somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরান ও মানবধর্ম

০১ লা এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরান ও মানবতার ২৫ টি আদেশঃ

১। হে মানবজাতি, আমি তোমাদেরকে এক জোড়া মানব-মানবী হতে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্নজাতি, বর্ন ও গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। (৪৯/১৩)

২। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে। (৫/৪৮)

৩। আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া। (৩০/২১)

৪। নারী ও পুরুষ একে অন্যের সমান। (৩/১৯৫)

৫। নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেছি।(১৭/৭০)

৬। তোমরাই হলে সর্বোত্তম, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমরা। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অসৎ কাজে বাধা দেবে। (কোরান ৩/১১১)

৭। তোমরা লড়াই করবে দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে। (কোরান ৪/৭৫)

৮। মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না। ( ৯/৬)

৯। যে কেউ একজন নিরপরাধকে হত্যা করে, সে যেন পুরো মানবতাকেই হত্যা করে। যে একজন নিরপরাধের প্রান বাচায়, সে পুরো মানবতারই প্রান বাচায়।(৫/৩২)

১০। দুর্ভোগ সেই ব্যাক্তির যে এতিমকে গলাধাক্কা দেয়, মিসকিনকে অন্ন দিতে অনুতসাহ করে, লোকদেখানো নামায পড়ে এবং কাউকে প্রয়োজনীয় বস্তু দ্বারা অন্যকে সাহায্যে অস্বীকার করে। ( ১০৭/২-৭)

১১। বস্তুতঃ আমি দু’টি পথ প্রদর্শন করেছি। অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি। আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কি? তা হচ্ছে দাসমুক্তি অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান। এতীম আত্বীয়কে অথবা ধুলি-ধুসরিত মিসকীনকে। অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্যের ও দয়ার। (৯০/১০-১৭)

১২। তোমরা এতীমকে সম্মান কর না, মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না, মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত কর এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস, এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ-বিচুর্ণ হবে এবং তোমার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন, এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে? (৮৯/১৭-২৩)

১৩। ন্যায় সাক্ষ্য দাও, যদি তা তোমার পিতা মাতা বা নিকটাত্নীয়ের বিপরিতে যায় তবুও, বিচারে রিপুর কামনার অনুসরন কোরো না।(৪/১৩৫)

১৪। ন্যায়ের ক্ষেত্রে অটল থাক যেন কারো প্রতি শত্রুতা তোমাকে ন্যায়ের পথ হতে চ্যুত না করে। (৫/৮)

১৫। ক্রীতদাস-দাসীকে মুক্ত করে দাও। (৫/৮৯)

১৬। আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না।
(১৭৭/২৬)

১৭। মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং দাঁড়িপালায় সঠিক ওজন করবে।(১৭/৩৫)

১৮। প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তা উত্তম। যদি গোপনে অভাবগ্রস্তদের দাও, তা আরো উত্তম।(২/১৭১)

১৯। এতিমের মালের কাছেও যেয়ো না, একমাত্র তার কল্যাণ আকাংখা ছাড়া। (১৭/৩৪)

২০। পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। (১৭/৩৭)

২১। দারিদ্রের কারনে নিজ সন্তানকে হত্যা কর না।(১৭/৩১)

২২। নারীরা তোমাদের পোশাক, তোমরা নারীদের পোশাক। (২:১৮৭)

২৩। পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর। বিশেষ করে মায়ের প্রতি যিনি কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছেন এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছেন। (৪৬/১৫)

২৪। পিতামাতা যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না। (১৭/২৩)

২৫। সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী (২/১৭৭)

সূত্রঃ- Md Rafat Rahman [ Click This Link ]
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:৩৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

যখন আরব জাতির সাহিত্যিক প্রতিভা তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল, যখন কবিতা ছিল তাদের হৃদয়ের স্পন্দন, আবেগের প্রকাশ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের দিন লেখা একটি বিষন্ন কবিতা

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪




বিষন্ন বিকেলে একা বসে থাকি রোজ,
ঈদের হুলস্থুল পাশ দিয়ে চলে যায়।
সুখের কাছে যেতে চাওয়া মন
কোনো রাস্তা খোলা নেই।

মুখে বলিনি প্রতিদিন কত কথা,
কিন্তু চোখে তাকালেতো কেউ বুঝতে,
এই ছোট্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×