somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" তিনি শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আরাফাত নোমান "

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শিক্ষক মানেই সকল ছাত্র-ছাত্রর কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। ছাত্রজীবনে যার সান্নিধ্য সবচেয়ে বেশি সময় কাটে, তিনি হলেন শিক্ষক। বহু শিক্ষকের কাছে পড়ালেখার সাহায্যের জন্য আমাকে যেতে হয়েছে। তাদের সুন্দর দীক্ষায়আমায় জ্ঞান চক্ষুর আঁধার কেটে গেছে। তাদের মধ্যে থেকে কে কে যে প্রিয় শিক্ষক, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা খুবই কষ্টকর।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে গত দেড় বছরে অনেক 'শিক্ষক-শিক্ষিকা' পেয়েছি। উনাদের মধ্যে কেউ ছাত্রাবস্থায় অসম্ভব ভালো রেজাল্ট করেছিলেন বলে আজকে শিক্ষক হতে পেরেছেন , কেউ পড়ান ভালো, কেউ ফাল পাড়েন, কেউ ফাউ ফাউ বকাবকি করেন, কেউ সাধ্যের বাইরে গিয়ে চেষ্টা করেন ছাত্রদের নতুন কিছু দিতে, যুগোপযোগী করতে, আর কেউ কেউ আছেনই যারা শিক্ষকতাকে একটা ক্ষমতা মনে করেন এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে নাজেহাল করে, খাটিয়ে বিকৃত ভিলেনি সুখ পান ।

শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে কেউ আমাকে ভালবেসেছেন আমার লেখা-লিখির জন্য, কেউ হয়ত ছাড় দিয়েছেন আমাকে ভালো ভেবে, কেউ ঘৃণা করেছেন আমার বিজ্ঞানমনষ্কতা আর যুগোপযোগী চিন্তার জন্য, আবার কেউ জঘন্যভাবে 'একাডেমিক্যালি' দেখে নিয়েছেন আমার ফাঁকিবাজির জন্য।

তারপরও অশ্রদ্ধা তো পারতপক্ষে কাউকেই করি না, কিন্তু মন থেকে 'শ্রদ্ধা করি' এরকম শিক্ষক খুব অল্প সংখ্যক আছেন ।

কিন্তু ভালো ছাত্র ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে , ভালো পড়ান, ভালো জানেন, না জেনে কথা বলেন না, যুগের উপযোগী চিন্তাধারা ধারণ করেন , অমায়িক ব্যাবহার, বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভালো লেখালিখি করেন, স্পষ্টবাদী, শিল্প-সাহিত্যানুরাগী, কুসংস্কার এ বিশ্বাসী না, স্মার্ট, চরিত্রবান, ছাত্রবান্ধব এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিভাবক এর মতন এরকম কোনো শিক্ষক পেয়েছি মাত্র একজন- অত্যন্ত প্রিয়, অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় " নোমান স্যার " ।

" নোমান স্যারের " ক্লাস ছাড়া কোনো স্যারের ক্লাস আমি অত মন দিয়ে করি নি, উনার ক্লাস এর মতন অত আনন্দের ক্লাস আমি পাই নি। এই আনন্দ জানার আনন্দ।
একজন সুশ্রী, স্মার্ট, জ্ঞানী মানুষ সর্বোচ্চ মনযোগ দিয়ে লেকচার দিচ্ছেন- এমন পরিবেশ আর কোথায় পাব?

আমার বিজ্ঞানমনষ্কতার জন্য, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে চিন্তাভাবনার জন্য, আমার লেখালেখির জন্য কেউ আমাকে এত স্নেহ করেননি "নোমান স্যার" ছাড়া। মনেপড়ে
যায় সেই দিনটার কথা, যেদিন আমার ব্লগের একটা আর্টিকেল স্যার ক্লাসের সবাইকে পড়ে শুনিয়েছিলেন আর অনেক প্রশংসা করেছিলেন । সেদিন যে কত আনন্দ আর ইন্সপায়ার হয়েছিলাম ভালো লেখালিখির জন্য, স্যার আপনাকে বুঝিয়ে বলতে পারবনা ।
আজকে শেষবারের মতো স্যার যখন আমাকে ডেকে বলছিলেন, লেখালিখিতে অনেক ভালো করছো, আমি পড়ি নিয়মিত , এটা ছেড়ে দিও না, চালিয়ে যাও, আরও ভালো জাইগায় দেখতে চাই তোমাকে । তাহলে তোমরা ভাল থেকো, আবার দেখা হবে আবার । আমার যে কেমন লাগছিল লিখে বোঝানো মুশকিল। মনে হচ্ছে- মাথার উপর থেকে ছায়া সরে যাচ্ছে, আমরা অভিভাবক শুন্য হতে যাচ্ছি। মনে হচ্ছিলো পা ছুয়ে প্রনাম করি এই মানুষটাকে । এই ভদ্রলোক কিন্তু মাথা নোয়ানো প্রণাম বা সালাম আশা না করে অমায়িক হেসে হাত বাড়িয়ে দেন।

যার জন্ম হয় দুইবার তাকে " দ্বিজ " বলা হয় ।
ছোট বেলায় বাবা আমাকে শিখিয়েছিলেন শিক্ষিত মানুষ কে বলা হয় " দ্বিজ " । তার # প্রথমবার জন্ম হয় পিতার মাধ্যমে মাতৃ গর্ভে, আর # দ্বিতীয় বার শিক্ষকের মাধ্যমে জ্ঞানের আলো হৃদয়ে জ্বেলে, নতুন জন্ম গ্রহনের মাধ্যমে । পিতা-মাতার পর আজকে আমি অবশ্যই স্যারকে সেই পবিত্র জায়গা দিব । নিরসন্দেহে তিনি পূজনীয় বেক্তি আমাদের কাছে ।

পরিশেষে বলব......

হে নিরলস কর্মী,
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের সার্বিক দায়িত্ব পালনে আপনি ছিলেন নিরলস কর্মী। তাইতো আপনার প্রতিটি দিন ছিল কর্মমুখর। নিজ দায়িত্বের প্রতি আপনি ছিলেন কর্তব্যনিষ্ঠ। আপনার কর্তব্যনিষ্ঠার সুবাদে আমরা সত্যিকার জ্ঞানের যে সন্ধান পেয়েছি, তা আলোকবর্তিকা হয়ে ভবিষ্যতে আমাদের পথ দেখাবে। আপনার স্নেহ ও সুশাসন আমাদের স্মৃতিপটে চির ভাস্বর হয়ে বিরাজ করবে।

নবীনদের অন্তরে শিক্ষার আলো জ্বালাবার মহান দায়িত্ব নিয়ে একদিন যে পথে আপনার যাত্রা শুরু হয়েছিল স্প্রিং সেমিস্টারে আমাদের সাথে ; আজকে সেমিস্টারের শেষ ক্লাসের মাধ্যমে আপনি সে পথের প্রান্তে উপনীত হয়েছেন। কিন্তু এর মাঝে জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন অগণিত অন্তরে জ্ঞানের স্নিগ্ধ আলো। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে সুনিপুণ হাতে গড়ে তুলেছেন অগণিত জ্ঞানের আধার। আপনার প্রতি আমরা তাই পরম শ্রদ্ধায় অবনত।

স্যার i strongly believe that ,
A good teacher can inspire hope, ignite the imagination, and instill a love of learning. && u deserve it.

এই অধমের মন পোড়বে,আপনাকে বারে বারে মনে পড়বে, We will really miss u স্যার।
ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সম্মানের সাথে সাথে থাকবেন। অনেক ভালো ভবিষ্যৎ আর শুভ কামনা করি আপনার ।

" তিনি শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আরাফাত নোমান "
বর্তমানে " নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে " ইংলিশ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দ্বায়িক্তরত ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৩:৩৪
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×