somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৃষ্ণ বিবর

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৃষ্ণ বিবর বা ব্ল্যাক হোল(ইংরেজি: Black
Hole) মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও
প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত
ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণ বিবর
মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন
সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর
এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন
কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না,
এমনকি তাড়িতচৌম্বক বিকিরণকেও
(যেমন: আলো) নয়। প্রকৃতপক্ষে এই
স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত
বেশী হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য
সকল বলকে অতিক্রম করে। ফলে এ থেকে কোন
কিছুই পালাতে পারে না। অষ্টাদশ
শতাব্দীতে প্রথম তৎকালীন মহাকর্ষের
ধারণার ভিত্তিতে কৃষ্ণ বিবরের
অস্তিত্বের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
জেনারেল থিওরি অফ
রিলেটিভিটি অনুসারে, কৃষ্ণ বিবর
মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান যেখান
থেকে কোন কিছু, এমনকি আলো পর্যন্ত বের
হয়ে আসতে পারে না। এটা তৈরি হয় খুবই
বেশী পরিমাণ ঘনত্ব বিশিষ্ট ভর থেকে।
কোন অল্প স্থানে খুব বেশি পরিমাণ ভর
একত্র হলে সেটা আর স্বাভাবিক অবস্থায়
থাকতে পারে না।
আমরা মহাবিশকে একটি সমতল
পৃষ্ঠে কল্পনা করি। মহাবিশ্বকে চিন্তা করুন
একটি বিশাল কাপড়ের
টুকরো হিসেবে এবং তারপর
যদি আপনি কাপড়ের উপর কোন কোন
স্থানে কিছু ভারী বস্তু রাখেন
তাহলে কি দেখবেন? যেইসব
স্থানে ভারি বস্তু রয়েছে সেইসব স্থানের
কাপড় একটু নিচু হয়ে গিয়েছে। এই একই
বাপারটি ঘটে মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে। যেসব
স্থানে ভর অচিন্তনিয় পরিমাণ
বেশি সেইসব স্থানে গর্ত হয়ে আছে। এই
অসামাণ্য ভর এক স্থানে কুন্ডলিত
হয়ে স্থান-কাল বক্রতার সৃষ্টি করে।
প্রতিটি গালাক্সির স্থানে স্থানে কম-
বেশি কৃষ্ণ বিবরের অস্তিতের
কথা জানা যায়। সাধারণত বেশীরভাগ
গ্যালাক্সিই তার মধ্যস্থ কৃষ্ণ
বিবরকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনয়মান।
ব্লাকহোল শব্দের অর্থ কালো গহবর। একে এই
নামকরণ করার পেছনে কারণ হল এটি এর
নিজের দিকে আসা সকল আলোক
রশ্মিকে শুষে নেয়। কৃষ্ণ বিবর থেকে কোন
আলোক বিন্দুই ফিরে আসতে পারে না ঠিক
থার্মোডায়নামিক্সের কৃষ্ণ বস্তুর মতো।
এখন পর্যন্ত ব্লাকহোলের কোন প্রত্যক্ষ
প্রমাণ পাওয়া যায়নি কারণ এ
থেকে আলো বিচ্ছুরিত হতে পারে না কিন্ত
এর উপস্থিতির প্রমাণ
আমরা পরোক্ষভাবে পাই। ব্লাকহোলের
অস্তিতের প্রমাণ কোন স্থানের
তারা নক্ষত্রের গতি এবং দিক
দেখে পাওয়া যায়। মহাকাশবিদগণ ১৬ বছর
ধরে আশে-পাশের তারামন্ডলীর গতি-
বিধি পর্যবেক্ষণ করে গত ২০০৮
সালে প্রমাণ পেয়েছেন অতিমাত্রার ভর
বিশিষ্ট একটি ব্লাকহোলের যার ভর
আমাদের সূর্য থেকে ৪ মিলিয়ন গুন
বেশি এবং এটি আমাদের আকাশগঙ্গার
মাঝখানে অবস্থিত।

(চলবে)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×