অদ্রী বায়না ধরেছে ,তার একটা ছাতা লাগবে।মাকে দেখে প্রতিদিন মাথায় ছাতা ধরে অফিস যেতে।সুতরাং ছাতার নিচে দাঁড়ানোটা তার নৈতিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।আমি মেয়ের অধিকারের মর্যাদা রাখতেই মীনা বাজারে ঘুরছি,কিন্তু তার সাইজের কোন ছাতা পাচ্ছি না।যা পাচ্ছি বাচ্চাদের ইরেজার আর শার্পনার।মেয়ে আমার সেই জিনিস না যে আলু দিয়ে পটল বুঝালেই হবে।আমি বিশাল মলের চারদিকে চোখ বুলাচ্ছি আর ওমনি দৃষ্টি আটকে গেল প্রধান ফটকে।নাট্যযুদ্ধের ইসরাত আপা হাতে কি একটা কাগজ নিয়ে জনে জনে বিলিয়ে দিচ্ছেন।আমি অবাক হয়ে এগিয়ে যেতেই উনি একদম বুকে জড়িয়ে ধরলেন-তুমি উত্তরের না?
প্রথমটা একটু হক চকিয়ে গেলাম ,কিন্তু তার হাতের লিফলেট আমার দুশ্চিন্তা দূর করলো।মেয়র নির্বাচন,প্রার্থী নাদের চৌধুরী।বলাই বাহুল্য এই দুই ভাই –বোন আমার জেলার।সে যাই হোক,ইসরাত প্রচন্ড অধিকার নিয়েই দাবী করলো-ভোট তোমাকে নাদের ভাইকেই দিতে হবে কিন্তু,আর ভাইয়ার বাসায় গিয়ে চা খেয়ে আসবা।আমি হেসে বললাম-শুধু চা খেতে ভাইয়ার বাসায় যাবো?
ও খুব হাসলো-যাও,তোমার জন্যে বিরানী বরাদ্দ।আমি লিফলেট আর বিরানীর গন্ধ পেয়ে খুব উতফুল্ল।এরমধ্যেই ভাবীর সাথেও পরিচয় পর্বটা সেড়ে নিলাম।আহা জামাইদের জন্য সুন্দর সুন্দর মেয়ে গুলোর ঘেমে নেয়ে কি অবস্থা।ভাবী জানতে চাইলেন-তোমার ফেইস বুক বন্ধু কয় জন?আমি মনে করার চেষ্টা করলাম-হবে হয়তো প্রায় এক হাজার।
-তোমার কাছে এক হাজার ভোটি চাই।
আমি হাসলাম,ভাবীকে বললাম না যে তার স্বামী আমার এড রিকুয়েস্ট এখনো গ্রহনি করেন নি,আমার বন্ধুরা কিভাবে তার যোগ্যতা সম্পর্কে জানবেন।মেয়র হতে হলেতো কেবল নাটক বানাতে জানলেই চলবে না,গনমানুষের জন্যে কাজ করতে হবে।আর এই তথ্য অনলাইন এক্টিভিস্টরাই আগে জানবে।
বাড়িতে পা রেখেই আর এক চমক,আরো তিনজন প্রার্থীর লিফলেট আম্মা ধরিয়ে দিল।একটাতে আমার সার্টিফিকেট নাম ,ঠিকানা গোটা গোটা অক্ষরে লেখা আছে।এবার আনিস ভাইয়ের প্রচারনা খুব বেশি নজরে পড়ছে।প্রথম-আলো এখন আমার কাছে ঘড়ি আলো মনে হয়।এতো ঘড়ি আমি এক সাথে এক জীবনে দেখিনি,রিক্সার মধ্যে ঘড়ি বানিয়ে চলছে প্রচারনা,কি অবিনব শৈল্পিক ব্যাপার স্যাপার।তার সাথে আছে চমৎকার প্যারোডি সঙ্গীত।সব মিলিয়ে কেমন মেলা মেলা একটা ভাব।দুই ঘন্টা ট্রাফিক জ্যামে ভিজে আমি এ্মনিতেই অনেক ক্লান্ত,হাতের মুঠোয় সব কটা কাগজ নিলাম ।আর বার বার প্রশ্ন করলাম-কাকে ভোট দেব আমি ,না দিলেওতো আমার ভোট ঠিকি চুরী হবে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।বি এন পি তো এবার মাঠেই নামতে পারছেনা,নামলেই মাইড় আর দৌড়ানি।আমি অদ্ভূত এক গনতান্ত্রিক দেশের নিষ্ক্রিয় এক জনতা।
আচমকা ঝড় উঠলো আকাশ কেঁপে,আমি আমার ঝুল বারান্দায় দাঁড়ালাম।চেয়ে দেখি-ইলেক্ট্রিক লাইন ,ডিশের লাইন আর নেটের লাইন মিলে মিশে পরম বন্ধুর মতোন জড়িয়ে আছে।কারো বোঝার সাধ্য নেই –কোনটা কিসের জন্যে।অনিয়মের বেড়াজালের মধ্যে আটকে আছে পুরো শহর,কোন সে নগর পিতা এই জট ছাড়াতে পারবে কোন সে যাদুতে ??
চিকন চাঁদকে আড়াল করে বৃষ্টি নামে।তার সাথে বিদ্যুৎ আড়ি নিয়ে চলে যায় । বৃষ্টি এসে আছড়ে পড়ে আমার গালে,গ্রীবায়,সমস্ত শরীরে।আমি ভিজতে থাকি।অপরিকল্পিত নগরীর ময়লা পানির গন্ধ উপচে পড়ছে গ্যারেজের ট্যাঙ্কিতে ।আমি আমার মুষ্ঠিবদ্ধ হাত বারিয়ে দেই খোলা আকাশে।একটা একটা লিফলেট ভিজে যেতে থাকে,আমি তাদের ভিজতে দেই।আস্ত মানুষকেতো ধুঁয়ে দিতে পারবোনা,কিন্তু তাদের প্রতিচ্ছবি গুলো যদি এই শুদ্ধ জলে নিজেদের ভিজিয়ে নতুন করে মানুষ করতে পারে ,তবে তাকেই দেব আমার মহা মূল্যবান রায়, আমার ভোট।আমি সেই বিশুদ্ধ মানুষটার জন্য প্রতিদিন অপেক্ষা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


