
“Truth is stranger than fiction, but it is because Fiction is obliged to stick to possibilities; Truth isn't.”
The Girl with the Dragon Tattoo প্রথমে দেখেছিলাম ২০১০ সালের শেষের দিকে...সুইডিশ ভার্সনটা। সিনেমাটা দেখার আগে জানতাম না সিনেমাটা মূলত একই নামের একটি বইয়ের adaptation এ তৈরি হয়েছে যা আন্তর্জাতিকভাবে বেস্টসেলার!!!

The Girl with the Dragon Tattoo:
মিলেনিয়াম সিরিজের প্রথম উপন্যাস এবং উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা “Mȧn som hatar kvinnor” যার ইংরেজি অনুবাদ করলে দাঁড়ায় আসলে “ Man who hates woman”… আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডে এটি কিন্তু “The Girl with the Dragon Tattoo” নামেই পরিচিতি পায়। সুইডিশ থ্রিলার ঘরানার এই উপন্যাস অবলম্বনে একই নামের সিনেমাটি ২০০৯ সালে রিলিজ পায়। এই উপন্যাসটির গল্প আবর্তিত হয় Mikael Blomkvist এবং Lisbeth Salander কে ঘিরে। ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাস, Mikael Blomkvist একটি সুইডিশ ম্যাগাজিন “Millennium ” এর সম্পাদক। একটি ভুয়া খবর প্রকাশের কেসে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়... এর ফলে তার ৩ মাসের জেল এবং একটি মোটা অঙ্কের জরিমানা হয়। অপরদিকে, Mikael Blomkvist সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করতে থাকে Lisbeth Salander নামের একজন computer hacker যে Milton Security Agency তে কর্মরত। তার কাছ থেকে Mikael Blomkvist এর ব্যাক্তিগত এবং বৈষয়িক তথ্যগুলো সংগ্রহ করে একজন আইনজীবী এবং Henrik Vanger নামের একজন সম্পদশালী ব্যাক্তিকে তথ্যগুলো দেয়...। Henrik Vanger, Mikael Blomkvist কে তার বাসাতে ডেকে পাঠায় এবং ৪০ বছর আগের একটি unsolved mystery র রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব দেয়... ৪০ বছর আগে তার ভাতিজি Harriet Vanger একদিন হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায় Children’s day তে...। পুলিশ তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে মৃত ঘোষণা করলেও Henrik মনে করে Harriet এর নিখোঁজ হওয়াটা স্বাভাবিক কিছু নয় এবং Harriet তাকে যেমন তার জন্মদিনে ফুলের একটি করে artifact দিত... ৪০ বছর ধরে সেরকম Henrik তার জন্মদিনে একটি করে ফুলের artifact বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পোস্টের মাধ্যমে পায়...। Harriet এর নিখোঁজের পিছনে দায়ী রয়েছে Vanger পরিবারের কেউ Henrik এটাও জানায়। Mikael Blomkvist কেসটির দায়িত্ব নেয়। অপরদিকে Lisbeth Salander এর অতীতের কিছু অসংলঘ্ন ঘটনার কারণে তার দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে state এর উপর... state তার Guardian হিসেবে নিয়োগ দেয় Nils Bjurman কে তার পূর্বের Guardian স্ট্রোক করার দরুণ। Nils Bjurman, Lisbeth কে তার আনুষঙ্গিক খরচ দাওয়ার বিনিময়ে তার বিকারগ্রস্ত প্রবৃত্তির শিকার বানায়...। Lisbeth Salander একসময় নিজের উপর সকল প্রকার abuse এর প্রতিশোধও নেয়। এদিকে Harriet এর কেস জটিল থেকে জটিলতর পর্যায়ে যেতে থাকে... Mikael Blomkvist এর কম্পিউটার এর যাবতীয় জিনিস পর্যবেক্ষণ করতে থাকে Lisbeth Salander নিজের খেয়াল বশতই এবং কেসটির মোক্ষম একটি ক্লু Mikael Blomkvist কে সেই ব্যাখ্যা করে দেয়। কেন নিখোঁজ হয় Harriet? Harriet এর নিখোঁজের রহস্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে আর কোন রহস্য? Mikael Blomkvist আর Lisbeth Salander যৌথ উদ্যোগে কেসটিকে কিভাবে সমাধান করে? প্রত্যেক মুহূর্তে নতুন নতুন প্যাঁচ আছে এই গল্পটিতে। শেষে গিয়ে as usual স্ক্যান্ডিনেভিয়ান style এর ধাক্কা দেয় !
The Girl with the Dragon Tattoo র বইয়ের প্রচ্ছদ--

The Girl with the Dragon Tattoo র সুইডিশ মুভির পোস্টার--

The Girl who played with Fire:
দ্বিতীয় এই কিস্তির গল্প মূলত Lisbeth Salander কে ঘিরে। এই উপন্যাসের চলচ্চিত্ররূপও রিলিজ পায় ২০০৯ সালে। এই উপন্যাসের সুইডিশ ভার্সনটির নাম “ Flickan som lekte med elden”. এই গল্পে Lisbeth সুদীর্ঘ ১ বছর দেশের বাইরে থাকার পর পুনরায় সুইডেনে ফিরে আসে এবং দেশে ফিরে সে তার Guardian, Nils Bjurman এর কাছে যায়। Lisbeth তাকে বন্দুক তাক করে শাসিয়ে আসে, Bjurman যেন তার সম্পর্কে ভালো রিপোর্ট লেখে যার ফলে Lisbeth নিজে স্বতন্ত্র হতে পারে...আর অন্যথায় হলে সে Bjurman এর অপকর্ম জনসম্মুখে নিয়ে আসবে বলে ভয়ও দেখায়। এদিকে তরুণ সাংবাদিক Dag Svensson মিলেনিয়াম ম্যাগাজিনের নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দেয় এবং সে মিলেনিয়াম ম্যাগাজিনের অন্যান্য সদস্যদের বলে সে সুইডেনের Sex trafficking এবং prostitution নিয়ে এমন একটি খবর প্রকাশ করতে চায় যা সুইডেনের উচ্চ পর্যায়ের মানুষ থেকে ক্ষমতাধর অনেকের সাথেই সম্পর্কিত... Dag এর girlfriend Mia Bergman ফেলোশিপের সময় এই বিষয়টিকে বেছে নেওয়াতে অনেক লুক্কায়িত সত্যের হদিশ বের হয়ে আসে। মিলেনিয়াম ম্যাগাজিন এই sex trafficking এর বিষয়টিকে তাদের পরবর্তী এডিশন হিসেবে বেছে নেয়। এই ঘটনার দিন দুয়েক পর Dag, Mia এবং Nils Bjurman খুন হয়... এবং পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে Lisbeth Salander এর আঙ্গুলের ছাপ পায় Nils Bjurman এর বন্দুকে! রাতারাতি Lisbeth Salander তিনটা খুনের আসামী হয়ে যায়। অপরদিকে তার অতীতের কালো ছায়া আবার তার পিছু নিতে থাকে। কে করে খুন গুলো? Lisbeth এর অতীতের সেই লুক্কায়িত রহস্য কি, যা তাকে দিন রাত তাড়া করে নিয়ে বেড়ায়? The girl who played with fire, Lisbeth Salander এর জীবনের সেই লুক্কায়িত অংশের গল্পের কিয়দংশ!
The Girl who played with Fire র বইয়ের প্রচ্ছদ--

The Girl who played with Fire র সুইডিশ মুভির পোস্টার---

The girl who kicked the Hornet’s nest:
মিলেনিয়াম সিরিজের তৃতীয় এই বইটির সুইডিশ নাম “Luftslottet som Sprängdes” যার ইংরেজিতে আক্ষরিক অনুবাদ হলে এমন দাঁড়াত “The air castle that was blown up”. কিন্তু আবারও আমেরিকা, কানাডা প্রভৃতি দেশে এটি পরিচিতি পায় “The girl who kicked the hornet’s nest” নামে। এই বইটি অবলম্বনে সিনেমাটিও বেরিয়েছিল ২০০৯ সালে। The girl who played with fire এর কাহিনী যেখানে শেষ হয়... The girl who kicked the Hornet’s nest এর কাহিনীর উৎসস্থল সেখানে।The girl who played with fire এর কাহিনীতে শেষে Lisbeth Salander অত্যন্ত দুর্বিষহভাবে আহত হয় এবং তাকে Gothenberg হাসপাতালে ভর্তি করা হয়...তিনটি গুলি খেয়ে আহত Lisbeth এর উপর এদিকে পূর্বের তিনটির সাথে নতুন একটি খুনের চেষ্টার মামলা আরোপ করা হয়... নতুন যে ব্যাক্তিটির মামলা যোগ হয় তার নাম Zala. এর পরিচয় The girl who played with fire এ রয়েছে... বিস্তারিত বললে সিনেমা দেখার image নষ্ট হয়ে যেতে পারে “spoiler” হিসেবে ! Lisbeth এর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি থাকে শুধুমাত্র তার আইনজীবী Annika Giannini র। তার ডাক্তার এই বাদে আর কাউকে Lisbeth এর সাথে সাক্ষাতও করতে দেয় না। এর মধ্যে “Section” নামের একটি গুপ্ত গ্রুপ সচল হয়ে উঠতে থাকে যারা বাস্তবিক পক্ষে সুইডেনের security group এর প্রাক্তন সদস্য ছিল এবং কিছু কিছু বিভিন্ন শ্রেণীর উচ্চ পর্যায়ের লোক। এরা Zala এবং Lisbeth কে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করতে থাকে... কিন্তু কেন? কি কারণে Lisbeth Salander এবং Zala কে তারা তাদের পথ থেকে সরিয়ে দিতে ব্যাকুল হয়ে যায়? অতীতের কোন ঘটনার সাথে কি যোগসূত্র রয়েছে বর্তমানের কোন সম্পর্কের? এই কিস্তিতে সব সত্যের উন্মোচন ঘটে.....এবং Lisbeth এর শেষ পর্যন্ত কি হয় জানতে হলে দেখতে হবে বা পড়তে হবে The girl who kicked the Hornet’s nest !
The girl who kicked the Hornet’s nest র বইয়ের প্রচ্ছদ--

The girl who kicked the Hornet’s nest র সুইডিশ মুভির পোস্টার---

স্টিগ লারসনের মিলেনিয়াম সিরিজ রচনার নেপথ্যের কাহিনী :
স্টিগ লারসন প্রকৃতপক্ষে একজন সাংবাদিক ছিলেন ঠিক Mikael Blomkvist এর মত। তার লেখা “Millennium trilogy” এমন একটি ক্রাইম ঘরানার উপন্যাস যা তাকে শুধু বিখ্যাতই করেনি তাকে একটি অন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে লেখক হিসেবে। ২০০৮ সালে তিনি বেস্টসেলার লেখকদের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন পুরো বিশ্বে। যে মিলেনিয়াম ত্রয়ী উপন্যাস তাকে এত বিখ্যাত বানিয়েছিল তার নেপথ্যের ঘটনা অনেক বেশি pathetic ছিল তা কি জানেন? যদি বলি লারসনের Lisbeth বাস্তবে ছিল তাহলে??? লারসনের জীবনের এক অত্যন্ত কঠিন সত্যের বহিঃপ্রকাশ... “Millennium trilogy”. লারসন যখন ১৫ বছর বয়সী ছিলেন, তখন তিনি একটি গণধর্ষণের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন...এবং সেই ঘটনাটি ঘটিয়েছিল লারসনের কিছু বন্ধু। লারসন সেই ঘটনার সঠিক সময়ে প্রতিবাদ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং পরে অনুশোচনার বশীভূত হয়ে তিনি ধর্ষণের শিকার মেয়েটির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হিসেবেও যান... কিন্তু মেয়েটি তাকে ক্ষমা করেছিলেন না। এই ঘটনার পর থেকে লারসনের অনুশোচনা আরও বাড়তে থাকে এবং সে মেয়েদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটা দৃঢ় অবস্থান নেয়ার চিন্তা করেন... এবং তার সাংবাদিক জীবনে সে এসবের বিরুদ্ধে অনেক বেশি প্রতিবাদ করে গেছেন। লারসন কোনোদিন নিজেকে ক্ষমা করতে পারেননি তার ১৫ বছরের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সেই ভুলের...তার অপরাধবোধ তাকে কখনও ক্ষান্ত দিয়েছিল না...।
Stieg Larsson এবং Eva Gabrielsson---

Astrid Lindgren এর বাচ্চাদের গল্পের চরিত্র “Pippi Longstocking”---

Peter O’Donnell’s এর ব্রিটিশ কমিক চরিত্র “Modesty Blaise”--

**** এই লেখা সম্পূর্ণ রূপে আমার… পূর্বের কোন লেখার সাথে মিলে গেলে তা একান্তই co-incidence….no resemblance. আশা করি পোস্টটি ভালো লাগবে !
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৫:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




