষ্টা করছি কিন্তু ঝাকুনির চোটে ঘুম আসছে না কারণ সৌভাগ্যবশত আমরা সীট পেয়েছি সবার পেছনে। বাসের টিকেটের সাথে রোলার কোস্টারের মজা। বাসের চাকার নিচে খেজুরের বিচি পরলেও টের পাচ্ছি।

ঠিক এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো। হাতে নিয়ে দেখি অপরিচিত একটা জিপি নাম্বার। রিসিভ করে সালাম দিলাম। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক নারীকন্ঠ টের পেলাম।

- ওয়ালাইকুম সালাম। রিয়াদ আল সাহাফ বলছেন?
- জ্বী। কে?
- আমাকে চিনবেন না। কেমন আছেন?
- ভালো আছি। নাম বলেন দেখি চিনি কিনা।
- না, নাম বললেও চিনতে পারবেন না। অনেকদিন থেকে আপনার সাথে কথা বলার ইচ্ছা ছিলো তো, তাই ফোন দিলাম।

আমি অবশ্য এর মধ্যেই বুঝে গেছি যে অবশ্যই আমার পরিচিত কেউ। তবে উনি যেই হোক না কেন, যেহেতু মজা করতে চাচ্ছেন আমিও একটু মজা করি। অবশ্য অপরিচিতদের সাথে আমি একটু ভাব নিয়ে কথা বলি। এরকম ভাবময় একটা স্ট্যাটাস একবার দিয়েছিলাম। যার জন্য এক বান্ধবী সেদিন বললো, সে নাকি আমাকে ফেসবুকে নক্ করতে ভয় পায়। যাক সেটা অন্য গল্প। এই মেয়েটাকে বললাম,

- ভালো কথা। শখ কি মিটেছে নাকি এখনো বাকি আছে?
- না মিটেনি। একটু কথা বলি। অনেকদিন থেকেই ভাবছি আপনার সাথে কথা বলবো। অনেক কষ্ট করে নাম্বারটাও জোগাড় করেছি। কিন্তু সাহস করে ফোন দিতে পারিনি।
- আজকে যেহেতু রাত বারোটার পর ফোন করেছেন, তাহলে আপনার সাহসের তারিফ করতেই হয়। তো কি জানতে চান?
- আপনি কি বিয়ে করেছেন?
- আমি সিলেট থেকে জরুরী প্রয়োজনে ঢাকা যাচ্ছি। বাসের আওয়াজ পাচ্ছেন। বাসে উঠার আগে আযান দিয়ে উঠেছি।
- হুম শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু আযান দিয়েছেন কেন? আর আমার কথার উত্তর তো দিলেন না।
- জিজ্ঞেস করবেন না, কি জরুরী প্রয়োজন?
- হুম বলেন।
- একটু আগে আমার বউকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবং তার একটা ছেলে হয়েছে। জীবনে প্রথম বার বাবা হলাম। আর হ্যা আমি বিয়ে করেছি। কি কথা বলার শখ এখনো আছে?
- আছে; নষ্ট হয়নি। অনেকদিন থেকে আপনাকে পছন্দ করি তো।
- সমস্যা নাই। চলেন প্রেম করি। আমার বউ খুব ভালো মানুষ। সে অনুমতি দিলে আপনাকেও বিয়ে করে ফেলবো।
- কি! আপনি তো দেখি দারুন লুচ্চা। ঘরে বউ রেখে আমার সাথে টাংকি মারতে চান!
- টাংকি কে মারছে? আমি! আপনি রাত বারোটায় অপরিচিত একটা ছেলেকে ফোন করলেন, আপনি জানতে চাইলেন বিয়ে করেছি কিনা, আমার বউ আছে শুনেও পছন্দের কথা বললেন। আর আমি লুচ্চা! থাপ্পর দিয়ে...
- এই রিয়াদ। দাড়া, দাড়া, দাড়া, মারিস না। আমি রাইসা।
- ও হারামী! তুই! আরেকটুর জন্য তো দিছিলাম ধইরা দুই-চাইরটা।
- একটা কাজে ফোন করেছিলাম। বাসায় আসছি তো, আমার ফোনে নেটওয়ার্ক পাচ্ছি না। তাই আব্বুর নাম্বার থেকে ফোন করলাম। পরে দেখি তুই চিনতে পারিসনি। তাই একটু মজা করলাম। এখন কথা হচ্ছে...

আমাদের পরবর্তী কথোপকথন যাই হোক না কেন, আসল কথা হলো, ফোনে আমি কারো ভয়েস চিনতে পারিনা। শুধুমাত্র নারী আর পুরুষ কন্ঠ চিনতে পারি কোন রকমে। মাঝে মাঝে তো তাও পারিনা। একদিন এক বড়ভাইকে ফোন করলাম। ফোন রিসিভ করলেন অন্য একজন। উনাকে চাইতেই বললেন, "ও তো বাড়িতে নাই।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "উমুক ভাই আপনার কি হয়?"

বললো, "ও তো আমার ছেলে হয়।"

আমি বললাম, "আসসালামু ওয়ালাইকুম আঙ্কেল।"

ফোনের ওপাশ থেকে যা শুনলাম, বিশ্বাস করেন ওটা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

উনি বললেন, "আমি তোমার আন্টি হই।"

যাক সে কথা। আমার কিছু হারামী ফ্রেন্ড আছে এরা প্রায়ই আমার এ দূর্বলতার সুযোগ নিবে। অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে পরিচয় দিবেনা। এজন্য কি হয়?

নিজেরাই লজ্জিত, অপমানিত আর মাঝে মাঝে বিব্রত হয়। আর আমাকেও তাই করে। তাই বলে দিচ্ছি, সাধু সাবধান। আমাকে অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করলে আমি চিনতে না পারলে মাইন্ড না করে নিজ দায়িত্বে পরিচয় পর্বটা সেরে ফেলুন।

পরে আবার বিব্রতকর অবস্থায় পরলে আমাকে দোষ দিয়ে লাভ নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×