somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীলাকাশের শূণ্যতা (১৩)

১২ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাসান কে মেইল টা সেন্ড করে মোহনার মন টা খারপ হয়ে গেল। কিছু ভাল লাগছে না, কাজে মন বসছে না। সব কিছু এলমেল লাগছে। কেন এমন হল? না, মোহনাকে শক্ত হতে হবে। তার নিজের জন্য না, হাসানের জন্য। হাসান কে বুঝাতে হবে, ও যা করছে তার সবই পাগলামি। ল্যাবে কাজ করছে মোহনা, আর সব এলোমেলো চিন্তা মাথা জুড়ে। এর মাঝে সুপারভাইজার ডাকল, দেখা করতে হবে। মোহনা মোবাইল টা ল্যাবে রেখেই দেখা করতে গেল। ফিরে এসে দেখে হাসানের মিস কল, আর এস,এম,এস। " তুমি কি অনেক বিজি? ফোন ধরলে না কেন?"
মোহনা, রিপ্লাই করল, " প্রফ এর সাথে দেখা করতে গেছিলাম"।
হাসান আবার ফোন করেছে।
মোহনা: হুমমম, বলো।
হাসান: কেমন আছ?
মোহনা: ভাল, তুমি?
মোহনার মাঝে সেই উচ্ছলতা নেই, কেমন মনমরা হয়ে কথা বলছে।
হাসান: মোহনা, তোমাকে এমন মানায় না। তোমাকে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, চন্চল, প্রানবন্ত, তুমি এভাবে থেকনা। ভাল লাগে না
মোহনা: আমি তো ঠিক ই আছি
হাসান: হুমম, দেখতে পাচ্ছি তো। তুমি কি সব উল্টা পাল্টা মেইল করেছ? এর মানে কি? আমি তোমাকে ভুলতে পারবোনা।
মোহনা: তোমাকে পারতে ই হবে। শোন, তুমি বুঝার চেষ্টা করো। এভাবে জীবন চলে না।
হাসান: চলছে তো, আর যদি না চলে, তাহলে থেমে যাবে। তার পরও আমি চেন্জ হতে পারব না। আমি যা আছি ভাল আছি, অনেক ভাল আছি।
মোহনা: উহ: আমি পাগল হয়ে যাব। শোন হাসান, তুমি বিয়ে করো, প্লিজ। দেখো, সব ঠিক হয়ে যাবে। তোমার কাছে আমার একটাই চাওয়া, তুমি বিয়ে করো।
হাসান: হাহাহাহাহাহাহা।
মোহনা: হাসছ কেন? বিয়ে তো করতে ই চাই, তোমার ফটোকপি এনে দাও, চোখ বন্ধ করে বিয়ে করে ফেলব।
মোহনা: নাহ, তুমি বুঝবে না, তোমাকে বোঝানো যাবে না।
হাসান: তুমি এভাবে মন খারাপ করে থেকনা মোহনা। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, প্লিজ।

মোহনা ফোন রেখে দিল। মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। কিভাবে বুঝাবে হাসানকে সে? হাসানকে বিয়ে দিতে ই হবে, যেভাবেই হোক। একবার বিয়ে হয়ে গেলে, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছুখন পর আবার হাসানের এস,এম,এস। " তুমি আমাকে আমার মত থাকতে দাও, আমি ভাল থাকব, এমন কিছু করতে বলোনা, যেটা আমি পারবোনা। প্রমিস, আমি তোমার কাছে কিচ্ছু চাইব না। just dont tell me to forget you. খুব বেশিদিন জালাব না। আমি বুঝি তোমাকে। আমি খুব নগন্য একটা মানুষ, n I know my limit. n I promise, I wont cross that. just dont think about me, just act for some days, ok? তারপরও যদি তুমি বলো, আমি তোমাকে আর বিরক্ত করবো না। কিন্তু আমি আমার মনের বাইরে বের না। কারন আমি জানি, তাতে আমি গড়বনা, বরং ভেংগে যাব।
আরে ধুর, চরি, তোর ভুত তা আমাকেও ধরেছিল। বাদ দে, তুই তোর কাজ কর, যেমন করছিলি। আর দুষ্টুমি করিশ না, ঠিকমত খাবি আর পড়বি। বুঝছিশ, পিচ্ছি?"

এই এস,এম,এস পেয়ে মোহনা আরো নিস্তব্ধ হয়ে গেল? সে কি করবে? ভাবনার কনো কুল কিনারা পাচ্ছেনা। উহ, মোহনার সব এলমেল হয়ে যাচ্ছে। এক ঘন্টা মোহনা ল্যাব এ বসে আছে, কোন কাজ করতে পারে নি এই এক ঘন্টায়। মোহনা ভাবছে, এভাবে হাসানকে বুঝানো যাবে না। আর এভাবে মন খারাপ করে থাকলে হাসানের আরো বেশি প্রব্লেম হবে। মোহনার যতই কষ্ট হোক, হাসানের জন্য সে সব করবে, হাসানকে সে নিজের থেকে দূরে সরাবেই, যেভাবেই হোক। মোহনা হাসানকে এস, এম,এস দিল,
" আমি আর মন খারাপ করে থাকবনা"
হাসান রিপ্লাই করল, " মোহনা মোহনার মতই থাকবে, চন্চল, হাসিখুসি, খুকি, তাতেই হাসান হ্যাপি থাকবে, অনেক। ভুত যেন, আর না ধরে, আর হ্যা, মোহনা নিজের খেয়াল রাখবে, নইলে, নো হ্যাপি"।
মোহন লিখল, " আর হাসান? মোহনা যা বলবে, হাসানকে তাই করতে হবে।"
হাসানের রিপ্লাই, " হাসানতো হাসানের মতই থাকবে, সব সময়"।



২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×