somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেদ সহ সকল ধর্মগ্রন্থে গরুর মাংস ও অন্যান্য প্রানীর মাংস খাওয়ার বিধান রয়েছে

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল ভারতে গরুর মাংস নিয়ে অনেক ঘটনা ঘটছে। এই বিষয়টা নিয়ে মুসলিমদের উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে একজনকে গুজব ছড়িয়ে খুন পর্যন্ত করা হলো। কিন্তু হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গুলোই গরুর এবং অন্যান্য পশুর মাংস খাওয়ার অনুমতি দেয়। আমি আজকে তার কিছু প্রমান আপনাদের সামনে উপস্থিত করবো।

আমি বেদের রেফরেন্সগুলো দিবো বিখ্যাত অনুবাদক ও বেদ ভাষ্যকর শ্রী রমেশচন্দ্র মজুমদারের অনুবাদকৃত বেদ হতে। আশা করি এতে করে আমার এই পোস্টের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে আপনাদের মনে কোন রকম সন্দেহ থাকবে না।

বেদঃ-
স্পষ্ট গো হত্যা ও মাংস রান্নার কথা আছে। রিগবেদ ১০/২৮/৩



এছাড়াও বেদের ক্লাসিকাল ভাষ্যকর আচার্য সায়নও একি কথা লিখেছে তার অনুবাদে তিনিও লিখেছেন, “হে ইন্দ্র গ্রহন কর সেসব গরুর মাংস যা তোমাকে তোমার ভক্তরা রন্ধন করে উতসর্গ করেছে।” রিগবেদ ১০/৮৬/১৩ তেও গরু রান্না করার কথা পাওয়া যায়,


এভাবে একমাত্র আর্য সমাজী বাদে অন্যান্য প্রায় সকল বেদ স্কলারদের অনুবাদ হতেই বেদ থেকে গরু ও পশূ হত্যার রেফারেন্স দেখানো যাবে। তবে অনলাইন আর্য সমাজীরা বিনা বিচারে দাবি করবে, যে আর্য সমাজীদের অনুবাদই সঠিক আর অন্যান্য বৈদিক স্কলারদের অনুবাদ ভুল।
অন্যান্য শাস্ত্রে যাওয়ার আগে যযুরবেদে একনজর চোখ বুলানো যাক।
যযুরবেদ ২৪ অধ্যায় পুরোটাই রয়েছে, কোন কোন পশু কোন কোন দেব দেবীকে উতসর্গ করতে হবে এ ব্যাপারে।
যেমন যযুরবেদ ২৪/১,
ঘোড়া, বন্য ভেড়া এবং বন্য গরু প্রজাপতির জন্য।
কাল ঘাড়ের জন্তু বিশেষ যা পশুর মধ্যে শ্রেষ্ট, তা ইন্দ্রের জন্য।
কোকড়ানো চুলীর ভেড়া স্বরস্বতির জন্য।
থুতুনীর নীচে কালো দাগওয়ালা ছাগল অশ্বিন এর জন্য।
ছোট গরু এবং বন্ধ্যা গরু বিষ্ণুর জন্য।

এভাবে যযুরবেদে কোন পশু কোন দেবদেবীর জন্য তা শুধু বলা রয়েছে।এখন কথা হচ্ছে দেবদেবীরা এই পশুগুলো দিয়ে কি করবে ? এগুলা কি জন্য তাদের প্রতি উতসর্গকৃত ? এর বিস্তারিত জবাব রয়েছে শতপথ ব্রাক্ষনে (যযুরবেদের শাখা ও ব্যাখা)
শতপথ ব্রাক্ষন ১৩/২/২/১-১০ পর্যন্ত মন্ত্রে বিস্তারিত ভাবে রিগবেদের ২৪ অধ্যায়ে উল্লিখিত পশুদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, যে যে পশু যে যে দেবদেবীর গুনাবলীযুক্ত, সেই সেই পশু সেই সেই দেবদেবীর প্রতি যজ্ঞে উতসর্গের জন্য নির্ধারিত।

এবার বেদ পশু হত্যার অনুমতি ব্যাপারে অন্যান্য শাস্ত্র ও বিখ্যাত স্কলারদের সাক্ষ্য দেখানো হলঃ

বেদে মাংস খাওয়ার ব্যাপারে মনুসংহিতার সাক্ষ্য,
মনুসংহিতা ৫/৪২ এ আছে, “বেদার্থতত্তজ্ঞ দ্বীজাতিরা বেদের সঠিক অর্থ জেনে ঐসব মধুপর্কাদি বিধিবিশেষে পশু হত্যা করে নিজের ও পশুর উভয়েরই সদগতি সম্পাদন করেন।” এখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যিনি বেদের সঠিক অর্থ জানেন, তিনি পশু হত্যা করেন। এ ব্যাপারে আরো স্পষ্ট বিধান,
মনুসংহিতা ৫/৪৪ “শ্রুতিবিহিত যে পশুহত্যা, তাহাকে অহিংসাই বলিতে হইবে, যেহেতু বেদ ইহা বলিতেছে, বেদ হইতে ধর্মের প্রকাশ হয়।” অর্থাৎ মনুর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি যে বেদ এ পশু হত্যার বিধান রয়েছে। এখন আর্য সমাজীরা যদি বলে যে বেদে পশু হত্যার কথা নেই, তাহলে মনুসংহিতায় উল্লিখিত বেদের সেই বিধান এখন কোথায় ? তা কি বিলুপ্ত হয়েছে নাকি আর্য সমাজীদের ভুল অনুবাদের শিকার হয়েছে ? কারন অন্যান্য স্কলারদের অনুবাদে ঠিকই এখনো তা আছে।
মনুসংহিতা থেকে এক নজরে আরো কিছু বিধান দেখি,
মনুসংহিতা ৫//২৮ “ব্রক্ষা, কি প্রানী কি উদ্ভিদ উভয়ই জীবের অন্ন বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন, অতএব স্থাবর জংগম সমুদয় বস্তুই আহার করা যায়।”
মনুসংহিতা ৫/২২ “ব্রাক্ষনরা যজ্ঞ কর্মের জন্য অথবা পরিবারবর্গের জন্য প্রশস্ত মৃগ ও পক্ষী বধ করিতে পারে, কেননা অগস্ত্য মুনি এমনটা করেছিল।”
মনুসংহিতা ৫/২৩ “পুর্ব রিষিরা যে সমুদয় যজ্ঞকর্ম করিয়াছেন, তাহাতে মৃগমাংস ও পক্ষীমাংস দ্বারা হোম করিয়াছেন, অতএব আধুনিক লোকেরাও তদৃশ করিতে পারে।”
মনুসংহিতা ৫/৩০ “ভোক্তা ভোজনের উপযোগী প্রানী সমূহ প্রতিদিন ভোজন করিলেও দোষযোগী হবেন না, যেহেতু ঈশ্বর ভক্ষ্য বস্তু ও ভোক্তা এ উভয়েরই সৃষ্টি করিয়াছেন।”

এবার শতপথ ব্রাক্ষন এর সাক্ষ্যঃ
বেদের চার প্রকার শাখা ও ব্যাখার অন্যতম শতপথ ব্রাক্ষন ৩/৪/১/২ এ, বলা আছে, “এমনকি রাজা কিংবা ব্রাক্ষনের জন্য, প্রত্যেকের উচিত গরু বা ছাগলের মাংস রান্না করা যা দেবতাদের যজ্ঞে উতসর্গকৃত”



উপনিষদ হতে প্রমান,
বৃহদারায়ন্যক উপনিষদ ৬/৪/১৬ “যিনি সকল বেদের ছাত্র, তার উচিত কম বয়সী গরুর মাংস আহার করা এবং তার স্ত্রীকেও আহার করানো।” নীচে স্ক্রীনশট, অনুবাদঃ স্বামী নিখিলানন্দ।



ঐতরেয় ব্রাক্ষনের সাক্ষ্যঃ
ঐতরেয় ব্রাক্ষন হচ্ছে রিগবেদের শাখা। চারবেদের প্রতিটির চার ধরনের শাখা আছে,যথা সংহিতা, ব্রাক্ষনা, আরন্যক ও উপনিষদ। রিগবেদের শাখা ঐতরেয় ব্রাক্ষনে রয়েছে, “শাস্ত্রমতে যজ্ঞে উতসর্গকৃত যে পশুকে যারা বন্টন করে, সেই পশু তাহাদিগের স্বর্গের পথে পথ প্রদর্শক হয়। (ঐতরেয় ব্রাক্ষন খন্ড ৭/৪)

এবার বিখ্যাত হিন্দু পন্ডিত বা ব্যাক্তিবর্গের সাক্ষ্যঃ
বেদে পশু হত্যার ব্যাপারে ইস্কনের প্রতিষ্টাতা স্বামী প্রভুপাদের সাক্ষ্য, ভগবত পুরান ১/৩/২৪ এর কমেন্টারিতে তিনি লিখেছেন, “গৌতম বুদ্ধ বেদের শিক্ষাকে অস্বীকার করেছিলেন, কারন এমনকি বেদও পশু হত্যাকে সমর্থন করে এজন্য।” এখানে ঢুকে তার ২৪ নাম্বার কমেন্টারি পড়ুন, [ http://vanisource.org/wiki/SB_1.3.24 ]

বেদে পশু হত্যার ব্যাপারে আদি শংকরাচার্যের সাক্ষ্য,
তিনি ব্রাক্ষসুত্র অধ্যায় ৩, পাদ্য ১, সূত্র ২৫ এর কমেন্টারিতে লিখেছেন, “যজ্ঞে পশু হত্যা পাপ হিসেবে পরিগনিত হবে না, কারন শাস্ত্রই ইহার অনুমোদন দিয়েছে।” নীচে স্ক্রীনশট, অনুবাদেঃ স্বামী বিরেশ্বরনন্দ

স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছেন,
“একটা সময় ছিল তখন সে আর ব্রাক্ষন থাকত না যদি না সে গরুর মাংস খেত।” The complete works of Swami Vivekananda, Volume 3, Page 174 ]

সূত্রঃ রাফাত রহমান [ Click This Link ]
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:৩৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

যখন আরব জাতির সাহিত্যিক প্রতিভা তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল, যখন কবিতা ছিল তাদের হৃদয়ের স্পন্দন, আবেগের প্রকাশ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের দিন লেখা একটি বিষন্ন কবিতা

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪




বিষন্ন বিকেলে একা বসে থাকি রোজ,
ঈদের হুলস্থুল পাশ দিয়ে চলে যায়।
সুখের কাছে যেতে চাওয়া মন
কোনো রাস্তা খোলা নেই।

মুখে বলিনি প্রতিদিন কত কথা,
কিন্তু চোখে তাকালেতো কেউ বুঝতে,
এই ছোট্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×