somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রিকি
ছোটো প্রাণ,ছোটো ব্যথা >ছোটো ছোটো দুঃখকথা >নিতান্তই সহজ সরল >সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি>তারি দু-চারিটি অশ্রুজল>নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা> নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ> অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে>শেষ হয়ে হইল না শেষ

Mother of Mine 2005 (Äideistä parhain)--- “মা” কি শুধু একটি ডাক, নাকি একটি আত্মিক সম্পর্কের নাম.... ??? বাস্তব ঘটনার প্রতিফলনে নির্মিত ফিনল্যান্ডের এক যুদ্ধশিশু এবং তার মায়ের গাঁথা এই মুভিটি must be emotional করে দিবেই দিবে... :( :( :( :( :( :( :(

০৭ ই মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



“Being a mother is an attitude, not a biological relation.”


“স্নেহ বিহ্বল , করুণা ছলছল
শিয়রে জাগে কার আঁখিরে ।
মিটিল সব ক্ষুধা, সঞ্জীবনী সুধা
এনেছে অশরণ লাগিরে।”


মা... এমন একটি শব্দ, এমন একটি অস্তিত্বের নাম যার সাথে পৃথিবীর আর অন্য কিছুর তুলনা চলে না...পৃথিবীতে এমন কোন মহামূল্যবান জিনিস নাই যার সাথে মায়ের স্নেহের, মমতার, অনুভূতিগুলোর তুলনা করা যায়...An incomparable person with a lot of incomparable characteristics. আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোন কোন মানুষের জন্মদাত্রী মা এবং তাকে পালনের মা ভিন্ন ভিন্ন... এক্ষেত্রে ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়... পালক মায়ের কি অনুভূতি কোন অংশে কম হয় সেই বাচ্চাটার বেলায়?? কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্র বাদ দিলে সব ক্ষেত্রে কিন্তু তা ঠিক না...মমত্ববোধের দাড়িপাল্লাতে কেউ কারও তুলনায় পিছিয়ে পড়ে থাকতে চায় না...স্নেহ, ভালবাসা পৃথিবীর এই দুর্লভ বস্তুগুলো হয়ত বাবা-মা নামের মানুষের কাছেই বিনা মূল্যে পাওয়া যায়...... আজকের সিনেমা এরকমই একটি ছেলে এবং তার দুই মায়ের কাহিনী, তাদের সম্পর্কের গাঁথা নিয়ে... এক মা জন্মদাত্রী, আর অপর জন পালক। তবে সিনেমার প্লট নিয়ে আলোচনার আগে আবার যথারীতি একটি কবিতা থাকছে---

"জড়ায়ে মায়ের গলা, শিশু কহে আসি,-
“মা, তোমারে কত ভালবাসি!”
“কত ভালবাস ধন?” জননী শুধায়।
“এ-ত।” বলি দুই হাত প্রসারি’ দেখায় ।
“তুমি মা আমারে ভালবাস কতখানি?”
মা বলেন, “মাপ তার আমি নাহি জানি।”
“তবু কতখানি, বল।”
“যতখানি ধরে
তোমার মায়ের বুকে”
“নহে তার পরে?”
“তার বড়ো ভালবাসা পারি না বাসিতে।”
“আমি পারি।” বলে শিশু হাসিতে হাসিতে! "




সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের...ফিনল্যান্ডের এক গ্রামে বাস করে Eero Lahti এবং তার মা-বাবা। তার বাবা ফিনিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং যুদ্ধে সে তার প্রাণ হারায়। তার বাবার মৃত্যুর পর Eero র মা গভীর বিষাদে আক্রান্ত হয়ে পড়ে... Eero কে নিরাপদ আশ্রয় দানের জন্য সে তাকে ফিনল্যান্ড থেকে সুইডেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়... Eero র মন তার মাকে ছেড়ে যেতে চায় না...Eero র মা Kristi Lahti , Eero কে জোর করে সুইডেনে পাঠায় এবং আশ্বাস দেয় সে তাকে দেশের ভালো অবস্থা হলে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে... বাবা-হারা একা Eero অচেনা দেশ সুইডেনের এক পরিবারের সদস্য হওয়ার জন্য রওয়ানা দেয়...সুইডেনে প্রত্যন্ত এক গ্রামে তার নতুন আশ্রয় নির্ধারিত হয়... এবং তার আশ্রয় দাতা হিসেবে এগিয়ে আসে Hjalmar Jönsson এবং তার সহধর্মিণী Signe Jönsson. Eero যখন তাদের কাছে যায়, প্রথম দেখাতে Signe র খুব একটা ভালো সাড়া পায় না সে... Signe এরকম যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিনিশ এলাকার শিশুদের পুনর্বাসন কমিটির কাছে মেয়ে শিশুর আশা রেখেছিল... কিন্তু তারা পাঠায় একটি ছেলেকে যার নাম Eero. Signe কিছুটা রাগান্বিত থাকলেও Hjalmar, Eero র প্রতি তার স্নেহ জ্ঞাপন করার কোন অবকাশ বাদ দেয় না... Eero যেন তার নিজ সন্তানের মত... Jönsson পরিবারের সদস্য বলতে রয়েছে তিনজন Hjalmar, Signe এবং Hjalmar এর পিতা-- যে কথা বলতে, শুনতে এবং চলা-ফেরাতে অক্ষম... তাদের পরিবারে চতুর্থ মানুষ হিসেবে আগমন ঘটে Eero র। এরপর চলতে থাকে Eero র জীবনের নতুন অধ্যায়ের...মাঝে মাঝে তার মা Kristi তাকে এবং Signe কে পত্র পাঠাতে থাকে...এভাবে একদিন তার পাওয়া পত্রের পর Signe র দৃষ্টিভঙ্গি Eero র প্রতি বদলে যায় সারা জীবনের মত... সূচনা ঘটে এক নিঃস্বার্থ সম্পর্কের... স্নেহ, ভালবাসা হারানো Eero, Signe র মাঝে তার অন্য মাকে যেন খুঁজে পায়... কি হয় Kristi র? কি কারণে Signe প্রথমে Eero কে সহজে মেনে নিতে পেরেছিল না? নিয়তি Eero র সাথে আবার কি খেলা খেলে? এই সিনেমা শুরু হয়... বুড়ো Eero আর Kristi র কথোপকথন দিয়ে... তার জন্মদাত্রী মাকে তার জীবনের না বলা কিছু কথা শেয়ারের মধ্যে দিয়ে। ১১১ মিনিটের সিনেমাতে খুব কম সংলাপ রয়েছে...প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছুই নাই... কিন্তু কম কথা বলে, শুধু অভিনয় দিয়ে কিভাবে মানুষের মনে দাগ কাটা যায় এই সিনেমা এবং তার অভিনেতারা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ... ছোট্ট Eero থেকে শুরু করে বুড়ো বয়সের Eero… Kristi থেকে Signe আর Hjalmar…. সবাই অনবদ্য অভিনয়ে মুগ্ধ করবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রায় ৭০০০০ ফিনিশ যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকার শিশুদের বিনা স্বার্থে আশ্রয় দিয়েছিল সুইডেন, যেখানে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ তাদের দেশ ছিন্নভিন্ন করেছিল যুদ্ধে...! এই ফিনিশ যুদ্ধ শিশুদের অবস্থার কাহিনী অবলম্বনে Heikki Heitamies, Äideistä parhain নামে একটি উপন্যাস লিখে...এই Heikki Heitamies ও যুদ্ধশিশু ছিল ঠিক Eero র মত... যে সুইডেনে গিয়ে আশ্রয় পায় একটি পরিবারে... অনেকে বলে এই Äideistä parhain উপন্যাসটি Heikki-র নিজের জীবনেরই গল্প!! Heikki র সেই Äideistä parhain উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে Äideistä parhain অথবা Mother of Mine সিনেমাটা। সিনেমাটি ৭৮ তম অস্কারে Best Foreign Language Film Category তে ফিনল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিল..... অনেকে হয়ত মনে করবে মা-ছেলের এরকম গল্প তো অনেক দেশের অনেক সিনেমাতে দেখেছি... এটাই দেখব কেন? গল্প সবাই বলতে পারে...কিন্তু গল্পকার সবাই হতে পারে না......এই মুভি ঠিক তাই...... The story-telling is phenomenal. কেউ সিনেমা দেখে, কেউ সিনেমার গল্পকে অনুভব করে... এই সিনেমাটা যতটা না দেখার, তার থেকে অনেক বেশি অনুভবের...তবে ফিনিশ এই সিনেমা মনে দাগ উভয়েরই কাটবে গ্যারান্টি... :( :( :( :( :(



“Mother of Mine 2005 (Original Title: Äideistä parhain )”


IMDB rating: 7.7/10
Cast: Michael Nyqvist, Topi Majaniemi, Marjaana Maijala, Maria Lundqvist
Genre: Drama/War
Country of Origin: Finland, Sweden




Happy Movie Watching B-) B-) B-)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×