আমাকে তোমার প্রয়োজন ছিলনা –
বুঝতে পেরেছিলাম , তুমি মুখ দিয়ে উচ্চারন কোরবার অনেক আগেই।
আমি ছিলাম তোমার শোবার ঘরের সুদৃশ্য পারফিউম ,
কখনো ছিলাম ড্রইং রুমের সুস্বজ্জিত আসবাব ।
আমাকে তোমার প্রয়োজন ছিলনা –
বুঝেছিলাম তুমি বোঝানোর অনেক আগেই।
আমি শুধুই ছিলাম স্কুল গোইং বাচ্চার মা ,
নাইট পার্টির সমঝদার কুক ;
মাঝে মধ্যে শরীর ঠান্ডা করার বিশুদ্ধ নোনাজল।
যে জল ইচ্ছে করলেই অন্য কারো হাতের নাগালে যেতে পারে না ,
এমন সুরক্ষিত জলাসয় ছাড়তেও চাইছিলেনা –তুমি ।
কিন্তু এও সত্য আমাকে তোমার প্রয়োজন ছিল না একদমই।
তোমার কঠোর শাসন থেকে বেরুবার পথ আমার জানা ছিলনা,
শুধু পরিচিত হতাম নিজের প্রয়োজনের সাথে ।
আমি বুঝি খুব স্বার্থপর ছিলাম ;
কিছুতেই হতে চাচ্ছিলাম না কারো ঘরের শোভা,
কারোবা হোম টিউটর কিংবা জমকালো উৎসবে প্লাস্টিক মার্কা হাসি ।
যে লেখা তোমার ঘোর শত্রু ছিল একদিন ;
সেই লেখাই আমার মনের ক্ষুধা মেটায় ,কখনোবা পেটের।
এখন আমার তোমাকে কোন প্রয়োজন পড়ে না ;
এখন পার্সের পকেট গলিয়ে ইচ্ছেমতো খরচ করি আমি ,
এখন ইচ্ছে হলেই এরোপ্লেনে উঠে বসি, সাগরপাড়ের ঢেউ গুনি।
এখন আর আমি শুধুই কারো মা নই,
কারো স্ত্রীর খেতাব বয়ে বেড়াতে হয় না।
এখন আমি কেবল আমাকেই দেখতে পাই চারদিকে।
তবে কেন এতো নস্তালজিক হয়ে ওঠা প্রতিদিন ?
কেন এমন করে পেছন পানে ফিরে চাওয়া ?
নাকি এই মানুষ মানুষ জীবনটাকেই বড্ড বেশি ভাড়ি ঠেকছে আমার ;
আবার কি কেবল নারী হয়ে ওঠার ইচ্ছেটা বুকের ভেতর আঁকিবুকি করছে ?
বারবার নিজের সাথে নিজেই যুদ্ধ করি-
কি নেই আমার ?
তোমার অনুরোধ, হাজার টাকার ডলার ,সন্তানের ভবিষ্যৎ কোন কিছুর তোয়াক্কা করিনি আমি ,
তবে কেন এই পুনর্বার নারী হবার ইচ্ছে আমার ?
জানি ,আজো কারো প্রয়োজন নেই আমাকে ,
আমারো কাউকেই নয়।
নয়টা পাঁচটার জীবনটাকেই বেছে নিয়েছি আমি ।
তারপরো কেন এই বিষন্ন হয়ে থাকা ?
কেন কবির মনে শেকল পড়াই আমি ?
কেন ভুলে যাই কবিতাকে খাঁচায় বাঁধতে নেই।
----------------------------------------------------------------------
এই একটা কবিতা লিখতেই ভাত পুইড়া শেষ,এখনোতো গল্প লেখাই বাকী।তখন কি খাইয়া বাঁচুম।।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


