somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানবের অধিকার এবং একটি ইন্টারন্যাশনাল এন জি ও //

১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইন্টারন্যাশন্যাল শব্দটার মধ্যেই কেমন একটা বৈদেশিক ডলারের গন্ধ পাওয়া যায়।আর তা যদি হয় সুদূর যুক্তরাজ্য থেকে আগত তাহলেতো কথাই নেই।বিপদগ্রস্থ মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে এমন কিছু এন জি ও রাজধানীর বুকে চমৎকার ব্যবসা সাজিয়ে বসেছে।এ যেন অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতোন।অর্থাৎ যাদেরকে নিয়েই এই ব্যবসা তাদের মধ্যেই কিছু কিছু মানুষকে অল্প বিস্তর পয়সার বিনিময়ে প্রতিনিধি করে দেওয়া যারা ভিক্টিমদের তথ্য সংরহ করে দেয়।বলছিলাম ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত একটি ইন্টারন্যাশনাল এন জি ওর কথা।
নারী সাংবাদিকদের উপর বৈরী আচরন এ দেশে নতুন কিছু না।কেবল নারী নয়,সরকারী দল এবং জঙ্গীদের হামলার স্বীকার হয়েছেন এমন অনেক পুরুষ সাংবাদিক এখনো বিভিন্ন রকম মামলার মাড়প্যাঁচে আটকে আছেন।এই এন জি ওটির কাজ হচ্ছে নারী সাংবাদিকদের অসহায়তার কথা লিপিবদ্ধ করা এবং তাদের জন্য বিনে পয়সায় মামলা চালিয়ে যাওয়া,কাজটি তারা করছে ২০০৮ সাল থেকেই।তাদের নিজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী নারী সাংবাদিকদের ২৯ টি মামলা চলমান।এর মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে ঠাকুরগাঁও জেলার নার্গিস চৌধুরী এবং আঞ্জুমানা আরা বন্যার কথা।২০১৪ সালের আগস্টে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব তাদেরকে অনৈতিক ভাবে বের করে দিলে তারা চাকরিচ্যূত হন এবং হাইকোর্টে মামলা করেন ।পরবর্তীতে এই এন জি ও তাদেরকে আর্থিক সহায়তার কথা বলে মামলার কাগজপত্র নিজেদের কাছে রেখে দেন এবং প্রতিশ্রুতি দেয় যে একটি প্রেস কাউন্সিল করে তারা মামলাটি বিনে পয়সায় পরিচালনা করবে।কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে গত পাঁচ মাসেও ফাইলটি কোর্টের মুখ দেখেনি,তাহলে তাদের নিযুক্ত উকিল কি করে মামলার নিষ্পত্তি ঘটাবে?
এদিকে নার্গিস এবং বন্যা একদিকে যেমন পুরুষ প্রধান নির্বাচনের যাঁতাকলে একবার নিষ্পেশিত হলো ,অন্য দিকে নারী প্রধান তথাকথিত বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কর্পোরেট এন জি ওর কাছে প্রতিনিয়ত হেনস্থা হচ্ছে।প্রতিদিন যাচ্ছে তাদের গাড়ি ভাড়া, কিন্তু ফাইল নড়ছে না এক চুলো।এমন আরো অনেক মামলা ঝুলে আছে কোর্টে না গিয়েই।
এদের আরো একটি চমৎকার প্রোজেক্ট আছে,নাম- ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট প্রোজেক্ট।এর আসল কার্যকারিতা কি তা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা দেওয়া সত্যি কঠিন।যেখানে একের পর এক ব্লগারদেরকে নাস্তিক খেতাব দিয়ে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হচ্ছে সেখানে এই এন জি ও কতিপয় পরিচিত ব্লগারদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেড ব্লগারদের নাম,ঠিকানা ,ফোন নম্বর এবং ই-মেইল সংগ্রহ করে তাদের ফোরামে ডাটাভুক্ত করে।অনেক ব্লগারদের ধারনাও নেই যে নিজের অজান্তে তাদের তথ্য তৃতীয় ব্যক্তির হাতে চলে যাচ্ছে।এক্ষেত্রে কিছু ব্লগ মডারেটররা আসল ভূমিকা পালন করছে,কারন তাদের কাছেই সমস্ত তথ্য থাকে।এ পর্যন্ত বেশ অনেকজন ব্লগার বিভিন্ন রকম হুমকীর স্বীকার হয়েছেন,তারা ফোরামের মাধ্যমে এবং স্বশরীরে এই এন জি ওতে হাজির হয়ে তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন।কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে,এন জি ও কেবল তাদের তথ্যটি সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট আকারে বানিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে।কোথায় পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্ক নির্দিষ্ট কোন তথ্য কারো জানা নেই,অপরদিকে ব্লগারদের উতকন্ঠার মাত্রা আরো বেড়ে যায়।এমন কয়েকজন ব্লগার এখন দেশের বাইরে আছেন যারা ইতিমধ্যেই তাদের কাছে সাহায্য চেয়ে নিরাশ হয়েছেন।এখন প্রশ্নটা হচ্ছে এই ডাটা সাজিয়ে লাভ কি ?হুম লাভ আছে ,লিস্ট যতো লম্বা ডলার ততো লম্বা।আর এই ডলার দেশীয় টাকায় কনভার্ট করলে একটা বিরাট অংক দাঁড়ায় যা দিয়ে দেশের অডিটকে খুশী রাখা সম্ভব।
সাংবাদিক বা ব্লগার যেই নির্যাতিত হোক না কেন আমরা এক তরফা রাষ্ট্রতন্ত্রকে দায়ী করে নিজেদের সচেতন নাগরিক হিসেবে জাহির করি।কিন্তু আমাদের পিঠের পিছে দাঁড়িয়ে মানবতার স্লোগান দিয়ে যারা এইসব সাংবাদিকদের ব্যবহার করছে তাকে রুখবে কে?

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:৪৬
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×